রবিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৯

বিশ্বভারতীর নন্দন আর্ট গ্যালারীতে এই প্রথম অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিষ্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মীয় অসিত হালদারের ৩২টি ছবির প্রদর্শনী



দেবশ্রী মজুমদার, শান্তিনিকেতন, ০৪ অগাস্টঃ  বিশ্বভারতীর নন্দন আর্ট গ্যালারীতে এই প্রথম  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিষ্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মীয় অসিত হালদারের ৩২টি ছবির প্রদর্শনী।  থাকছে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রিয় শিষ্য  নন্দলাল বসুর বেশ কিছু ছবি। যা তাঁর জন্ম শত বার্ষিকীতে আগেই দেখানো হয়েছে। তাই উপরি পাওনা অসিত হালদারের ছবি। যেগুলো তাঁর সন্তান  অধীশ হালদার বিশ্বভারতীকে দান করেছেন। কলাভবনের অধ্যাপক শিশির সাহানা জানান, ছবির বিষয়বস্ত ভালো।  স্থানীয় মানুষ, প্রকৃতি এসব নিয়ে টেম্পারা ও ওয়াশ পদ্ধতিতে ছবিগুলো আঁকা হয়েছে। এছাড়াও নন্দলাল বসুর ছবিও থাকছে।  প্রায় একশ ছবির মধ্যে বেশ কিছু ছবি।

একই গুরুর দুই শিষ্যের চিত্রপ্রদর্শনীতে বসেছিল চাঁদের হাট। উপস্থিত ছিলেন দেশ বিদেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন চিত্রাভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাইদ্রাবাদ থেকে লক্ষ্মণ রাউত, দিল্লী থকে মানু পারেক, পরেশ মাইতি, মাধবী পারেক,  বাংলাদেশের শিল্পী সাহাবুদ্দিন, যোগেন চৌধূরী এবং সঞ্জয় ভট্টাচার্যের মত খ্যাতনামা শিল্পীরা।  উদ্বোধনের পর  চিত্রাভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমার খুব ভালো লাগছে, এরকম এক প্রতিষ্ঠানে মহান শিল্পীদের চিত্রপ্রদর্শনীতে উদ্বোধনের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।    

বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গেছে, কোলাকাতাস্থিত গভঃ আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর ছাত্র ছিলেন নন্দলাল বসু ও অসিত হালদার। অসিত হালদার ছিলেন সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একজন আত্মীয়।  ১৯১৯ সালে  যখন কলাভবন প্রতিষ্ঠিত তখন অসিত হালদারকে শান্তিনিকেতনে নিয়ে আসেন রবীন্দ্রনাথ। কলাভবনের অধ্যক্ষ না হলেও, কলাভবনের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।  মাত্র পাঁচজন ছাত্র নিয়ে কলাভবনের সূচনা হয় সেদিন। অসিত হালদার প্রায় দেড় বছর দায়িত্বে থাকার পর ১৯২০-২১ সালে কলাভবনের অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন নন্দলাল বসু। প্রথমদিকে প্রিয় ছাত্র নন্দলাল বসুকে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়তে চান নি। তারপর পাঞ্চাশের দশক পর্যন্ত। তারপর কলাভবনকে নিজের মত করে গড়েছিলেন তিনি। আসিত হালদারের সন্তান অধীশ হালদার কর্মসূত্রে নেদারল্যান্ডে থাকতেন। অধীশ হালদার তাঁর বাবার ৩২টি ছবি বিশ্বভারতীকে দিতে চান। সেই সময় কলাভবনের  দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক শিশির সাহানা। তিনি  কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক থেকে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি লিখে ছবিগুলো নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন।  সেই ছবিগুলো এযাবৎ ছবিগুলো প্রদর্শনীতে দেওয়া হয়নি। এবার প্রথম প্রদর্শনীতে থাকছে। ছবির বিষয়বস্ত ভালো।  এই প্রদর্শনী থাকছে ৬ অগাস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রদর্শনী খোলা থাকবে বেলা ১১টা থেকে। লাঞ্চ টাইমে বিরতির পর ফের বেলা ২টো থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only