শুক্রবার, ৯ আগস্ট, ২০১৯

গুজরাতের চেয়ে উন্নয়নে এগিয়ে জম্মু-কাশ্মীর, দাবি অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজের

 গত ৫ আগস্ট সংসদে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদাপ্রদানকারী সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-এ ধারাটি প্রত্যাহার করেন। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ৩৭০-এর জন্যই দেশের অন্যান্য রাজ্যের চেয়ে জম্মু-কাশ্মীর পিছিয়ে। তাঁর এই দাবিকে কার্যত নস্যাত করে দিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজ। তিনি তথ্যসহ দেখিয়ে দিয়েছেন ভারতের সর্বকনিষ্ঠ ইউনিয়ন টেরিটরিটি বেশকিছু ক্ষেত্রে গুজরাতের থেকেও এগিয়ে। গুজরাত মডেল ও সেখানকার উন্নয়ন নিয়ে বেশ বড় গলায় প্রচার করে থাকেন বিজেপি নেতৃত্ব। সারা দেশে এই রাজ্যের উন্নয়নকে ছড়িয়ে দেওয়ার কথাও হরহামেশা শোনা যায় মোদি-শাহদের কণ্ঠে। সেই গুজরাতকে ছাপিয়ে কিভাবে জম্মু-কাশ্মীর উন্নয়ন সূচকে এগিয়ে গেল– এর উত্তরে দ্রেজ জানাচ্ছেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রায় সব সূচকের নিরিখেই জম্মু-কাশ্মীর গুজরাতের চেয়ে এগিয়ে। ১৯৫০-এর দশকে জম্মু-কাশ্মীরে ব্যাপকহারে ভূমি-সংস্কার হয়। সংবিধানের ধারা ৩৭০-এর জন্যই এই ভূমি সংস্কার সম্ভব হয়েছিল বলে দ্রেজের দাবি। তিনি এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, মূল বিষয় হল জম্মু-কাশ্মীরের নিজস্ব একটি সংবিধান ছিল। যার ফলে বড় বড় জমির মালিকদের দখলচু্যত করা সম্ভব হয়েছিল এবং সেই জমি পুনর্বন্টন করা গিয়েছিল কোনওরকম ক্ষতিপূরণ ছাড়াই। তার ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি বিকাশলাভের সুযোগ পেয়েছিল। ১৯৪৭-এর পর জম্মু-কাশ্মীরের ভূমি সংস্কার ভারতের অন্যতম সেরা ভূমি সংস্কার বলে বিবেচিত হয়। তবে দ্রেজের যুক্তি, দেশের মূল সংবিধানের প্রেক্ষিতে সেটা করা সম্ভব হত না। কারণ, সেই সময় ভারতীয় সংবিধান অনুসারে সম্পত্তির অধিকার মৌলিক অধিকার বলে গণ্য হত। ১৯৭৮ সালে ৪৪তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই অধিকার বিলোপ করা হয়।

ঝোলাওয়ালা অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত জন্মসূত্রে বেলজিয়ান এই অর্থনীতিবিদ ২০১৫-১৬ বর্ষের আয়ুষ্কাল– মৃতু্যহার (পাঁচ বছর বয়সের নীচে)– ১৫-১৯ বছর বয়সী মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার হার– অপুষ্ট শিশু– প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের দেহ ভর সূচক প্রভৃতি বিষয়গুলি বিবেচনা করে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন। ২০১১-১২ সালের গ্রামীণ দারিদ্রতার হার ও গ্রামের শ্রমিকদের মজুরি---এই দুটি সূচকেও তিনি তুলনা করেছেন। আর তাতে দেখা গেছে, জম্মু-কাশ্মীর সব সূচকেই গুজরাতের চেয়ে এগিয়ে।

অর্থনীতির এই পরিসংখ্যানের একটি প্ল্যাকার্ড বানিয়ে গত বুধবার দিল্লির একটি প্রতিবাদ মিছিলেও যোগ দিয়েছিলেন জঁ দ্রেজ। তিনি জানান– আমি চাই দেশের জনগণ আসল তথ্যটা জানুক। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দ্রেজ ২০০২ সালে ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন।   



  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only