বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

গণহত্যার আশঙ্কায় আরাকান থেকে পালাতে ব্যর্থ ৬ লক্ষ রোহিঙ্গা

রাষ্ট্রসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দলের রিপোর্ট

রোহিঙ্গাদের মায়ানমার ফেরা নিয়ে যখন চাপ দেওয়া হচ্ছে, তখন চরম আশঙ্কার কথা শোনাল রাষ্ট্র সংঘ। মায়ানমারে পাঠানো রাষ্ট্র সংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দল সেখানে তদন্ত চালিয়ে যে রিপোর্ট পেশ করেছে তা রোহিঙ্গাদের কপালে ফের আতঙ্কের ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। রাষ্ট্র সংঘের দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, যেসব রোহিঙ্গা মুসলিম মায়ানমারে রয়ে গেছেন তারা এখন ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের মুখোমুখি হয়ে রয়েছে। এ নিয়ে সেনাবাহিনীকে সতর্ক করা অসম্ভব। রাষ্ট্র সংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল দ্বারা গঠিত যে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দল মায়ানমারে পাঠানো হয়েছে, গতবছর তারা বলেছিল, ২০১৭ সালে মায়ানমার সেনাবহিনীর অভিযান ছিল একটা গণহত্যা। এর জন্য মায়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হলাইংকে দায়ী করা হয়।

উল্লেখ্য, মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, হত্যা, ধর্ষণ ও অত্যাচার থেকে বাঁচতে ৭,৪০০০০ রোহিঙ্গা সীমান্তবর্তী বাংলাদেশে পালিয়ে গেছিল। সেখানে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদেরকে বাংলাদেশ সরকার মায়ানমারে ফেরত পাঠাতে চাইলেও তারা কোনও মতে ফিরে যেতে চাইছে না। তার বলছে, তাদেরকে মায়ানমারে ফেরত পাঠানোর চাইতে গুলি করে মেরে ফেলা ভালো। তাই অনেকেই মায়ানমারে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আর যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বা অন্যত্র পালিয়ে যেতে পারেনি মায়নামারের আরাকানের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তারাও এখন মায়ানমার সেনাদের হাতে মৃতু্যর ভয় করছে। তাই তারা মায়ানমার ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে।

মঙ্গলবার রাষ্ট্র সংঘের সদর দফতর জেনেভায় পেশ করা রাষ্ট্র সংঘের তদন্ত কমিটি রিপোর্ট পেশ করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে রাষ্ট্র সংঘের প্রতিনিধি দলের রিপোর্ট বলছে– পালাতে ব্যর্থ হয়ে আরাকানে থেকে যাওয়া প্রায় ৬ লক্ষ রোহিঙ্গা খুবই খারাপ ও শোচনীয় অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। মায়ানমার সম্পর্কে দেওয়া তাদের চূড়ান্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে– মায়ানমারে এখনও হত্যাযজ্ঞ করার প্রবণতা রয়েছে। তাই সেখানে থাকা রোহিঙ্গারা গণহত্যার আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে। 

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বাড়িহারা করে দেওয়ার পর সেখানকার ধ্বংসের প্রমাণপত্র নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। কোনওরকম তদন্ত করতে অস্বীকার করছে। যদিও রাষ্ট্র সংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির দেওয়া রিপোর্টকে এক পক্ষ বলে অভিহিত করেছেন মায়ানমারের সেনা মুখপাত্র জ মিন তিন। তিনি আরও গভীরে গিয়ে তদন্তের দাবি করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only