বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৯

তিয়াত্তরতম স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনের প্রাক্কালে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর আবক্ষ মূর্তির অবমাননাঃ চাঞ্চল্য


দেবশ্রী মজুমদার, রামপুরহাট, ১৪ অগাস্ট:-  তিয়াত্তরতম স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনের প্রাক্কালে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর আবক্ষ মূর্তির অবমাননার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল বীরভূমের কুরুম গ্রাম। তার আঁচ লাগলো জেলা থেকে রাজ্যে। সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠল নিন্দার ঝড়।  ঘটনাটি ঘটেছে  রামপুরহাট মহকুমার নলহাটি-১ পঞ্চায়েত সমিতির অধীন কুরুমগ্রাম পঞ্চায়েতের কুরুমগ্রামে।
জানা গেছে, প্রতিবারের মত গ্রামের দোলমঞ্চে স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন হওয়ার কথা। কিন্তু সাত দিন আগে অজ্ঞাত দুষ্কৃতীরা গ্রামের হাটতলার কাছে দোলমঞ্চে নেতাজীর আবক্ষ মূর্তির মুখমণ্ডলের চোখ থেকে চশমা খুলে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর মুখঅবয়বে ঠিক চোখের নীচে বেশ কয়েকটি জায়গায় ঘষা দাগ লেগেছে। ঘটনাটি নজরে আসার পর এলাকাবাসীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা অভিযুক্তের গ্রেফতারির দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু সাত দিন পেরিয়ে গেলেও, অপরাধী ধরা না পড়ায় এলাকার মানুষ বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। প্রতিবাদে তাঁরা তেজহাটি- বুজুং রাস্তায় ঘন্টা দেড়েক পথ অবরোধ করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে অপরাধীকে ধরার আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে।  কুরুকগ্রামের বাসিন্দা তথা নলহাটি-১ পঞ্চায়েত সমিতির মৎস কর্মাধ্যক্ষ রাজা মণ্ডল বলেন, ঘটনাটি কানে আসার পর আমি গ্রামের সঞ্জীব সিনহার সাথে কথা বলি। মূলতঃ সমাজসেবী সঞ্জীব সিনহার উদ্যোগে ২০১০ সালে নেতাজীর জন্ম দিন ২৩ জানুয়ারী এই আবক্ষ মূর্তির উন্মোচন করা হয়। গ্রামেরই এক শিল্পী সিমেন্টের ঢালাইয়ের মাধ্যমে এই আবক্ষ মূর্তিটি নির্মাণ করেন। এই আবক্ষ মূর্তির নীচে লেখা আছে সৌজন্যে ‘দেশ আমার’।  দেশের প্রতি আবেগ নিয়ে দেশ নায়কের এই আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করে গ্রামবাসী। সঞ্জীব সিনহা বলেন, আমাদের একটাই দাবি, যে বা যারা এই জঘন্য কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই দাবিতে এদিন আমরা দেড় ঘন্টা পথ অবরোধ করি। পুলিশ প্রশাসন আমাদের সেই আশ্বাস দিয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিং বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অপরাধী ছাড়া পাবে না। এক গ্রামবাসী বলেন,  কুরুমগ্রাম শিক্ষা ও সংস্কৃতির দিক থেকে আশেপাশের গ্রাম থেকে কয়েক যোজন এগিয়ে ছিল। কিন্তু এই ঘটনা আমাদের আবেগকে নাড়িয়ে দিয়েছে।  নেতাজীর মত দেশ বরেণ্যব্যক্তি যাঁকে দেশ নায়ক আখ্যা দিয়ে তাসের দেশ নৃত্যনাট্যটি উৎসর্গ করেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। তাঁর এই অপমান আমাদের ব্যথিত করেছে। উল্লেখ্য, মহামানবের মূর্তি ভাঙার সংস্কৃতি আমাদের রাজ্যে শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ অগাস্ট বীরভূমের মহম্মদ বাজারের ঝাড়খন্ড লাগোয়া চরিচা গ্রামপঞ্চায়েতের রাসপুর গ্রামে স্বামী বিবেকানন্দের পূর্নাবয়ব ধ্যানরত মূর্তির চোখ, মুখ, নাখ বিকৃত করে, গেরুয়া রঙ ঘষে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। ভেঙ্গে দেওয়া হয় ধ্যান মুদ্রায় থাকা দুটি আঙুল। এমনকি মুর্তির মাথায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে আস্ত একটি পাথর। সেই ঘটনায়ও চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only