শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯

৭০ বছরে বেনজির আর্থিক সংকটে দেশ, বিস্ফোরক নীতি আয়োগ কর্তা

মোদি জমানায় বারবার বলা হয়েছে ‘বিকাশ’-এর কথা। ভারত ৫ লক্ষ কোটি টাকার অর্থনীতির দেশ হতে চলেছে– এ কথা মোদি টু জমানায় নিয়ম করে শোনানো হয়েছে। শুক্রবার ফ্রান্সেও দেশের উন্নয়নের কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি ও তাঁর বাহিনী যখন উন্নয়নের ঢালাও প্রচার করছেন তখন নীতি আয়োগের সহ-সভাপতি রাজীব কুমারের মন্তব্যে নড়েচড়ে বসতে হল কেন্দ্রকে। রাজীব কুমার স্পষ্ট বলেন– ‘দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা করুণ। গত ৭০ বছরে আমরা এমন পরিস্থতির সম্মুখীন হয়নি। সব অর্থনৈতিক ক্ষেত্রই এখন নড়বড়ে। নীতি আয়োগের সহ-সভাপতি বলেন– এই পরিস্থিতিতে সরকার কার্যত ঘুমিয়ে রয়েছে।
এর আগেই দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা দেশের আর্থিক সংকট নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন সম্প্রতি জানান– ভারতের আর্থিক অবস্থা যথেষ্ট সংকটজনক। এই অবস্থায় একগুচ্ছ আর্থিক সংস্কার ছাড়া অবস্থার মোকাবিলা করা কঠিন। 
একই কথা শোনালেন রাজীব কুমার। তিনি বলেন– ‘এই বেনজির পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য অবিলম্বে প্রথাগত পদক্ষেপের বাইরে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ডই ভেঙে পড়বে।’ বিরোধী দলের অভিযোগ নয়– নীতি আয়োগের সহ সভাপতি বললেন– ‘গত ৭০ বছরে আর্থিক অবস্থা এমন খারাপ হয়নি। কেউ কাউকে বিশ্বাস করছেন না।’
জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। কর্মসংস্থান তো দূরের কথা– ছাঁটাই হচ্ছে বহু সেক্টরে। একের পর এক সরকারি কোম্পানি বেসরাকরি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মত ক্ষেত্রগুলিও বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ধ্বংসের মুখে অটোমোবাইল সেক্টর। শুধু অটোমোবাইল সেক্টর নয়– এর অনুসারী শিল্পগুলিও কর্মী ছাঁটাইয়ের মুখে। এই অবস্থা থেকে কীভাবে পরিত্রাণ মিলবে তার দিশা দেখাতে পারছে না কেন্দ্র। যদিও নীতি আয়োগের সহ-সভাপতির দেওয়া অশনি সংকেতের পর নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে বসে পড়েন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন–গোটা বিশ্বজুড়ে আর্থিক উথাল-পাতাল চলছে। তুলনামূলকভাবে ভারতের আর্থিক অবস্থা ততটা আশঙ্কাজনক নয়। বরং ভারতের অবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিনের থেকে খানিকটা ভালো।
দেশের আর্থিক অবস্থা এমন করুণ হয়ে গেল কেন? বারবার উন্নয়নের ঢালাও প্রচারের পর এমন দশা কেন? রাজীব কুমারের মতে– ‘গোটা খেলাটা পালটেছে গত ৪ বছরে। নোটবন্দি– জিএসটি এবং দেউলিয়া বিধিতে পরিবর্তন এই অবস্থার অন্যতম কারণ। বাজারে নগদের অভাব মারাত্মক। ফলে নগদে লেনদেন সমস্যা তৈরি হয়।’ বাজারে নগদ লেনদেন এবং বিনিয়োগের বর্তমান অবস্থা কেমন তারও বর্ণনা করেন নীতি আয়োগের সহ-সভাপতি। তিনি বলেন– ‘কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না। এই পরিস্থিতি শুধু সরকার ও বেসরকারি ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বেসরকারি ক্ষেত্রেও কেউ কাউকে ধার দিতে চায়ছে না।’ রাজীব কুমার বলেন– ‘সরকার হয়তো বুঝতে পারছে যে সমস্যাটা আর্থিক ক্ষেত্রে। মূলধনে কমে ধীরে ধীরে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। সেটা অবিলম্বে থামানো দরকার।’
কিন্তু এমন অধোগতি থামানো যাবে কীভাবে। নীতি আয়োগের সহ-সভাপতি বলেন– চিরাচরিত নয়– এমন কোনও পদক্ষেপ নিতে হবে। বেসরকারি ক্ষেত্রে আস্থা ফেরাতে হবে’
বর্তমান পরিস্থিতির ছাপ পড়ছে অর্থনীতির সর্বত্র। নির্মলা সীতারামণ সাংবাদিক সম্মেলন করে সরকারের অস্বস্তিতে কাটাতে চেষ্টা করেছেন বটে– তাতে অবশ্য সিঁদুরে মেঘ কাটেনি। এ দিন ফের ডলারের সাপেক্ষে কমেছে টাকার দাম। গত আট বছরে এই প্রথম ডলারের সাপেক্ষে এমনভাবে কম টাকার দাম। জিডিপিতেও পড়েছে এর প্রভাব। শেয়ার সূচক পড়ছে প্রতিদিন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only