সোমবার, ১২ আগস্ট, ২০১৯

পর্যটক ইবনে বতুতার হজপালনের ইতিহাস

চোখ ভরে আমরা জমকালো কাবাকে দেখলাম…. এর চারপাশে আমরা সাতবার চক্রাকারে তাওয়াফ করলাম এবং পবিত্র পাথরে চুমু খেলাম। আমরা মাকামে ইবরাহীমে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলাম এবং কাবার দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যকার পর্দা ধরে থাকলাম, যেখানে দোয়ার প্রত্যুত্তর দেওয়া হয়। জমজমের কূপ থেকে আমরা পানি পান করলাম…. এরপর সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সায়ী করার পর, বাবে ইবরাহীমের নিকট একটি বাড়ীতে আমাদের আসবাবপত্রগুলো রাখলাম।”  

হজ্জ্বের এই বিবরণটি প্রায় সাতশত বছর পূর্বের। ইবনে বতুতা এই বিবরণটি লিখেছেন, যিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্যটক।
বর্তমান মরক্কোর তানজিয়ারে জন্মগ্রহণকারী এই মুসলিম পর্যটক মাত্র বিশ বছর বয়সে ইসলামোর ৫ম স্তম্ভ পালন ও অধ্যয়নের জন্য মক্কায় আসেন। 
“এই মহিমান্বিত পবিত্রস্থানমূহে ভ্রমণের জন্য বিপুল অনুপ্রেরণায় প্রভাব ও দীর্ঘ দিনের আকাঙ্ক্ষায়, আমি সক্ষম  হয়েছি আমার সকল বন্ধুর কাছ থেকে বিদায় এবং আমার ঘর ছেড়ে যাওয়ার কষ্টকে দূর করতে। যেহেতু আমার পিতা-মাতা তখনো জীবিত ছিলেন, তাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়া আমার জন্য খুবই কষ্টকর ছিল এবং তারা ও আমি দুঃখে ভারাক্রান্ত ছিলাম….”

মরক্কো থেকে মক্কায় পৌছতে তার দেড় বছরের মতো সময় অতিবাহিত হয়। 
এর পরবর্তী ২৯ বছর তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। ৭৫,০০০ মাইল অতিক্রমের মধ্য দিয়ে তিনি বর্তমান আধুনিক ৪৪টি রাষ্ট্র ভ্রমণ করেন।
পশ্চিমের ফেজ শহর থেকে পূর্বের বেইজিং পর্যন্ত তিনি ভ্রমণ করেন। যদিও একই পথে তিনি কখনোই দুই বার যেতেন না, তার পুরো পর্যটন জীবনে তিনি চারবার হজ্জ্ব করেন। 
তার ভ্রমণ কাহিনী নিয়ে তিনি  ভ্রমণকাহিনী ‘রিহালা’ রচনা করেন, যেখানে কাবায় হজ্জ্ব করা থেকে শুরু করে তার সমগ্র পর্যটন জীবন সম্পর্কে তিনি বর্ণনা করেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only