মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯

কাশ্মীরে স্কুল খুললেও দেখা নেই পড়ুয়াদের

টানা দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ঘরবন্দি ছিল কাশ্মীর। আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল সোমবার খোলা হবে কিছু স্কুল ও সরকারি অফিস। জম্মু-কাশ্মীরকে ছন্দে ফেরানোর অন্যতম মাধ্যম হিসেবে এটিকে গণ্য করা হয়েছিল। স্কুল ও সরকারি অফিস খোলা থাকলেও তার মধ্যে কোনও স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল না। নিশ্চিতভাবে স্কুলে পড়ুয়া ছিল হাতেগোনা কয়েকজন। তারপরও যেহেতু প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছিল সোমবার স্কুল খুলবে,  সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত বলবৎ রাখা হয়। কেবলমাত্র পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্কুল খোলা রাখার কথা ছিল। তবে সেই পড়ুয়াদের দেখা মেলেনি স্কুলগুলিতে। 

শ্রীনগরের ডেপুটি কমিশনারের হিসেব অনুযায়ী, কেবল শ্রীনগরের পরিস্থিতি বিচারের পর মোট ১৯৬টি স্কুল খোলার কথা ছিল। কিন্তু স্কুল খোলা থাকলেও পড়ুয়া নজরে আসেনি। শিক্ষক-শিক্ষিকারা অবশ্য পৌঁছেছিলেন স্কুলে। বিবিসি’র সংবাদদাতা আমীর পীরজাদা কয়েকটি নামকরা স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখেছেন– মাত্র দু’একজন ছাত্র সেখানে রয়েছে। ক্লাস না হওয়ায় তারাও বাড়ি ফিরে আসে। স্কুলের দারোয়ান জানান– কয়েকটি জায়গায় স্কুলবাস গিয়েছিল পড়ুয়াদের তুলে আনতে। তবে বাসগুলি বেশিরভাগই খালি ফিরে আসে স্কুলে। বিবিসি’র পক্ষ থেকে কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। তাঁরা জানান, স্কুলে বাচ্চাদের পাঠাবার মতো পরিস্থিতি এখন নেই। যদিও প্রশাসন আবেদন জানাচ্ছে যে আমরা সুরক্ষার দায়িত্ব নিচ্ছি, আপনারা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠান। 

সত্যিই কতটা স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যাবে তা প্রত্যক্ষ করতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলেন সাংবাদিকরা। কার্যত তাঁদের খালি বাস দেখেই নিরাশ হতে হয়। কেবল ছাত্রবিহীন দু’চারটি স্কুলবাস নজরে এলেও প্রাইভেট কিংবা কমার্শিয়াল গাড়ির দেখা মেলেনি। এ দিনও বন্ধ ছিল দোকানপাট ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান।সরকার জানিয়েছিল, পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় কিছু জায়গায় কারফিউ শিথিল করা হয়। যেখানে যেখানে কারফিউ শিথিল করা হয় মূলত সেখানেই খোলা হয়েছিল প্রাইমারি স্কুলগুলি। প্রশাসন যাচাই করতে চাইছিল প্রকৃত পরিস্থিতি। তবে রবিবার রাতেও বহু স্থানে বিক্ষোভ ও পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে। ল্যান্ড লাইন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ইন্টারনেট পরিষেবা এখনও বন্ধ কাশ্মীরে। কারও মোবাইলে নেই ইন্টারনেট। 

এনডিটিভি-র সংবাদদাতা জানিয়েছেন, আমরা বেশ কয়েকটি স্কুল ঘুরে এসেছি। সেখানে স্কুলগুলির গেট খোলা দেখিনি। তবে স্কুলের কিছু কর্মী এসেছেন মাত্র। ছাত্রছাত্রীদের দেখা পাইনি সকাল থেকে বসে থেকেও। একই চিত্র শহরের নামকরা স্কুলগুলিতেও। এ দিনের পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক থাকে, তা হলে তা দেখে হাইস্কুল, হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হত। কিন্তু পুলিশ স্কুল ও কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়গুলিতেও পড়ুয়াদের  উপস্থিতি ছিল হতাশাজনক। পিটিআই জানিয়েছে, স্কুলের শিক্ষকরা এসেছিলেন ঠিকই, তবে পড়ুয়াদের দেখা মেলেনি। 

বিবিসি সংবাদদাতা রিয়াজ মাসরুর জানিয়েছেন, রবিবার রাতে শ্রীনগরের অধিকাংশ স্থানে বিক্ষোভ ও পাথর ছোড়ার ঘটনার খবর মিলেছে। নিরাপত্তা বাহিনীকে কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে হয়েছে বহু জায়গায়। বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মীর আহত হওয়ার খবরও মিলেছে। রিয়াজ আরও জানিয়েছেন, সেনা-পুলিশের উপর হামলা বন্ধে গ্রেফতার করা হচ্ছে যুবকদের। প্রশাসন চাইছে এখন যেন কোনও প্রতিবাদ প্রদর্শন না হয়। রাস্তায় চলছে তল্লাশি। এমন পরিস্থিতিতে স্কুল চালু রাখার চেষ্টা করা হয়। সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিন– কিন্তু এ দিনও কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি। ১৫ দিন ধরে একই অবস্থা রয়েছে কাশ্মীরে। 

১০ দিন কাটিয়ে এ দিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল দিল্লিতে ফিরেছেন। সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিবও। অজিত দোভাল এই ক’দিনে কাশ্মীরে তাঁর কী অভিজ্ঞতা হয়েছে, সে কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। তবে বড় ধরনের কোনও সিদ্ধান্তের কথা এ দিনের বৈঠকের পর ঘোষণা করা হয়নি।  



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only