শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯

পুণ্যার্থীদের ভিড়ে কচুয়া ধামে পাঁচিল ভেঙে বড়সড় দুর্ঘটনা




ইনামুল হক, বসিরহাটঃ  পুণ্যার্থীদের ভিড়ে  কচুয়া ধামে পাঁচিল ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৪ পুণ্যার্থীর। আহত ৩৩, আরও বেশ কয়েক জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাত তিনটে নাগাদ লোকনাথ বাবার কচুয়া ধামে পুণ্যার্থীদের ভিড়ে পাঁচিল ভেঙ্গে এই বিপত্তি ঘটে। সেসময় হুড়োহুড়িতে মাটিতে পড়ে গিয়ে পদপৃষ্ট হয়েও বেশ কয়েকজন জখম হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বসিরহাট মহাকুমার মাটিয়া থানার লোকনাথ বাবার কচুয়া ধাম এর ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে লোকনাথ বাবার ওই ধামে মানুষের ঢল নামে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যেবেলা থেকে জেলা ও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে অগণিত  ভক্ত কচুয়ায়  লোকনাথ বাবার মন্দিরে বিভিন্ন নদীর ঘাট থেকে জল নিয়ে হাজির হয়। ভক্তের চাপে লোকনাথ বাবার মূল গৃহে ঢোকার মুহূর্তে পুকুরের ধারের পাঁচিল বৃষ্টিতে দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়ে। সেই সময় পদপৃষ্ট হয়ে বেশ কয়েক জন আহত হয়েছে। কচুয়ায়  পাঁচিল ভেঙে বিপত্তির পাশাপাশি সেসময় হুড়োহুড়িতে পুণ্যার্থীরা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে গিয়ে দড়ির ব্যারিকেড ছাড়িয়ে দোকানপাট সহ ভেঙে পাশের  পুকুরে গিয়ে পড়ে। এরফলে   শিশু ও মহিলাসহ বেশ কয়েকজন  পুণ্যার্থী জখম হয়।  তাদের স্হানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে  চার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহতরা আরজিকর,  নীলরতন হাসপাতাল , বসিরহাট জেলা হাসপাতাল ও ধান্যকুড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি। এই ঘটনার জেরে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।  শুক্রবার ঘটনা স্হলে আসেন রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র, রাজ্যের খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তাঁরা দুর্ঘটনাস্হল ঘুরে দেখেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কচুয়া ধামের লোকনাথ মন্দিরের কমিটি বা ট্রাস্টি বোর্ড পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও মেলা পরিচালনার জন্য আমাদের সঙ্গে কোন আলোচনা করে না। তিনি পুণ্যার্থীদের পদপিষ্ট হওয়ার জন্য তাদের পরিকল্পনাহীনতাকে দায়ী করেছেন। সংকীর্ণ পরিসরে পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের পথে যেভাবে বিভিন্ন দোকানপাট বসতে দেওয়া হয়েছে তাতে অতিরিক্ত ভিড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিন ঘটনাস্হলে আসেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি দুর্ঘটনার জন্য প্রশাসনের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেন। সেসময়  খাদ্যমন্ত্রীকে দেখে জয় শ্রী রাম ধ্বনি দেয় বেশ কিছু বিজেপি কর্মী সমর্থক। পুলিশ ও নিরীপত্তাবাহিনী  খাদ্যমন্ত্রীকে ভিড়ের মধ্যে থেকে বার করে নিয়ে যান। তিনি জয় শ্রী রাম ধ্বনি নিয়ে অবশ্য কিছু বলতে চান নি। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে  আকাশ পাল নামে বছর সতেরোর এক কিশোরের নাম জানা গিয়েছে। বাড়ি বসিরহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দির ঘাটা এলাকায়।ধান্যকুড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সরকারিভাবে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪ মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।  শুক্রবার ঘটনা স্হলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কলকাতায় হাসপাতালে ভর্তি আহতদের দেখতে হাজির হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জখমদের সঙ্গে কথা বলেন। খোঁজ নেন নিহতদের পরিবারের।  নিহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও আহতদের ১ লক্ষ  করে টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

ছবিঃ আকাশ পাল

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only