শুক্রবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৯

সাহিত্যিক রিজিয়া রহমান না-ফেরার দেশে

বাংলাদেশের একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমান আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি ক্যানসার ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন।
রিজিয়া রহমান বাংলাদেশের অন্যতম কথাসাহিত্যিক। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা ঔপন্যাসিক তিনি। তার জন্ম ১৯৩৯ সালে কলকাতার ভবানীপুরে। ৪৭-এর দেশভাগের পর পরিবারের সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে চলে আসেন।বিয়ের পর স্বামীর সাথে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে চলে যান এবং সেখানে কোয়েটা গভর্মেন্ট কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে দুই বছর লেখাপড়া করেন। কিন্তু মাইগ্রেশন সার্টিফিকেট সম্পর্কিত জটিলতার কারণে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি না দিলে দেশে এসে ইডেন মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৫ সালে এই কলেজ থেকেই স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।

রিজিয়া রহমান সাহিত্য পত্রিকা ‘ত্রিভুজ’-এর সম্পাদক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এছাড়াও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন জাতীয় জাদুঘরের পরিচালনা বোর্ডের ট্রাস্টি ও জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের কার্য পরিচালক হিসেবে। তিন বছর বাংলা একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।নিজের লেখনির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য জগতে প্রায় ছয় দশক ধরে অবদান রেখেছেন রিজিয়া রহমান। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: অগ্নিসাক্ষরা, ঘর ভাঙা ঘর, রক্তের অক্ষর, বং থেকে বাংলা, অলিখিত উপাখ্যান, সূর্য-সবুজ-রক্ত, অরণ্যের কাছে, উত্তর পুরুষ, শিলায় শিলায় আগুন, হে মানব মানবী, নদী নিরবধি, পবিত্র নারীরা এবং সীতা পাহাড়ে আগুন। অভিবাসী আমি ও নদী নিরবধি নামে দু’টি আত্মজীবনীও লিখেছেন এই প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক।
লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে রিজিয়া রহমান ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশের বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য এবছরই তাকে দেশটির সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only