রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৯

এনআরসি থেকে বাদ পড়লে এখনই জেল নয়

 ৩১ আগস্ট প্রকাশিত হবে নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত রিপোর্ট। আর তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে অসমের জনতা। খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে এমন ৪১ লক্ষ মানুষের মধ্যে ৮৯ শতাংশ মানুষ প্রবল মানসিক যন্ত্রণায় রয়েছেন বলে ‘ন্যাশনাল ক্যাম্পেন এগনেস্ট টর্চার’ বা এনসিএটি’র রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ভেবে তাঁরা প্রবল মানসিক কষ্টের মধ্যে রয়েছেন যে– যে কোনও সময় তাঁদের বিদেশি ঘোষণা করে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হতে পারে।  এমনই দাবি এনসিএটি’র। এই পরিস্থিতিতে অসমের জনতার উদ্বেগ কিছুটা কমাতে সরকারের এক আধিকারিক দাবি করেছেন– এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই কাউকে সঙ্গেসঙ্গে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হবে এমনটা নয়। সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এনআরসি থেকে নাম বাদ যাওয়া আবেদনকারীরা ফরেন ট্রাইব্যুনাল– হাইকোর্ট– সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই চালানোর সুযোগ পাবেন। তারপরই তাঁদের নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদিও সরকারি আধিকারিকের এই মন্তব্য অসমের আম-জনতাকে কতটা আশ্বস্ত করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ওই আধিকারিকের দাবি– এনআরসি নিয়ে একশ্রেণির বিদেশি মিডিয়া ‘অসত্য’ রিপোর্ট দিয়ে অহেতুক তীব্র আতংকের পরিবেশ তৈরি করছে যে, ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরই নাকি অসমের লক্ষ-লক্ষ মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে। আরও এক আধিকারিক জানান, এনআরসি তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া জনতা যাতে দ্রুত আইনি সহায়তা পেতে পারেন সেজন্য ১ সেপ্টেম্বর থেকেই অসমে ২০০টি ফরেন ট্রাইব্যুনাল চালু হয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই ১০০টি ট্রাইব্যুনাল চালু রয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে আরও ১০০০ ট্রাইব্যুনাল চালু হয়ে যাবে– যা ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য– ১৯৮৫ সালে অসমে সর্বপ্রথম ফরেন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।

 সেই থেকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৯৫৯জনকে একতরফা শুনানিতে বিদেশি ঘোষণা করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অবশ্য ইতিমধ্যে ফরেনার্স (ট্রাইব্যুনাল) অর্ডার ২০১৯ সংশোধন করেছে– যার ফলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে নিজের দাবি ও বক্তব্য প্রমাণ করার জন্য। আগের নিয়মে কোনও সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র রাজ্য প্রশাসনেরই একমাত্র অধিকার ছিল ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে আগেই বিশ্লেষণ করা হয়েছিল যে, এনআরসি তালিকায় যাঁদের নাম নেই তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি বলে ঘোষণা করা হবে না। তাঁদের যথাযথ সময় দেওয়া হবে ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার জন্য। আর ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সময়সীমাও ৬০দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০দিন করা হয়েছে। প্রশ্ন করা হয়েছিল– সব আদালতে আইনি প্রক্রিয়া চলার পরও যদি কোনও ব্যক্তি নিজেকে ভারতীয় প্রমাণে ব্যর্থ হন সেক্ষেত্রে কি হবে? জবাবে অবশ্য ওই সরকারি আধিকারিক জানান– এক্ষেত্রে ধাপে ধাপে এগোনো হবে। এক্ষুণি এটা নিয়ে মাথাব্যাথা নেই। তাছাড়া এটি একটি অনুমানমূলক প্রশ্ন। এনআরসি থেকে যাঁরা বাদ পড়বেন তাঁরা ট্রাইবুন্যালে যাওয়ার জন্য ১২০দিন সময় পাবেন। 

১৯৫১ সালে অসমে প্রথম নাগরিকপঞ্জি প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর অসমে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও ভারতীয়দের আলাদা করে চিহ্নিত করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশানুসারে তার আপডেট করা হচ্ছে। চলতি বছরের জুনে ও গত বছরের জুলাইতে প্রকাশিত এনআরসি তালিকা থেকে প্রায় ৪১ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছিল। এঁদের মধ্যে ৩৬ লক্ষ মানুষ তাঁদের নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে আবেদন করেছেন। একইসঙ্গে এনআরসি তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে এমন ২ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা। যদিও এনআরসি তালিকা থেকে বাদ যাওয়া প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন করে আবেদন করেননি। এই প্রসঙ্গে আরও এক সরকারি আধিকারিক জানান– ‘ওই ৪ লক্ষ মানুষ যাঁদের নাম এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়া সত্ত্বেও পুনরায় আবেদন করেননি তাঁদের হয়ে রাজ্য সরকারই ফরেন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করবে। প্রথমে ট্রাইব্যুনালেই বিচারপর্ব চলবে। সেখানেই স্থির হবে তাঁরা বিদেশি না ভারতীয়। সঙ্গেসঙ্গেই কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে না। কারণ– এটা বাস্তবসম্মত নয়। অসমে বর্তমানে ৬টি ডিটনশন সেন্টার রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ১০টি ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করা হবে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only