শুক্রবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৯

রাত পোহালেই এনআরসি, উত্তেজনায় ফুটছে অসম


অসম জুড়ে এখন প্রবল উৎকণ্ঠা। রাত পোহালেই প্রকাশিত হবে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা। এমনিতেই এই তালিকা তৈরি নিয়ে ভূরিভূরি অভিযোগ সামনে এসেছে। এনআরসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কেন্দ্র ও অসম সরকারের দ্বন্দ্বও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার কী হয়– সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে অসম সহ গোটা দেশের মানুষ।
এনআরসি তালিকায় যাঁদের নাম থাকবে না তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হবে– তা নিয়ে প্রবল উৎকণ্ঠা চলছে অসমজুড়ে। লক্ষ লক্ষ বাসিন্দার নাওয়া-খাওয়া– ঘুম ছুটে গেছে। তালিকায় নাম না থাকলে তাঁদের কি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে? এইসব প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে তাঁদের মনে। যদিও সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল– যাঁদের নাম তালিকায় উঠবে না তাঁদের এখনই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে না। ট্রাইব্যুনালে বিচার চলবে– তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে প্রায় ৪১ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে খসড়া তালিকায়। চূড়ান্ত তালিকায় কী হবে– তা নিয়ে শুরু হয়েছে আশঙ্কার প্রহর গোনা। এই উৎকণ্ঠার নীরবতার মধ্যে কোথাও যাতে বিক্ষোভ বা অশান্তি মাথাচাড়া দিতে না পারে সে জন্য সতর্ক রাজ্য প্রশাসন। রাজ্য সরকারের পাশাপাশি অসমের পরিস্থিতির উপর নজর রাূছেন নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহরা।

শনিবার সকাল ১০টায় প্রকাশিত হবে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকায়। এনআরসিকে কেন্দ্র করে শেষ পর্যায়েই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে অসমের রাজনীতি। কেবল দেশে নয়– ইউনাইটেড স্টেটস অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম– আমেরিকা থেকে অসমের এনআরসি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুসলিমদের ভোটাধিকার হরণ করে সব অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। দিল্লি-কেন্দ্রিক রাইটস অ্যান্ড রিস্ক অ্যানালাইসিস গ্রুপ এক সমীক্ষায় বলেছে, অসমের মানুষ এনআরসি-র গণ শুনানিতে হাজির থাকতে গিয়ে ঘটিবাটি, সোনাদানা, জমি, গবাদিপশু বিক্রি করে ৭৮৩৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। নিম্ন অসমের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে এর ফলে আর্থিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। এনআরসি কর্তৃপক্ষ ৪৮ ঘণ্টা আগেও ত্রুটিমুক্ত তালিকা প্রকাশের দাবি করেছে। ঠিক তখনই অসম আন্দোলনে শহিদ মদন মল্লিকের পত্নীর বিরুদ্ধে নওগাঁও-এর বিদেশি ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। আর তাঁদের গোটা পরিবারকে ‘ডি’ ভোটার সাজিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর তোড়জোড় চলছে।

অসম কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে এনআরসি-র আড়ালে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের খেলায় মেতেছে সরকার। সরকার চেয়েছিল ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে। যতদিন প্রতীক হাজেলা সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আপত্তি তুলতে দেখা যায়নি। এখন টার্গেট ফেল করতে দেখে শাসক দল হাজেলার বিরুদ্ধে লেগেছে---এমন অভিযোগ প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দেক আহমেদ ও বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থর। আরও একধাপ এগিয়ে অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন– হিন্দু বাঙালিরাই অধিক সংখ্যায় বঞ্চিত হবে এনআরসি থেকে।

চূড়ান্ত এনআরসি তালিকা ঘিরে অসমিয়া জাতীয়তাবাদী শিবির যথেষ্ট উল্লসিত হলেও আতঙ্কে রয়েছেন অ-অসমিয়া বাসিন্দারা। বিশেষ করে বাঙালি হিন্দু ও মুসলমানরা। নাম বাদ পড়ার পর অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে ধরে নিয়ে জোরদার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে সনোয়াল সরকার। প্রত্যেক জেলার এনআরসি সেবাকেন্দ্রগুলির আশপাশে ইতিমধ্যে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। নামানো হয়েছে বিপুল সংখ্যক আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ান। নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের দিন যাতে কোনও আইন-শৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে– তার জন্য আগাম ভাবে যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে অসম সরকার। এমনকী– স্পর্শকাতর জেলা ও এনআরসি সেবাকেন্দ্র চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। চিহ্নিত করা হয়েছে স্পর্শকাতর এলাকা। দেখা যাচ্ছে– ভাষাগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু এলাকাগুলিকেই স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে আতঙ্ক আরও তীব্র হয়েছে। সংখ্যালঘুদের মনে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হচ্ছে– তাহলে কি বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা সত্যি হতে চলেছে? উত্তর জানা যাবে ৩১ আগস্ট সকাল ১০টার পর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only