শুক্রবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৯

স্নাতকোত্তরে ভর্তি হওয়ার জন্য নিজের রক্ত বিক্রি করে টাকা যোগাড় ভবিষ্যৎ শিক্ষকের, পরে আর্থিক সাহায্য জেলা প্রশাসনের


কৌশিক সালুই, বীরভূম, ১৬ আগস্ট:-  দু'চোখে স্বপ্ন শিক্ষক হওয়ার। সেই স্বপ্ন নিয়ে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে  ইতিহাসে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হওয়ার আবেদন জানায় বীরভূমের সিউড়ি দু'নম্বর ব্লকের গাংটে গ্রামের সুব্রত দাস। আর স্বপ্ন পূরণ হতে বাধা পরিবারের প্রবল আর্থিক অনটন। পড়াশোনার জন্য বাধ্য হয়ে ওই পড়ুয়া অনেক বার নিজের শরীরের রক্ত পর্যন্ত বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি। বীরভূম জেলা পরিষদ বিষয়টি জানার পর তাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেন এবং সে শুক্রবার ভর্তির শেষ দিনে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হয়।
সুব্রত এবছর বীরভূম মহাবিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে সাম্মানিক স্নাতক হয়েছে। স্নাতকোত্তর এ ভর্তির জন্য সে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন করে এবং আবেদনের ভিত্তিতে মেধা তালিকায় চার নম্বরে নাম আসে। তার ভর্তির জন্য 6000 টাকা জমা লাগবে। কিন্তু মেরেকেটে হাজার চারেক টাকা যোগাড় হলেও বাকি টাকা সে কোনভাবেই জোগাড় করতে পারেনি। বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে জানার পর অতিরিক্ত জেলা শাসক বীরভূম জেলা পরিষদ দিপ্তেন্দু বেরা মহাশয় তার হাতে শুক্রবার আর্থিক সাহায্য তুলে দেন এবং সে এদিন ভর্তি হয়।
বাবা মোহন দাস গ্রামে গ্রামে সাইকেলে করে সবজি বিক্রি করেন। যা রোজগার হয় তাতে তিন জনের সংসারে কোন রকম খাবার জোটে। পরিবারের গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য সে নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনিও পড়াই। যদিও সেখান থেকে রোজকার খুব সামান্যই।
ফলে শত ইচ্ছা থাকলেও বাবার কাছে ভর্তির টাকা চাইতে পারে না সে। পরিবারের কাউকে না জানিয়ে সুব্রত বেশ কয়েকবার পড়াশোনা চালানোর জন্য সে রক্ত বিক্রি করেছে। এবারও সে সেই রাস্তা নিয়েছিল। কিন্তু পুরো টাকা জোগাড় হয়নি। আইনসিদ্ধ না হলেও সে অভাবের তাড়নায় পড়াশোনার জন্য বাধ্য হয়ে রক্ত বিক্রির পথেই পা বাড়িয়েছে বারবার। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় সেই হতদরিদ্র পরিবারে ভাঙাচোরা ঘরে পড়াশোনাও একটা দায়। মাটির ঘরে বাল্বের আলোয় দু চোখে শিক্ষক হওয়ার তার স্বপ্ন এবং তার মত হতদরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর  ভবিষ্যতে তার লক্ষ্য। সুব্রত দাস বলেন, তিনজনের অভাবের সংসার তাই বাধ্য হয়েই মাঝেমধ্যে পড়াশোনার জন্য রক্ত বিক্রি করতাম। জেলা প্রশাসন যে ভাবে সাহায্য করেছে তাদেরকে ধন্যবাদ। বাবা মোহন দাস বলেন, ছেলে এভাবে রক্ত বিক্রি করে পড়াশোনা করেছে কোন দিন জানতে পারিনি। তবে রক্ত বিক্রি না করলে ভালো হতো। আমি আশাবাদী ও নিজের স্বপ্ন পূরণ করবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only