মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৯

বিরোধীদের কালাজাদুতে মৃত্যু বিজেপি নেতাদের, উবাচ সাধ্বী প্রজ্ঞার

পুবের কলম, ভোপাল:  প্রবাদে আছে-- ‘জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে তিন বিধাতা নিয়ে’। কিন্তু বিজেপি নেত্রীর নাম যখন সাধ্বী প্রজ্ঞা, তিনি কবে আর এইসব প্রবাদ প্রবচন, বিধির বিধানকে তোয়াক্কা করেছেন। বরাবরই বিতর্কিত মন্তব্য করার জন্য ‘বিখ্যাত’ ভোপালের এই বিজেপি সাংসদ। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না।
প্রমোদ মহাজন থেকে শুরু করে সুষমা স্বরাজ, বাবুলাল গৌড়, তার ক’দিন পর অরুণ জেটলি-- এক একে প্রয়াত হয়েছেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতা-নেত্রীরা। সাধারণত রাজনৈতিক কোনও ইস্যু নিয়ে এতদিন বিরোধীদের সমালোচনা করতে দেখা যেত বিজেপিকে। ভোপালের বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা অবশ্য ব্যতিক্রম। তিনি দলের নেতা-নেত্রীদের মৃত্যুর পিছনেও বিরোধীদের ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছেন। আর এজন্য নতুন এক ‘তন্ত্র-অস্ত্র’র সন্ধান দিয়েছেন সাধ্বী। আর তা হল ‘মড়ক শক্তি’। সাধ্বীর দাবি, বিরোধীরা তন্ত্রসাধনার মাধ্যমে ‘মড়ক শক্তি’ প্রয়োগ করছে বলেই এভাবে একে একে তাঁদের দলের নেতারা অকালে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যাচ্ছেন।প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী অরুণ জেটলি ও মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল গৌড়ের প্রয়াণে ভোপালে দলের প্রধান কার্যালয়ে এক শোকসভার আয়োজন করেছিল বিজেপি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাধ্বী প্রজ্ঞা। প্রয়াত এই দুই নেতার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করার পরই এই ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য করে বসেন সাধ্বী। তিনি বলেন, বিরোধীরা ‘মড়ক শক্তি’ (ধ্বংস করার তন্ত্রবিদ্যা) প্রয়োগ করছেন। আর সেটাই হতে পারে গেরুয়া পার্টির শীর্ষ নেতাদের অকাল মৃত্যুর কারণ। নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে ‘যুক্তি’ও পেশ করেছেন সাধ্বী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারের সময় মহারাজজি (পুরোহিত) আমাকে বলেছিলেন বিরোধীরা আমাদের দল (বিজেপি) ও দলের নেতাদের বিরুদ্ধে জাদুবিদ্যা অবলম্বন করছে। উনি (পুরোহিত) এও বলেছিলেন, আগামী দিনে খুব খারাপ সময় আসতে চলেছে আর সেজন্য আমাকে সতর্ক থাকতেও বলেছিলেন।’ এরপরই সভায় উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে কিছুটা স্বগতোক্তির ঢঙে তিনি বলেন, ‘আপনারা বিশ্বাস করুন বা নাই করুন, এটাই সত্যি। এখন এটাই হচ্ছে।’ স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে ‘অপার কৌতূহল’ ছড়িয়ে পড়ে সেূানে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে। সভা শেষে সাংবাদিকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় এই সম্পর্কে সাধ্বীর থেকে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য। সাধ্বী অবশ্য তাঁদের হতাশ করেন। এই নিয়ে আর কোনও মন্তব্য না করেই বেরিয়ে যান। সাধ্বী চুপচাপ বেরিয়ে গেলেও সমালোচকরা চুপ থাকতে নারাজ। তাঁরা বলেন, সাধ্বী বিজেপির একজন গণ্যমান্য সাংসদ বলে কথা। তাঁর কথাকে অবজ্ঞা করা উচিত হবে না। তাহলে কি জেটলি, সুষমা, বাবুলালদের মৃত্যু ‘স্বাভাবিক’ নয়? তাঁদেরকে কি ‘খুন’ করা হয়েছে? সিবিআইয়ের উচিত এর তদন্ত করে দেখা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only