শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৯

খবরে বাধা! মারধর কর্তব্যরত সাংবাদিককে


দেবশ্রী মজুমদার, রামপুরহাট, ৩১অগাস্ট: রাত দেড়টা নাগাদ বীরভূমের তারাপীঠে দ্বারকা নদীর ঘাটে পূন্যার্থীদের উপর হামলা চালাচ্ছে পুলিশ। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান এক বৈদ্যুতিন মাধ্যমের চিত্র সাংবাদিক ভবানী প্রসাদ রায় ও তার এক সঙ্গী। ঘটনার ছবি ক্যামেরা বন্দী করায়,  চিত্র সাংবাদিককে থানায় ধরে নিয়ে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয় বলে অভিযোগ।  এক পুলিশ আধিকারিক ও এক সিভিক ভলান্টিয়ার মারধরে করে রাতভর তাকে থানার মেঝেতে ফেলে রাখে বলে অভিযোগ। সাংবাদিককে পেটানোর পাশাপাশি, তার সঙ্গে থাকা যুবক রমেন বাগদীকেও মারা হয়।  মারধরের ঘটনায় রক্তাক্ত হয়ে গুরুতর জখম ওই সাংবাদিক ও তার সঙ্গীকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা করানো হয়। চিত্র সাংবাদিকের বাম হাতের কনুই লাঠি দিয়ে মেরে ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে বিগত তিনদিন ধরে পূন্যার্থীদের ঢল নেমেছিল তারাপীঠে। শুক্রবার রাতে তারাপীঠ নদী ব্রীজ এলাকায় কয়েকজন পূন্যার্থীকে পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার মারধর করছে এমন খবর আসার পর খবরের তাগিদে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারপর সেই ঘটনার ছবি করায় তাকে মারধর করা হয়। সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও তাদের মারা হয়। কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার জানিয়ে দেন, 'সাংবাদিক মানি না'।
এক কনস্টেবল তাদের টেনে হিঁচড়ে তারাপীঠ থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তার মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। সেখানে কর্মরত এক আধিকারিক দেবপ্রসাদ মন্ডল ও এক সিভিক ভলান্টিয়ার থানার মধ্যেই ওই চিত্র সাংবাদিক ও তার সঙ্গীকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। তাতে তার কনুই ফেটে রক্তাক্ত হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, চিত্র সাংবাদিকের অভিযোগ, রাতভর তাদের দুজনকে থানার মেঝেতে বসিয়ে রেখে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। শনিবার রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন আহত ঐ সাংবাদিক। ঘটনার তীব্র সমালোচনা করা হয় বিভিন্ন মহল থেকে। বীরভূম জেলার সাংবাদিকরা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারের নজরে আনেন। তারপর অভিযুক্ত পুলিশ কর্মী ও সিভিক পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন জেলা পুলিশ সুপার শ‍্যাম সিং।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only