শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আল-সিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিশর জুড়ে, জেগে উঠেছে তাহরির স্কোয়ার

কায়রোর তাহরির স্কোয়ারের ২০১১ সালের গণ বিক্ষোভের ছবি দেখা গেল শুক্রবার সন্ধ্যায়। হাজার হাজার মানুষ সামরিক শাসক আল-সিসির পদত্যাগ চেয়ে জড়ো হয় তাহরির স্কোয়ারে, যেমনটি দেখা গিয়েছিল ২০১১ সালে আর এক সামরিক শাসক হোসনি মুবারককে গদিচ্যুত করার জন্য।

তাহরির স্কোয়ার ছাড়াও মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেকজান্দ্রিয়া এবং সুয়েজ শহরেও একইরকম বিক্ষোভ দেখা যায়। সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের খবর পাওয়া গিয়েছে টেকস্টাইল শহর মহল্লা আল-কুরবা থেকে।মুহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতা থেকে হটানোর পর সেনানায়ক আল-সিসি আমেরিকার মদদ নিয়ে মিশরে সামরিক শাসক হিসেবে জেঁকে বসেন। সারাদেশে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ বন্ধ রাখার জন্য সামরিক আইনে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। মুহাম্মদ মুরসিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগে বহু রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মীকে গ্রেফতার করে জেলে পুরে রাখা হয়েছে। সাংবাদিকদের স্বাভাবিক গতিবিধিও বন্ধ। বহু সাংবাদিককে জেলে ভরে দেওয়া হয়েছে। আল জাজিরার সাংবাদিকদের মিশর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই শুক্রবারের বিক্ষোভ নিয়ে সরকার নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল শুধু দেখিয়েছে– ‘তাহরির  স্কোয়ারে কিছু মানুষ সেলফি তুলতে এসেছে।’ কিন্তু রয়টার্স– এপি সহ বিদেশি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে– ‘সিসি হঠাও’ পোস্টার নিয়ে পথে নেমেছে হাজার হাজার যুবক। কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত বিক্ষোভ না হলেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ শুরু হয়ে যায় মিশরজুড়ে। শুক্রবার কায়রোয় একটি ফুটবল ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে--- আর ভয় নয়– পথে নেমে এসো– সিসিকে তাড়াও। এই আহ্বান প্রথমে জানায় মিশরের একজন বড় বিল্ডার ও ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আলি। মুহাম্মদ আলি বর্তমানে স্পেনে নির্বাসিত রয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান– আল-সিসি দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় করেছে। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত হবে এখনই আল-সিসিকে গ্রেফতার করা। এই ডাক দেওয়ার পরই মানুষ পথে নেমে আসেন পোস্টার প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে। সরকারের তরফে জানানো হয়, বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সংখ্যা জানানো হয়নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only