রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

এনআরসি নামক বিষের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: গোপাল শেঠ


এম এ হাকিম, বনগাঁ 

উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁর প্রাক্তন বিধায়ক ও তৃণমূল নেতা গোপাল শেঠ বিজেপিকে টার্গেট করে বলেছেন, ভারতে এনআরসি নামক বিষ ছড়ানো হয়েছে। এর বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। আজ রবিবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাগদার মামাভাগিনা এলাকায় এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি ওই মন্তব্য করেন।     
তিনি বলেন, ‘রাজ্যবাসীর সামনে এক সমূহ বিপদ আসছে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে বলছি, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নামক এক বিষাক্ত পয়জন গোটা ভারতে ছেড়ে দিয়েছে। বাঙালিদের উৎখাত করার চেষ্টা হচ্ছে। এজন্য প্রত্যেককে শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনআরসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন বাংলায় কোনোভাবেই এ জিনিস চালু করবেন না।’ 
গোপাল শেঠ বলেন, ‘এনআরসি থেকে যাদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে তাঁদের নাম কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না। সেই লক্ষ্যে প্রত্যেক ক্লাব, প্রত্যেক মানুষকে তাঁদের নিজেদের স্বার্থে, কোনও বৃদ্ধা মাকে যেন আধার কার্ড, আইকার্ড দরজায় দরজায় না ঘুরতে হয় সেজন্য এগিয়ে আসতে হবে। এনআরসির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাঠে নেমেছেন।’ 
তিনি বলেন, ‘ভোটে কে কি করবেন সেটা পরের ব্যাপার। কিন্তু এই আন্দোলনে আমাদের সকলের যুক্ত থাকতে হবে। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ডাক দিয়েছিলেন, তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো। একইভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, তোমরা আমার সঙ্গে পায়ে পায়ে হেঁটে চলো, আমি তোমাদের এখানে এনআরসি বন্ধ করে দেবো। আসুন আমরা সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে দলমত নির্বিশেষ প্রতিবাদে গর্জে উঠি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখি।’
গোপাল শেঠ বলেন, ‘অসমে এরআগে এনআরসি থেকে যে চল্লিশ লাখ লোকের নাম বাদ দেয়া হয়েছিল, আমার আইনি প্রচেষ্টাতে তাঁরা ভোট দিতে পেরেছিল। বর্তমানে যে ১৯ লাখ লোকের নাম বাদ পড়েছে যারা গরীব মানুষ, যারা আবেদন করতে পারেননি অথচ ভোটার তালিকায় নাম ছিল, তাঁদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।’ 
এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে গোপাল শেঠ বলেন, ‘এনআরসির বিরুদ্ধে আমি রাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্র দফতর, জাতিসঙ্ঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন জায়গায় চিঠি দিয়েছি। বাংলার মানুষকে বাঁচানোর জন্য আমি ছুটে যাচ্ছি সুপ্রিম কোর্টে। হয়ত আমাকে গ্রেফতার হতে হবে, আমিই হয়ত প্রথম শহীদ হবো। কারণ আমি ওই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে লড়তে যাচ্ছি। এজন্য আপনারা আমাকে আশীর্বাদ করুন দোয়া করুন সেই কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে করে আসতে পারি।’
গোপাল বাবু এরআগে এনআরসিজনিত কারণে অসমে ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল তাঁর প্রতিবাদে চলতি বছরের মার্চে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদের ভোটাধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা হয়।
আজ এক সাক্ষাৎকারে গোপাল শেঠ বলেন, ‘এনআরসি থেকে মানুষজনের নাম বাদ পড়া, ডিটেনশন ক্যাম্পের নামে মানুষজনকে হয়রানি করা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ইত্যাদির অভিযোগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয়স্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিকস্তরে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব, নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি, জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত হাই কমিশনারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাকে বিষয়টি নিয়ে চিঠি দিয়েছি। যদি কোনও সুরাহা না হয় তাহলে আবারও সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলার পথে যাবো।’
সবমিলিয়ে তৃণমূল নেতা ও সাবেক বিধায়ক গোপাল শেঠ এরআরসি বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only