বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৯

হালকা কাজের জন্য সরকারের কাছে আবেদন সাহিত্যিক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর

বাংলা আকাদেমি পুরস্কার, দ্য হিন্দু পুরস্কার সহ বেশ কিছু পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক মনোরঞ্জন ব্যাপারী শারীরিক অবস্থার কারণে ভারী কাজ করতে পারছেন না। ফলত তাঁর লেখালেখিতে ব্যাঘাত ঘটছে।তিনি একটি শিশু আশ্রমে রাঁধুনীর কাজ করেন।বয়সের কারণে তিনি কষ্টের কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়ে হালকা কাজের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে অাবেদন করেছেন।মানবিক অাবেদনে সাড়া দিয়ে সরকার এগিয়ে আসুক এমনটাই চাইছে রাজ্যের সাহিত্য মহল ও গুনমুগ্ধরা। নীচে মনোরঞ্জন ব্যাপারীর অাবেদনটি দেয়া হল–––

আমার প্রিয় পাঠকপাঠিকা, শুভানুধ্যায়ী, বন্ধু বান্ধব, অনেক বছর ধরে আপনারা আমাকে আপনাদের উদার অকৃপণ ভালোবাসায় সিক্ত আপ্লুত প্রণত করে রেখেছিলেন- যে কারণে আমি ‘আমি’ হয়ে উঠতে পেরেছিলাম । আজ শেষ প্রণাম জানাই আপনাদের পায়ে । ভালো থাকবেন সবাই ।
আপনারা আমাকে ভালোবাসতেন- কারণ হাজার প্রতিকূলতার মধ্যেও লিখতাম । আপনাদের কথা- আপনাদের জন্য লিখতাম । কিন্ত যদি আমি আর না লিখি, যদি আমি আর লিখতে না পারি- ধীরে ধীরে আপনাদের মন থেকে চিরতরে মুছে যাবো । আর আপনাদের ভালোবাসার মুগ্ধ উদারতায় আপ্লূত হতে পারবো না । সে যে কী ভয়ংকর দিন সে একমাত্র সেই জানে যাকে ওই অবস্থার মধ্যে গিয়ে পড়তে হয়েছে । আমি সেই কঠিন অবস্থার মধ্যে যেতে চাই না । তার আগে আমি আমার লেখক পরিচিতিকে মুছে ফেলতে চাই । কাকের ডানায় ময়ূর পালক সম্মান বাড়ায় না, ব্যঙ্গ বিদ্রুপ হয়ে দাঁড়ায় । সাহিত্য কর্ম বাবু ভদ্র শিক্ষিত মানুষের কর্ম। আমার মতো ‘ছোটলোক’শ্রেণির প্রতিনিধির ওখানে মানায় না । যার ফলে আমার উপস্থিতি অনেকের মনোকষ্টের কারণ ।
গত চল্লিশ বছরে এই প্রথম–এবার শারদ সংখ্যায় আমার কোনো লেখা থাকবে না । আর কোনদিন কোনো পত্র পত্রিকায় হয়ত আমার কোনো লেখা আর প্রকাশ পাবে না । আপনাদের মন থেকে মুছে যেতে চলেছি আমি । তাই আপনাদের ভালোবাসার ক্ষীণ অবশেষ থাকার সময়ে আপনাদের কাছে আমার শেষ আবেদন রাখছি– একবার অন্তত শারীরিক ভাবে আমার পাশে এসে দাঁড়ান । যে বাংলা আকাদেমি আমাকে একদা পুরস্কার দিয়েছিল আকাদেমি চত্বর থেকে-সেই পুরস্কার হাতে নিয়ে পায়ে পায়ে হেঁটে পৌঁছাতে চাই হরিশ মুখার্জি রোডে- ‘দিদির’ বাড়িতে । ওনার হাতে ফিরিয়ে দিতে চাই ওনার সরকারের দেওয়া সম্মান পুরস্কার । আর যখন লিখতেই পারছি না ওই পুরস্কার দিয়ে আমি কী করবো ? ওটা চোখের সামনে থাকলে অনবরত আমাকে বিদ্ধ করবে বিদ্রূপে । ওই পুরস্কার ফিরিয়ে দিতে পারলে ‘কৃতজ্ঞতা’ নামক ব্যাধি থেকেও আমি মুক্ত হয়ে যেতে পারবো । দেশ সমাজ মানুষ কারো কাছে আর আমার কোনো দায় থাকবে না । লেখা আর নয়, এরপর আবার কোনো নব রূপে নতুন পথের সন্ধান !
আমার মোবাইল নাম্বার- ৯২৩১৫০৩৮৭৩




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only