সোমবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৯

নামিয়ে দেওয়া হল কাশ্মীরের পতাকা

পুবের কলম, ২৫ আগস্টঃ কাশ্মীরের সিভিল সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং থেকে নামিয়ে দেওয়া হল জম্মু-কাশ্মীরের নিজস্ব পতাকা। এই পতাকা ছিল কাশ্মীরিদের কাছে তাঁদের বিশেষ মর্যাদার প্রতীক। মহারাজার সময় থেকেই কাশ্মীরের এই পতাকা তাঁদের এক আলাদা মর্যাদা হিসেবে প্রতিভাত হত। ৩৭০ ধারাকে সঙ্গে নিয়ে কাশ্মীরের ভারতভুক্তির পর থেকেই এই পতাকা ভারতের তেরঙা পতাকার সঙ্গে যৌথভাবে উত্তোলিত হত জম্মু-কাশ্মীর ও লাদা অঞ্চলে। ভারত সরকার ৩৭০ ধারা বাতিলের পর রবিবার এই প্রথম শ্রীনগরে সিভিল সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং থেকে নামিয়ে দেওয়া হল কাশ্মীরের এই পতাকা। ৩৭০ ধারা অনুযায়ী ভারতভুক্তির সময় চুক্তি হয়েছিল কাশ্মীরের মু্খ্যমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী বা উজিরে আজম এবং রাজ্যপালকে সদর-এ-রিয়াসত বা প্রেসিডেন্ট বলা হবে। আর থাকবে এক আলাদা সংবিধান ও পতাকা। এগুলি সবই ধীরে ধীরে ভারত খারিজ করে দেয়। ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ার পর বিশেষ মর্যাদাও চলে যায়। ফলে কাশ্মীরের আলাদা সংবিধানও বাতিল হয়ে যায়। এবার নামিয়ে দেওয়া হল সমস্ত সরকারিভবন থেকে কাশ্মীরের আলাদা মর্যাদার প্রতীক নিজস্ব পতাকাও।
এতদিন পর্যন্ত প্রধান সেক্রেটেরিয়েটে দু’টি পতাকা উড়ত। এবার কেবলই পতপত করে উড়বে আমাদের তেরঙা পতাকা।
বিশেষ মর্যাদা হারিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর, নজিরবিহীনভাবে একটি রাজ্যকে পরিণত করা হয়েছে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। একইসঙ্গে লাদাখকেও আলাদা করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আগে মনে করা হয়েছিল এখনও হয়তো কিছুদিন রেখে দেওয়া হবে কাশ্মীরিদের ‘আত্মমর্যাদার পতাকা’। প্রথমে বলা হয়েছিল, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সিভিল সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ে তেরঙার সঙ্গে উড়বে কাশ্মীরের পতাকাও। যে লাল পতাকাতে আঁকা রয়েছে লাঙলের ছবি। কোনও ধর্মীয় প্রতীক নয়, এটি একান্তই ছিল ধর্মনিরপেক্ষ খেটে খাওয়া মানুষদের নিজেদের চিহ্ন।
৭ আগস্ট তড়িঘড়ি জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার স্পিকার নির্মল সিং তাঁর সরকারি গাড়ি থেকে খুলে ফেলেন রাজ্যের পতাকা। রবিবার সিভিল সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ে শুধুমাত্র তেরঙা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে বাকি সরকারি অফিসগুলিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের পতাকা আর ব্যবহার করা যাবে না। থাকবে শুধুই আমাদের তেরঙা জাতীয় পতাকা।
কাশ্মীরের পতাকার রঙ ছিল লাল। ১৯৩১-এর ১৩ জুলাইয়ের রক্তাক্ত দিনের কথা স্মরণ করে এই পতাকা তৈরি হয়েছিল। পতাকায় তিনটি রেখা জম্মু– কাশ্মীর এবং লাদাখের প্রতীক ছিল। ৩৭০-এর বিশেষ মর্যাদা অনুযায়ী জম্মু-কাশ্মীর পেয়েছিল এই বিশে পতাকার অনুমতি। উল্লেখযোগ্য, ৩৭১ ধারায় স্বতন্ত্র পতাকা ব্যবহারের একই অনুমতি দেওয়া হয়েছে নাগাল্যান্ডকেও। নাগাল্যান্ড ভারতের পতাকার সঙ্গে নিজের আলাদা পতাকাও উত্তোলন করে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only