বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

যারা দেশের সংবিধান বিনষ্ট করতে চাইছে, তাদের হাতই ভেঙে দিতে হবে:­ ইমরান

‘দেশের সংবিধান ভাঙার চেষ্টা চলছে। সংবিধান যারা ভাঙার চেষ্টা করছে তাদের হাত ভেঙে দিতে হবে। না হলে দেশকে রক্ষা করা যাবে না। দেশের অখণ্ডতা রক্ষা করা যাবে না।’ জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির ডাকে শান্তি ও একতা সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় একথা বলেন সাংসদ ও পুবের কলমের সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান। এ দিনের সম্মেলনে আহমদ হাসান ইমরানের তেজস্বী বক্তব্যে মুহূর্মুহূ করতালি দেন বহরমপুর রবীন্দ্রসদন ভর্তি জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ।
সাংসদ ও সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান বলেন, দেশভাগের কুফল এখন সকলেই ভোগ করছেন। স্বাধীনতার প্রাক্কালে দেশভাগের পক্ষে ছিল কংগ্রেস, মুসলিম লিগ, হিন্দু মহাসভা– বামপন্থীরা। তখন কিন্তু দেশভাগের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। বার বার এই সংগঠন দেশভাগের বিরোধিতা করেও তা আটকাতে পারেনি। এমনকী বামপন্থী নেতা জ্যোতি বসুও দেশভাগের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সারা দেশে ইনসাফের জন্য লড়াই করে। বন্যা-দুর্গত থেকে শুরু করে যেকোনও বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য কাজ করে এই সংগঠন। আর আজ যারা দেশ শাসন করছে তারা বাবাসাহেব আম্বেদকরের তৈরি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সংবিধানকে ভাঙার চেষ্টা করছে। সংবিধান নষ্ট করলে দেশকে বাঁচানো যাবে না। সংবিধান ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। মা সীতাকে অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়েছিল। দু’বার অগ্নিপরীক্ষা দেওয়ার পরেও বিশ্বাস আনতে পারেননি। তৃতীয়বার অগ্নিপরীক্ষার জন্য বললে তিনি মাটির নীচে চলে যান। অগ্নিপরীক্ষা দেননি। আমরা বাংলার মানুষ কিন্তু মাটির নীচে যাব না। আমরা প্রতিরোধ করব। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন--- মরবো তবু এনআরসি করতে দেব না। আমাদেরও একই কথা, নেত্রীর পথেই মরবো, তবু এনআরসি করতে দেব না। মুর্শিদাবাদ নবাব সিরাজউদ্দৌলার জেলা– মীর কাশিমের জেলা– বদরুদ্দোজার জেলা। এখানকার মানুষ লড়াই করতে জানে, বশ্যতা স্বীকার করে না। তাই তো মাত্র ২১ বছর বয়সে সিরাজউদ্দৌলাকে খুন হতে হয়েছিল। মুহাম্মদ আলি জিন্না বদরুদ্দোজা সাহেবকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর করতে চেয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি নিজের দেশ ছাড়েননি। 

আরএসএসের সমালোচনা করে ইমরান সাহেব বলেন, ওরা তো ‘অখণ্ড ভারত’ চায় বলে দাবি করে। অখণ্ডতার মানে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান। তাহলে অখণ্ড ভারতের মানুষ যে যেখানে খুশি বাস করলে তোমাদের আপত্তি কেন? এটা ওদের দু-মুখো নীতি। দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। অন্যান্য রাজ্যে হাজার হাজার কৃষক আত্মহত্যা করছে। মানুষ খাবার পাচ্ছে না। হাজার হাজার কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। লক্ষ-লক্ষ মানুষ কাজ  হারাচ্ছে। যেখানে মানুষ খাবার পায় না– কাজ পায় না, সেখানে টয়লেট করে ‘স্বচ্ছ ভারত’ বানাচ্ছে। আচ্ছা বলুন তো– পেটে খাবার না থাকলে টয়লেটে কী হবে? বহরমপুরের মতো শহরে খাবির সেখকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। আমাদের দাবি, গরিব এই খাবির সেখের পরিবারের জন্য ইনসাফ চাই। দোষীদের সবাই এখনও গ্রেফতার হয়নি। শুধু গ্রেফতার নয়, উপযুক্ত শাস্তি যেন দোষীদের হয়, তার দায়িত্ব পুলিশকে নিতে হবে। দেশে যারা তিন তালাকের বিরুদ্ধে মামলা করতে যায় তাদের জন্য আইনমন্ত্রীর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে যায়। আর গুজরাতের দাঙ্গায় খুন হওয়া সাংসদ এহসান জাফরির স্ত্রী-র কান্না কেউ দেখতে পায় না। ১৭ ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে মেরে, ‘জয় শ্রীরাম’ বলানোর চেষ্টা করেছে তাবরেজ আনসারিকে। সেই ভিডিয়ো ফুটেজ ভাইরাল হয়েছিল। সেই তাবরেজ খুনে যুক্ত ১১ জন বেকসুর খালাস পেলেও দিল্লির শাসক নেতারা একটাও শব্দ করেনি। 

পুবের কলমের সম্পাদক ঘোষণা করেন, শীঘ্রই পুবের কলমে এনআরসির জন্য কী কী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগবে তা প্রকাশ করা হবে। আপনারা সেইসব কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখুন। আমরা বাংলায় এনআরসি করতে দেব না। যদি আটকাতে না পারি তখন বাঁচার জন্য এইসব কাগজপত্র কাজে লাগবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only