সোমবার, ৫ আগস্ট, ২০১৯

বিশ্বভারতী এলাকা দখল মুক্ত করার দাবিতে বিশ্বভারতীর উপাচার্য ও অন্যান্য আধিকারিকদের অনশন

দেবশ্রী মজুমদার, শান্তিনিকেতন, ৫ অগাষ্ট:  বিশ্বভারতী এলাকা দখল মুক্ত করার দাবিতে বিশ্বভারতীর উপাচার্য ও অন্যান্য আধিকারিকরা  শুরু করলেন অনশন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী সংগঠন কর্মী সভা এবং শিক্ষকদের কাউন্সিল অধ‍্যাপক সভা এই আন্দোলন থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখায় আন্দোলনের দ্বিধাবিভক্ত ছবি কিছুটা হলেও ফুটে উঠেছে। যদিও দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই অনশন মঞ্চে না থাকতে পারার  কারণ দেখানো হয়েছে।
আন্দোলনরত কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা দখল মুক্ত করে সৌন্দর্য‍্যায়ন‌ করা। অভিযোগ, ক‍্যাম্পাসে জবর দখল করে আছে স্থানীয় ব‍্যবসাদাররা।
সোমবার সকালে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী এবং অন্যান্য আধিকারিকরা ১২ ঘন্টার অনশনে বসেন।  অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক‍্যাম্পাসের কাছে হস্তশিল্পের দোকান খুলে জায়গা দীর্ঘদিন জবর দখল করে আছেন স্থানীয় কিছু ব‍্যবসায়ীরা। আর তার ফলে অনেকাংশে ব্যহত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য‍্যায়ন। যদিও, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী সংগঠন কর্মী সভা এবং শিক্ষকদের কাউন্সিল অধ‍্যাপক সভা এই অনশন থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন। এক কর্মী জানান, যেহেতু সোমবার কোন ছুটির দিন নয়। সেক্ষেত্রে অনশনে উপস্থিত থাকতে হলে ক‍্যাজুয়াল লিভ নিতে হবে এবং কিছুটা রাজনৈতিক কারণে অনেক কর্মীরা এই কর্মসূচিতে যোগ দান করতে পারেননি। অন‍্যদিকে, অধ‍্যাপক বিপ্লব লৌহ চৌধুরী বলেন, অনেক ফ‍্যাকাল্টি মেম্বারস ও অন্যান্য অফিসিয়ালরা যৌক্তিক কারণেই এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। আমি কিছু ক্ষণের জন্য ছিলাম। এরপর ক্লাসে যাব। যখন বিশ্বভারতীর উপাচার্য ও আধিকারিকরা অনশন অবস্থানে, তখন ৫০ ফুট দূরে কবিগুরু হস্তশিল্প উন্নয়ন সমিতির ব‍্যানারে শান্তি পূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভে অনড় ব‍্যবসায়ীরা।
গতমাসে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষকদের নিয়ে এর প্রতিবাদে মিছিল করে। চলতি বছরের জুন মাসে ভুবন ডাঙা মার্কেটের ব‍্যবসায়ীদের উঠে যাওয়ার নোটিশ পাঠায় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দখলদাররা জানান, তাদের ওই জায়গায় ব‍্যবসা করার অনুমতি আছে। তার পর উপাচার্য আধিকারিকদের নিয়ে অনশনে বসতে বাধ্য হন। উপাচার্য বলেন, কিছু স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে ব‍্যবসা চালাচ্ছেন। আমরা বলপ্রয়োগ করে জায়গা উদ্ধার করতে চাইছি না। আমরা তাঁদের অনুরোধ করেছি।  তাঁদের জন্য অন‍্য বিকল্প জায়গার ব‍্যবস্থা আমরা করতে চাইছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তাঁরা শুভবুদ্ধির বশবর্তী হয়ে আমাদের প্রস্তাব তাঁরা মেনে নেবেন। জানা গেছে,  বর্তমানে জায়গা থেকে আধ কিলোমিটার দূরে  রতন পল্লীতে তাদের জন্য একটি হস্তশিল্পের বাজারের ব‍্যবস্থা করা হয়েছে। এটা করা হচ্ছে, কারণ গত বছর ন‍্যাকের র‍্যাঙ্কে বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্লাস পয়েন্ট পায়। সেক্ষেত্রে সৌন্দর্য‍্যায়নে শূন্য পায়। অগাস্টের ১৬ তারিখ দেশের উপরাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু শান্তি নিকেতন আসছেন। তার আগেই সৌন্দর্য‍্যায়নে নজর দিতে চায় কর্তৃপক্ষ। অন‍্যদিকে, কবিগুরু হস্তশিল্প উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক আমিনুল হোদা বলেন, প্রায় ৩৫-৪০ বছর ধরে আমরা এখানে ব‍্যবসা করছি। আমরা বিশ্বভারতীর জায়গা দখল করি নি। পূর্ত দফতরের জায়গায় আমরা আছি। তারা বললে আমরা উঠে যাবো। বর্তমান বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ আমাদের মত ক্ষুদ্র ব‍্যবসায়ীদের উপর আঘাত করতে চাইছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only