শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৯

উপরাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে বিশ্বভারতীতে প্রশাসনিক বৈঠক


দেবশ্রী মজুমদার, শান্তিনিকেতন, ১০ অগাস্টঃ   চলতি মাসে ১৬ তারিখ দেশের উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডুর বিশ্বভারতী সফর ঘিরে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের বৈঠক হল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বীরভূম জেলা  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবিমল পাল, বিশ্বভারতী কর্মসচীব সৌগত চট্টোপাধ্যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য আধিকারিক, শান্তিনিকতেন ও বোলপুর দুই থানার পুলিশ অফিসার ইনচার্জ, দমকল বিভাগের আধিকারিক, স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। বৈঠক শুরু হয় বেলা ৩টা ৪৫মিনিট নাগাদ, চলে দীর্ঘক্ষণ।  বৈঠকে আলোচনা হয় উপরাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।  জানা গেছে,  কুমির ডাঙায় হেলিপ্যাডে নামবেন তিনি।  সেখান থেকে সোজা চলে আসবেন রবীন্দ্র স্মৃতিধন্য উত্তরায়ন চত্বরে সেই ঐতিহ্যমন্ডিত শ্যামলী গৃহর পুনঃ দ্বারোদ্ঘাটন অনুষ্ঠানে। তারপর তাঁর কর্মসূচীর মধ্যে থাকছে লিপিকা প্রেক্ষাগৃহে বক্তৃতা। সেখানে তাঁকে সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হবে বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে।  ১৬ তারিখই দিল্লীর উদ্দেশ্যে তাঁর রওনা হওয়ার কথা। উল্লেখ্য, ১৯৩৪ সালে মাটির নির্মিত এই শ্যামলী গৃহটি ছিল কবির গ্রীষ্মাবাস। ১৯৪০ সালে উঠেছিলেন মহাত্মা গান্ধী ও তাঁর স্ত্রী কস্তুরবা গান্ধী। চলতি বছরের ১৬ অগাষ্ট ভারতের উপরাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু উত্তরায়ণে শ‍্যামলী গৃহের পুনঃ ও দ্বারোদ্ঘাটন করবেন। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই শ‍্যামলী গৃহের সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাঁচটা বাড়ির মধ্যে একটি শ্যামলী। দেশীয় প্রযুক্তিতে ও ভাবনায় নির্মিত এই বাড়িটি। দেওয়াল এবং বাড়ির সিলিং ছিল শীততপ নিয়ন্ত্রিত প্রাকৃতিক ভাবে। সিলিংয়ে যেমন মাটির ছাদ ছিল। তেমনি তার নিচে মাটির কলসি জাতীয় পাত্রে খর ভরে ছাদের তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করা যেত। এছাড়াও বাড়ির স্থাপত্য ছিল অনবদ্য। আশ্রমিকদের কথায়, শিল্পী স্থপতি সুরেন্দ্রনাথ কর বাড়টির নক্সা তৈরী করলেন। ভুবনডাঙ্গার গৌর মন্ডলের অধীনে সাঁওতাল মিস্ত্রিরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাড়ি তৈরী করলেন। নন্দলাল বসু কলাভবনের শিল্পীদের নিয়ে বাড়ির প্রবেশদ্বারের দুপাশে নানা কারুকার্য করলেন। মাটির গায়েই সাঁওতাল দম্পতির রিলিফ চিত্র তৈরী করলেন ভাস্কর রামকিঙ্কর বেইজ। বিশ্বভারতী রবীন্দরভবন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৩৪ সালে পঁচিশে বৈশাখ কবির ৭৪তম জন্মদিনে নতুন শ্যামলী বাড়িতে প্রবেশ করেন। ১৯৩৫ সালের ১৪ই মে আঁন্দ্রে কার্পেলেসকে একটি চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘আমার এই বাড়িটি আমায় দেবে শেষ বিদায়ের নিরঙ্কুশ শান্তি; জীবনের অনাহুত আগন্তুকদের এর শান্ততা ভাঙার অনুমতি নেই।’

প্রিয় এই বাড়িটির উদ্দেশ্যে কবি লিখেছিলেন –       
আমার শেষবেলার
বাসাখানি
বানিয়ে রেখে যাব
মাটিতে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only