মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯

রাষ্ট্রপতির পুলিশ মেডেল পাচ্ছেন সীমান্তের কৃষক সন্তান

শুভায়ুর রহমান, তেহট্টঃ বাড়িতে ছিল না বিদ্যুতের আলো। গ্রামে ছিল বাংলাদেশের চোর ডাকাতদের উপদ্রব। পরিবারে বাবার সঙ্গে  হাল চাষের কাজে সঙ্গ দিতেন। অত্যন্ত পরিশ্রম করে তিনি পাচ্ছেন রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক। চোখের সামনে দেখেছেন ৭১ সালের যুদ্ধ। বাড়ি থেকে মেরেকেটে দেড় দু কিলোমিটারের মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। বিএসএফ আর্মির আনাগোনা দেখেছেন। দেশের জন্য ভালো কিছু করার তাগিদ থেকেই কাজের সাফল্য পেয়েছেন নদিয়ার নাজিরপুরের গড়াইমারি গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান ভবতোষ সিংহ। তিনি অতিবিশিষ্ট সেবার জন্য রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক ২৪ অক্টোবর দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহের হাত থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। ভবতোষ বাবু ইন্দো-তিব্বত সীমান্তের ডিআইজি পদে কর্মরত। জানা গেছে, কাঁটাতারের সীমান্তের গ্রামের বাসিন্দা রমেশ চন্দ্র সিংহ ও কুসুমবালা সিংহের দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। ভাই দুজনের মধ্যে তিনিই ছোট। প্রাথমিক শিক্ষা গ্রামের স্কুলেই। এর পরে তিনি নাজিরপুর বিদ্যাপীঠে ভর্তি হন। তিনি চাষের কাজ যেমন করতেন,পড়াশুনোতেও সমান পারদর্শী ছিলেন। বনগাঁর কলেজ থেকে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। ১৯৮৯ সালে সীমান্তবাহিনীতে তিনি কর্মরত। ত্রিশ বছরের কর্মী জীবনে ভালো কাজের জন্য একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন।  তিনি বলেন, মাঠের ধান, পাট চাষ করতে পারি। সীমান্তে গ্রাম হওয়ায় ভিন দেশের চোর ডাকাতদের উপদ্রব ছিল খুব। ৭১ সালের যুদ্ধে চোখের সামনে বিএসএফ, আর্মি দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। অনেক কষ্টের মধ্যে থেকে গ্রাম থেকে উঠে এসেছি। আমি এই পুরস্কার পাচ্ছি জেনে খুবই ভালো লাগছে। আমি যেকোনো কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করি৷ আমি গ্রামের ছেলে হিসাবে গর্বিত, বাঙালি হিসাবে গর্বিত।'

পুবের কলম পত্রিকাকে তিনি আরও জানান, উত্তর -পূর্ব ভারতে ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত বাহিনীর রসদ বিভাগের দায়িত্বে আছি। এই বিভাগে আমি একমাত্র বাঙালি হিসাবে এবার এই পদক পাচ্ছি। আগামী ২৪ অক্টোবর এই পুরস্কার আমার হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। জানা গেছে, এই বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি আরও কয়েকটি চাকরি করেন। তাঁর এই কাজের খবরে খুশি তেহট্ট, করিমপুর এলাকার মানুষ। ভবতোষ বাবুর বাল্যবন্ধু অখিল চন্দ্র সরকার জানান, খুবই ভাল ছিল পড়শুনোতে। যেকোনো কাজকে চ্যালেঞ্জের চোখে দেখতে। গ্রামের সীমান্তের ছেলে। ওর জন্য আমরা গর্বিত। দু'দিনের ছুটিতে ভবতোষ সিংহ সীমান্তের বাড়িতে আসেন মায়ের সঙ্গে দেখা করতে। তিনি নিজের স্কুল নাজিরপুর হাইস্কুলে যান। এলাকাবাসীদের সঙ্গে দেখা করে মঙ্গলবার আবার আসামের ডিব্রুগড়ে কর্মস্থলে কাজে যোগ দিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only