শনিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৯

প্রধান্য দেওয়া হচ্ছে বিভাজন, সাম্প্রদায়িকতাকে, তোপ রবিশ কুমারের

বর্তমান সময়ে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতায় টিকে থাকা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এজন্য বড়বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলির উপর সংবাদ মাধ্যমের  আর্থিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়াই দায়ী। বললেন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার জয়ী সাংবাদিক রবিশ কুমার। শুধু তাই নয়– বেশিরভাগ সংবাদ মাধ্যম সাম্প্রদাকিতা ও বিভাজনকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলেও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন এনডিটিভি’র এই নামী সাংবাদিক। রবিশের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট– বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা তার স্ব-ধর্ম থেকে বিচ্যুত। যা অত্যন্ত আশংকার। 
বড়বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলির উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়াই আজকের যুগে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন। জানালেন রামন ম্যাগসাইসাই’ পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক রবিশ কুমার। চলত বছরে ম্যাগসাইসাই বিজয়ীদের নাম ঘোষণার পরই শুক্রবার রাতে ‘এনডিটিভি ইন্ডিয়া’র কার্যনির্বাহী সম্পাদক এক লাইভ চ্যাট শো’তে  অংশ নেন। সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে রবিশ বলেন, আজ দেশের বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যমই সাম্প্রদায়িকতা এবং বিভাজনকে প্রাধান্য দিচ্ছে। কর্পোরেট সংস্থাগুলির থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কারণেই সংবাদমাধ্যমগুলি নিরপেক্ষ থাকতে পারছে না। রবিশ অবশ্য জানিয়েছেন, ‘অর্থ সংস্থান করে সংবাদমাধ্যমের জন্য নিরপেক্ষ ভিত তৈরির চেষ্টা চলছে। তবুও পেশাদার থাকার দায়িত্ব মূলস্রোতের সংবাদমাধ্যমকেই নিতে হবে। যতদিন পর্যন্ত না প্রচারের লোভ, সাম্প্রদায়িকতা ঝেড়ে ফেলে মূল ধারার সংবাদমাধ্যম নিরপেক্ষ এবং পেশাদার হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত সাংবাদিকতা নিরপেক্ষ হবে না। সংবাদমাধ্যমে এখন অন্যের নিয়ন্ত্রণ চলে। সেজন্যই এখন শুধুমাত্র হাতেগোনা কয়েকজন সাংবাদিক এবং মুষ্টিমেয় কয়েকটি সংগঠনই এই লড়াইটা লড়ছে যাতে সংবাদ মাধ্যমের ভাবমূর্তি নিরপেক্ষ রাখা যায়। কিন্তু– লড়াইটা অল্পের মধেও সীমাবদ্ধ থাকলে কোনও লাভ হবে না। বড় প্রতিষ্ঠানগুলিকেও এই লড়াইয়ে শামিল হতে হবে। না হলে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার অস্তিত্ব রক্ষা করা ক্রমশঃ কঠিন হয়ে পড়বে।’

ভেদাভেদ এবং ঘৃণার রাজনীতি থামাতে কীভাবে সংবাদমাধ্যম সমাজের সহায়ক হতে পারে, সেই প্রশ্নের জবাবে রবিশের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমই ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতার প্রচার করছে। তাই তারা এটা কখনও থামতে দেবে না। তিনি সতর্ক করেছেন, জাতীয়তাবাদের মোড়কে এই সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের ফলে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়েরই ক্ষতি হবে। কারণ– এই ধরনের সাম্প্রদায়িক অগ্রগতি দেশের সামাজিক উন্নয়নের পরিপন্থী। রবিশ বলেন, ‘নিজের মধ্যে প্রচুর ঘৃণা আর একপেশে ভাব নিয়ে কেউ সৃজনশীল হতে পারে না। আর যখন আপনি সৃজনশীল হতে পারবেন না তখন আপনি নতুন কোনও শিল্প– কর্মসংস্থান বা শিল্পের সুযোগ তৈরি করতেও পারবেন না।’ তাঁর অভিযোগ, ‘বিগত কয়েক বছরে সাংবাদিকদের মনে ভয় আর আতঙ্ক পুরোপুরি ঢুকে গিয়েছে। এখন আর কেউ কোনও মন্ত্রকের বিরুদ্ধে খবর করতে পারে না। কোনও সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে কোনও মন্ত্রকের বিরুদ্ধে খবর করলেও সম্পাদক তা সম্প্রচার করার ঝুঁকি নেন না। কারণ তিনিও ভীত।’ যেসব নেটিজেনরা তাঁর সাংবাদিকতার ধারার সমালোচনা করেন তাঁদের উদ্দেশ্যে রবিশের পরামর্শ, ‘আপনারা অনেক বেশি সফল হবেন যদি তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি ছেড়ে রাজনীতিতে নিজেদের কেরিয়ার গড়ার চেষ্টা করেন।’ 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only