শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৯

এনআরসি বৃহত্তর চক্রান্তের অংশ, অভিযোগ অসমবাসীর

চিন্ময় ভট্টাচার্য: আরএসএস এবং বিজেপি যে বাঙালি বিদ্বেষকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চাইছে, এনআরসি তার অংশমাত্র। এনআরসির  চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এমনটাই ধারণা অসমবাসীর। একসময় জবরদস্তি উর্দু সংস্কৃতি বাঙালির ওপর চাপানোর চেষ্টা হয়েছিল। সেই লড়াইয়ে বাঙালির শৌর্যের ফসল বাংলাদেশ। এবার উর্দুর বদলে এই দেশজুড়ে বাঙালির প্রতি অবাঙালি-বিদ্বেষ চরম আকার নিয়েছে। এনআরসি, সেই বিদ্বেষেরই অংশমাত্র। এমনই ধারণা অসমবাসী বাঙালির। শনিবার, এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর ফোনে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন অধ্যাপক তপধীর ভট্টাচার্য। নাগরিক অধিকার রক্ষা সমন্বয় সমিতির হয়ে বর্তমানে অসমের পীড়িত মানুষের স্বার্থে কাজ করছেন এই অধ্যাপক। তিনি প্রত্যেক বাঙালির কাছে বর্তমান পরিস্থিতিতে এনআরসি-পীড়িতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতীয় নাগরিকপঞ্জী তৈরির নামে এই চক্রান্ত ইতিমধ্যেই গোটা বাঙালি সমাজকে সন্দেহের কাঠগড়ায় তুলে দিয়েছে। বিদেশির তকমা অঘোষিতভাবে বাঙালি সমাজের গায়ে সাঁটিয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাঙালি সমাজ যাতে একমত হতে না-পারে, একজোট হতে না-পারে, সেই চেষ্টা চলছে। অবাঙালি সম্প্রদায় তো বটেই, তাদের পরিপোষিত কিছু বাঙালিও ব্যক্তিস্বার্থে সেই চক্রান্তে সামিল হয়েছেন। এমনই অভিযোগ অসমবাসী বাঙালির একাংশের।

এই পরিস্থিতিতে অসমের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা আরও 'কড়া এনআরসি' চালু করে কার্যত সব বাঙালিকে অসমছাড়া করার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তেলেঙ্গানা থেকেও বাঙালি খেদাও অভিযান চালানোর জন্য এনআরসি লাগু করার দাবি উঠেছে। প্রতিবাদে সামিল হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এনআরসির তালিকা থেকে বাদ যাওয়া অসমের ১৯ লক্ষ মানুষ এখন কোথায় যাবেন? সেই প্রশ্ন তুলেছেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only