বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৯

কেমন আছেন কাশ্মীরের জনগণ?

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পাশাপাশি সেখানে গত রোববার থেকেই কারফিউ চলছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, প্রতিটা রাস্তায় ও গলির মুখে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারা দিচ্ছে।দোকান, স্কুল-কলেজ, মোবাইল, ল্যান্ডফোন, ইন্টারনেট পরিসেবা- এমনকি টিভি চ্যানেলগুলোও বন্ধ। কাশ্মীরের বেশিরভাগ নেতাই আটক হয়েছেন। কাশ্মীরে অচলাবস্থায় বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক খাবার সরবরাহ। ব্যাংক ও এটিএমগুলোতেও টাকা নেই।
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে দোকানগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন কাশ্মীরবাসী। ৭২ ঘণ্টা পার না হতে তাই দোকানগুলোতেও শেষ হয়ে গেছে খাবার। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে গেছে বহুগুণ। তিন দিন ধরে চলা এই অচলাবস্থায় না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে নিম্নবিত্ত অনেক কাশ্মীরির।
গত সোমবার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করায় জম্মু-কাশ্মীর ৩৭০ অনুচ্ছেদের বিশেষ অধিকার হারাচ্ছে। এ ছাড়া হারাচ্ছে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদাও। ভেঙে দুই ভাগ করা হচ্ছে কাশ্মীরকে। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে।
এ অচলাবস্থায় কাশ্মীরে খাদ্যে স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। সোমবার থেকে বন্ধ রয়েছে যোগাযোগও। কারফিউ থাকায় চলাচলেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। খাবারের স্বল্পতা ও এটিএম কাজ না করায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়ে গেছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন নিম্নবিত্তরা।সানা নামে ২৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, তার কাছে পাঁচ-ছয়জন ব্যক্তি এসে দাবি করেছিল- তাদের পরিবার না খেয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘মুদির দোকানে যেন মানুষের বন্যা ছিল। মসলা ও শাকসবজির দোকানেও ছিল ভিড়। হাজার হাজার মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন। এ ছাড়া গ্যাস স্টেশনগুলোতেও ছিল গাড়ির লম্বা লাইন। ব্যাংকগুলোতেও টাকা শেষ হয়ে গেছে।’
সানা আরও বলেন, এ অচলাবস্থায় অনেক নৈরাজ্যও দ্বিধা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি খুবই ভয়াবহ ও দুঃখজনক। বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন সবাই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only