মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯

জল ছাড়ল ঝাড়খণ্ড, ভাসতে পারে ঝাড়গ্রাম


চিন্ময় ভট্টাচার্য: ঝাড়খণ্ডের গালুডি জলাধার থেকে একলক্ষ নব্বই হাজার কিউসেক জল ছাড়ায় ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছেl এজন্য গোপীবল্লভপুর একনম্বর ব্লকের এক, দুই, তিন, চার ও ছয় নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছেl সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী এই পাঁচটি অঞ্চলে প্রশাসন ইতিমধ্যে মাইকে প্রচারও শুরু করে দিয়েছে।

গোপীবল্লভপুর একনম্বর ব্লকের বিডিও দেবজ্যোতি পাত্র  জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ঝাড়খণ্ডের গালুডি জলাধার থেকে একলক্ষ নব্বই হাজার কিউসেক জল ছাড়ায় নদীর জল যে কোনও সময় বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারেl এর ফলে গোপীবল্লভপুর একনম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এটুকুই যা ভরসা।

মঙ্গলবার সকালেই বিপদসীমার কাছাকাছি জল বইতে থাকায় সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের কর্মীরা গোপীবল্লভপুরে নদীর জল পরিমাপ করেছেনl তাঁরা জানান, আপাতত বিপদের সম্ভাবনা না-থাকলেও নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজনদের সতর্ক থাকতে হবেl কারণ, নদীর জল যে কোনও সময় বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যেতেই পারে।


এর আগে গতকালই হাওড়ার শরৎ সদনে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে ঝাড়খণ্ডের জলাধার থেকে জল ছাড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে, রাজ্যের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এবং প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মন্ত্রী এবং প্রশাসনের কর্তাদের মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন, ঝাড়খণ্ড সরকারের সঙ্গে কথা বলতে। যাতে ঝাড়খণ্ড প্রশাসন একলপ্তে বাঁধ থেকে বিপুল পরিমাণ জল না-ছাড়ে। কারণ, তেমনটা করলে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। তিনি বাঁধ থেকে ধীরে ধীরে জল ছাড়ার কথা বলেছিলেন। যদিও ঝাড়খণ্ড সরকার এবারও সেই অনুরোধ মানল না। বাংলায় কম বৃষ্টির সময়, ঝাড়খণ্ড বাঁধ থেকে জল ছাড়ে না। এবারও ছাড়েনি। শুধু, তাই নয়, রাজ্যের অনুরোধ উপেক্ষা করে গতকাল গালুডি জলাধার থেকে বিপুল পরিমাণ জলও ছাড়ল ঝাড়খণ্ড সরকার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only