শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯

গ্রিনল্যান্ড কিনতে চান ট্রাম্প!


ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেন, ১৬ আগস্ট: সব দেশ ঘোরার পর এবার গ্রিনল্যান্ডে আটকা পড়েছে ট্রাম্পের মন। ডেনমার্ক আওতাধীন বিশ্বের এই বৃহত্তম দ্বীপটি কেনার জন্য ইচ্ছা জাহির করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনটাই দাবি করেছে, মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। সংবাদপত্রটির দাবি, বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি গোপনে তাঁর পরামর্শকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প এবং পাশাপাশি কিভাবে ডেনমার্কের থেকে এই দ্বীপটি কেনা যায় তানিয়েও খোঁজ খবর নিতে বলেছেন তাঁদের। এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুজন কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে একথা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দুজনেরই দাবি, ইচ্ছাটি ট্রাম্প তাঁদের সামনে রাখলে, তাঁরা প্রথমে চমকে উঠে ছিলেন। অনেকেই ভেবে ছিলেন, ঠাট্টা করছেন প্রেসিডেন্ট। কিন্ত পরে, তাঁরা বুঝতে পারেন, ট্রাম্প বিষয়টিকে নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। জানা গিয়েছে, হোয়াইট হাইজের গোপন বিষয় হওয়ায় প্রথমেও ওই দুই কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অস্বস্তিবোধ করছিলেন। কারণ, এখন তারা নিজেরাই বিষয়টিয়ে বেশ চিন্তায় পড়েছেন। তারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা আদৌ আইননত বৈধ কিনা তা নিয়ে খোদ তারা সন্দিহান। কারণ ডেনমার্কের আওতাধীন থাকলেও গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব সরকার ও জনগণ রয়েছে। তাই, প্রস্তাবটিতে স্বাধীকারভঙ্গের অভিযোগ উঠতে পারে।সম্প্রতি ডেনমার্ক সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। তার আগেই এমন কথা ফাঁস হতেই ট্রাম্পের সমালোচনা মুখ খুলতে শুরু করেছেন ডেনমার্কের নেতা-মন্ত্রীরা।

সম্প্রতি ডেনমার্কের প্রাক্তণ প্রধানমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন একটি টুইটবার্তায় সমালোচনা করে বলেছেন, 'এটা এপ্রিলফুলের জন্য লাভ রসিকতা হতে পারে। তবে এটা তার সময় নয়।' ডেনমার্কের পিপল'স পার্টির বিদেশ বিষয়ক মুখপাত্র সোরেস এসপারসেন বলেন, 'এটা যদি সত্যি ট্রাম্প মনস্থ করে থাকেন, এটাই হবে চূড়ান্ত প্রমাণ, যে ট্রাম্প পাগল হয়ে গিয়েছেন।'  তিনি আরও বলেন, ৫০,০০০ হাজার নাগরিকের এই অংশটি ডেনমার্ক, আমেরিকাকে বিক্রি করতে চলেছে, এই কথা সম্পূর্ণরূপে হাস্যকর। কারণ গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কে আওতাধীন হলেও তার স্বায়ত্বশাসন রয়েছে।তবে এখানকার বাসিন্দারা ডেনমার্কের অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল। তবে বিষয়টি নিয়ে ডেনমার্কে থাকা মার্কিন দূতাবাস থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ডেনমার্কে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেনি।

তবে সিআইএর ফ্যাক্টবুক বলছে, বরফাবৃত গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ কয়লা ও ইউরেনিয়াম রয়েছে। এছাড়া উত্তর সাগর আর আটলান্টিকের সংযোগস্থলে থাকায় গ্রিনল্যান্ডের ব্যাপর সামরিক গুরুত্ব রয়েছে আমেরিকার কাছে। রাশিয়ার ওপর নজরদারি চালাতে আলাস্কার চেয়ে বেশি উপকারী হবে গ্রিনল্যান্ড। এর আগে ১৮৬৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে ৭২ লক্ষ ডলারে আলাস্কা কিনে নিয়ে ছিল আমেরিকা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only