শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

অর্থনীতির দেউলিয়াপনার অভিযোগে কেন্দ্রকে তোপ মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের

চিন্ময় ভট্টাচার্য:- যোজনা কমিশন তুলে দিয়েছেন। তৈরি করেছেন নীতি আয়োগ। কিন্তু, সেটা কার্যত তাঁর তোতাপাখি। আর সেই সুযোগে মিলিয়ন, বিলিয়ন আর ট্রিলিয়ন অর্থনীতির গল্প ফাঁদছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু, একবারের জন্যও গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে কোনও রূপরেখার হদিশ তিনি দিতে পারছেন না। শুক্রবার তাজ বেঙ্গলে বণিকসভা এমসিসিআই আয়োজিত সভায় কেন্দ্রের আর্থিক নীতির বিরুদ্ধে কার্যত এই ভাষাতেই তোপ দাগলেন রাজ্যের ক্রেতা-সুরক্ষা এবং উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে।

'এমসিসিআই ইন্ডিয়া ইকোনমিক ফোরাম, ২০১৯' শীর্ষক এই আলোচনায় মন্ত্রী বলেন, 'দেশের ৮০ শতাংশ গ্রাম। সেখানে গ্রামভিত্তিক অর্থনীতির ওপর জোর না-দিয়ে আর্থিক বিকাশের স্বপ্ন দেখা বোকামি। কিন্তু, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার সেটাই করে চলেছে।' নরেন্দ্র মোদির নাম উচ্চারণ না-করে তিনি বলেন, 'একদিকে একের পর দেশ ঘুরে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত একটাও শিল্প এনে দেখাতে পারেননি। উলটে কর্মী সংকোচন, খরচ কমানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। কিন্তু, তাতে বেকারত্ব বাড়ছে। আসলে দেশের প্রকৃত পরিস্থিতির সঙ্গে অর্থনীতির তালমিল রাখতে রাখতে পারছে না বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার।'

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পাশাপাশি, এদিন সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্থিক নীতির সাফল্যও তুলে ধরার চেষ্টা করেন সাধনবাবু। বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই গ্রামীণ অর্থনীতিকে পাখির চোখ করেছেন। এজন্য তিনি স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোর বিকাশে জোর দিয়েছেন। এই সব স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলো উঠে আসায় রাজ্যে বেকারত্ব কমেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। যে সব স্বনির্ভর গোষ্ঠী ভালো কাজ করছে, তাদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। তাদের আলাদা করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে রাজ্য সরকার।' মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আর্থিক নীতি কেন্দ্রীয় সরকার অনুসরণ করলে দেশের অর্থনীতির এই করুণ দশা হত না-বলেও, সভায় শিল্পপতিদের বুঝিয়ে দেন সাধনবাবু।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only