শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৯

অস্ট্রেলীয় 'সুপার হিরো', বিরল রক্তের অধিকারি হয়ে ২৮ লক্ষ শিশুকে বাঁচিয়েছেন


'রক্তদান জীবনদান'-রক্তদানের এই ক্যাচলাইনকে কটা মানুষ বোঝে। কিন্তু এই ক্যাচলাইনকে নিজের জীবনের মূলমন্ত্র হিসাবে দেখে ছিলেন অস্ট্রেলীয় নাগরিক জেমস হ্যারিসন। তাই দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে বিনামূল্যে রক্ত দিয়ে তিনি প্রায় অস্ট্রেলীয় ২৮ লক্ষ শিশুর মূল্যবান জীবন বাঁচিয়েছেন।

তাঁর এই নিস্বার্থ অবদানের জন্য দেশটির সর্বচ্চ সম্মান 'মেডেল অব দ্য অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া' প্রদান করা হয়েছে।সম্প্রতি তিনি ২০১৮ সালে রক্তদান করা থেকে অবসর নেন।


মূলত, চার মাস অন্তর অর্থাৎ ১২০ দিন পরপর একজন সুস্থ ব্যক্তি রক্তদান করতে পারেন। কারণ প্রতি চার মাস অন্তর মানবদেহে নতুন রক্ত তৈরি হয়।কিন্তু জেমসের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন।কারণ তাঁর রক্তে অদ্ভুত ধরণের রোগপ্রতিরোধী অ্যান্টিবডি হদিশ পেয়ে ছিলেন চিকিৎসকরা। সেটি দিয়ে 'অ্যান্টি ডি' নামের একটি জীবন রক্ষকারী ইনজেকশন তৈরি করে অস্ট্রেলীয় স্বাস্থ্য দফতর।এই ওষুধের মাধ্যমে আরএইচ নেগেটিভ রক্তের গর্ভবতী মায়েদের সন্তানদের মৃত্যুঝুঁকি কমায়। 


চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আরএইচ নেগেটিভ রক্তের গর্ভবতী মায়েদের গর্ভস্থ সন্তান যদি আরএইচ পজেটিভ রক্তের হয়, তাহলে ওই অবস্থায় সন্তানের মৃত্যুঝুঁকি বহু গুণ বেড়ে যায়। কারণ মায়ের শরীরের আরএইচ নেগেটিভ রক্ত থেকে এমন এক ধরণের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা শিশুর শরীরের রক্তের কোষকে ধ্বংস করতে থাকে। ফলে শিশুর মস্তিষ্ক গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।মাতৃগর্ভে থাকা শিশুর জন্য এমন পরিস্থিতি উদ্ভব হলে জেমসের রক্ত দিয়ে তৈরি অ্যান্টি ডি নামে ইনজেকশন দিয়ে ঝুঁকি এড়ান চিকিৎসকরা।


তবে এছাড়াও রক্তদানের জন্য আরও একটি কারণ রয়েছে জেমসের। মাত্র ১৪ বছর বয়সে দুর্ঘটনাবস্থ জেমসও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ছিলেন। সেই সময় এক ব্যক্তি রক্তদান করায় জেমস প্রাণে বেঁচে যান।

এরপর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেমস নিয়মিত ভাবে রক্তদান করতে শুরু করেন। কয়েক বছর পরই তার রক্তের এই বিরলতা সম্পর্কে জানতে পেরে ছিলেন তিনি। তাই চিকিৎসকদের কাছ থেকে পরামর্শ করে তিনি ওষুধ তৈরির জন্য রক্ত দিতে শুরু করেন জেমস। তাঁর এমন নিস্বার্থ মহানুভবতায় অধিকসংখ্যক শিশু জীবনের আলো দেখতে পায়। এর জন্য জেমসকে প্রতি সপ্তাবে রক্ত দিতে হত।


বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক ফলকেনমিরে বলেন, জেমসের রক্ত অসাধারণ প্রকৃতির।গত বছর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াতে তৈরি হওয়া অ্যান্টি ডি ইনঞ্জেকশনের প্রতিটা ব্যাচই জেমসের রক্ত থেকে তৈরি। অস্ট্রেলিয়াতে প্রতি ১০০ জনের ১৭ জন মহিলার ক্ষেত্রেই এই ধরণে ঝুঁকি থাকে।এই সমস্ত ক্ষেত্রেই একমাত্র ভরসা অ্যান্টি ডি ইনঞ্জেকশন।তবে জেমসের রক্ত এত বিরল কেন সেবিষয় এখনও কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেনি চিকিৎসকমহল। তাদের ধারণা ১৪ বছর বয়সে যখন অন্য কোনও ব্যক্তির রক্ত দিয়ে জেমসের প্রাণ বাঁচানো হয়েছিল, তখনই হয়ত তার রক্তে এমন বিরলতম পরিবর্তন এসছিল। তাই জেমস-কে বাস্তবের 'সুপার হিরো'বলা যায়।





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only