সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

অমিতের শাহের সফর ঘিরে তপ্ত হয়ে উঠছে মিজোরাম

আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে নাগরিকত্ব আইন (সংশোধনী) পাস করাতে মরিয়া মোদি সরকার। এমনিতেই লোকসভায় এই আইন তারা আগেই পাস করাতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যসভায় তা তারা পাস করাতে পারেনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার কারণে। এখন লোকসভাতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে তাদের হাতে। শীতকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে রাজ্যসভাতেও তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সেক্ষেত্রে সংসদের দুই কক্ষে বিলটি পাস করাতে আর কোনও সমস্যাই হওয়ার কথা নয় মোদি সরকারের। আর সেই লক্ষ্যেই উত্তর-পূর্ব সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এমনিতেই নাগরিকত্ব আইনের তীব্র বিরোধী উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি। তাদের অভিযোগ– এই আইন কার্যকর হলে তাদের অস্তিত্ব ও সংস্কূতি হুমকির মুখে পড়বে। মনে করা হচ্ছে তাদের ক্ষোভ প্রশমিত করতেই ৫ অক্টোবর মিজোরাম সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শাহ। এদিকে, শাহর এই সফর ঘিরে রীতিমতো তপ্ত হয়ে উঠেছে মিজোরাম। সূত্রের খবর, তাঁর এই সফরের বিরোধিতা করতে পারে একাধিক মিজো সংগঠন। কারণ– তারা এই নাগরিকত্ব আইনের প্রবল বিরোধী। জানা গিয়েছে– রাজ্যের একাধিক ছাত্র ও নাগরিক সংগঠন অমিতের সফরের বিরোধিতা করার পরিকল্পনা করছে। তারা মনে করছে– নাগরিকত্ব বিল পাসের রাস্তা সাফ করার লক্ষ্যেই মিজোরাম সফরে আসছেন শাহ। ৫ অক্টোবর মিজোরামের রাজধানী আইজলে আসছেন শাহ। নাগরিকত্ব বিল সহ একাধিক ইস্যু নিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। উল্লেখ্য– সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে– বাংলাদেশ– পাকিস্তান– আফগানিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে আসা হিন্দু– শিখ– খ্রিস্টান– জৈন– বৌদ্ধ ও পার্সিদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। উল্লেখ্য– লোকসভায় পাস হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনি বিলটি চলতি বছরের শুরুতে অকোজো হয়ে যায়– কারণ তা রাজ্যসভায় পেশ করতে পারেনি মোদি সরকার। তখন রাজ্যসভায় মোদি সরকারের হাতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না। এখন সেটা সম্ভব হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, শীতকালীন অধিবেশনের আগেই রাজ্যসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ফেলবে বিজেপি। ফলে তাদের পক্ষে তখন আর এই বিল পাস করাতে কোনও সমস্যা হবে না। তবে, বিলটি অকোজো হয়ে যাওয়ায় এখন ফের লোকসভায় তা পাস করাতে হবে মোদি সরকারকে। তারপর রাজ্যসভায় পাস করাতে হবে। যদিও মিজোরাম এনজিও কো-অর্ডিনেশন কমিটির সম্পাদক লালমাছুয়ান জানান– তাঁরা শাহর সফরের বিরোধিতা করবেন। আগেও তাঁরা এই বিলের বিরোধিতা করেছিলেন। এখনও তাঁরা নিজেদের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, শাহ আইজল বিমানবন্দরে পৌঁছালে সেখানে তাঁরা কালো পোশাক পরে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখাবেন। বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে দিল্লি ফিরে যাওয়ার দাবি জানাবেন। যদিও বিজেপির মিজোরাম ইউনিটের সভাপতি জে ভি হুনা সব সংগঠনের কাছে আবেদন করেছেন শাহর সফরের বিরোধিতা না করার জন্য। তিনি বলেন– কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো একজন হেভিওয়েট মন্ত্রী রাজ্যে আসছেন। বিশেষ কিছু প্রজেক্ট নিয়ে আসছেন। বিরোধিতা করে সেই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়।             




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only