বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কী হল?

১৯৮৯ সাল পর্যন্ত কোনও মামলাতে দাবি হয়নি বাবরি মসজিদের মধ্যে রামের জন্ম হয়েছেঃ জাফর ইয়াব জিলানি

অযোধ্যা মামলার শুনানি চলাকালীন মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী জাফর ইয়াব জিলানি জানিয়েছিলেন, রামচবুতরাকে রামের জন্মস্থান বলা হচ্ছে। কিন্তু বুধবার সেই মন্তব্য খণ্ডন করে এই বরিষ্ঠ আইনজীবী আদালতে জানালেন– সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড স্বীকার করে না মসজিদ থেকে ৬০ ফুট দূরে চবুতরাকে প্ল্যাটফর্ম বা রামের জন্মস্থান হিসেবে। গতকাল তিনি বলেছিলেন– ১৮৮৫ সালে ফৈজাবাদ আদালতের বিচারক রায় দেন– রামচবুতরাকে রামের জন্মস্থান গণ্য করে হিন্দুরা সেখানে পূজা উপাসনা করে আসছে। জাফর ইয়াব জিলানি বলেন, তিনি বিচারকের কথাই বলতে চেয়েছেন। তবে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়নি, এটাও স্বীকার করেছেন। 

গতকালের মন্তব্য সংশোধন করে জিলানি বুধবার বলেন, ‘বাল্মিকী রামায়ণ’ ও ‘রামচরিত মানস’-এ কোথাও উল্লেখ নেই নির্দিষ্ট করে যে, রাম এখানেই জন্মগ্রহণ করেছেন। অযোধ্যায় জন্মেছেন এমনও লেখা নেই।

জিলানি আরও বলেন, আবুল ফজলের ‘আইন-ই- আকবরী’তেও হিন্দুদের এই ধারণার কথা লেখা নেই যে– বাবরি মসজিদের মূল গম্বুজের নীচেই রাম জন্মগ্রহণ করেছেন– যে গম্বুজটি অবশ্য ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। 

জাফর ইয়াব জিলানির আজকের মন্তব্যে যে বিষয়গুলি সামনে এসেছে তা হল--- (১) হিন্দুরা রাম চবুতরায় উপাসনা করছে এমন কোনও কথা গেজেটেও উল্লেখ নেই। (২) রামের জন্মস্থান উল্লেখ করে অন্যত্র আরও একটি মন্দিরের অস্তিত্ব রেকর্ডে রয়েছে। (৩) রামকোর্ট ফোর্ট-কেও রামের জন্মস্থান গণ্য করা হয়। (৪) ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত কোনও মামলাতে দাবি করা হয়নি বাবরি মসজিদের মধ্যেই রামের জন্ম। ১৯৮৯ সালের আগে কেউ তাদের এই বিশ্বাসের কথা জানায়নি যে– বাবরি মসজিদের মধ্যেই রামের জন্ম হয়েছে। ১৯৫০ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত কোনও মামলায় এরকম দাবি করা হয়নি। (৫) ১৯৮৯ সালের আগে হিন্দুরা মসজিদের ভিতরে পুজো করতে চেয়েছে আর মুসলিমরা আপত্তি জানিয়েছে--- এমন কোনও প্রমাণ নেই। (৬) ১৮৬৫ সালের পর হিন্দুরা প্রথমে মসজিদের বাইরের অংশে এই দাবি জানাতে থাকেন।

আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার আইনজীবী মীনাক্ষী আরোরা বুধবার সংবিধান বেঞ্চে জানান– মহন্ত রঘুবর দাস প্রথম মন্দির বানানোর অনুমতি চেয়েছিলেন রাম চবুতরার উপরই। মসজিদের জায়গায় নয়। রাম চবুতরা মসজিদের দেওয়াল থেকে ৬০ ফুট দূরে। 

মীনাক্ষী আরোরা আজকে যেসব যুক্তি পেশ করেছেন তার মধ্যে উল্লেূযোগ্য বিষয় হল--- (১) এএসআই রিপোর্ট ভুলে ভরা। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে খননকার্য ও রিপোর্ট হয়নি। এমনকি এই রিপোর্টে স্বাক্ষরও নেই। এটা অভিমত– বিজ্ঞান সম্মত সার্ভে রিপোর্ট নয়। (২) মসজিদের নীচে মন্দিরের ঢাঁচার কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। (৩) কোনও বিল্ডিং ভেঙে মসজিদ তৈরি হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ নেই। (৪) সোমনাথে পাওয়া গিয়েছিল মন্দির ভেঙে ফেলার চিহ্ন। কিন্তু অযোধ্যায় সেরকম কোনও প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। (৫) এলাহাবাদ হাইকোর্ট যে এএসআই রিপোর্ট বিচার করেছে সেটি দুর্বল এবং অভিমত ছাড়া আর কিছু নয়। (৬) মন্দিরের অস্তিত্ব ছিল এমন কিছু প্রমাণ দেওয়ার দরকার। কোনও পর্যটকের লেখাই তাদের কাছে একমাত্র প্রমাণ। (৭) এই মামলায় মন্দির ধ্বংস অন্যতম গুরুত্বর্পূ বিষয়– কিন্তু এএসআই রিপোর্টে সেই ডেমোলিশন নেই। (৮) ১৮৬৩ সালে আদালত সেূানে মন্দির বানাবার অনুমতি দেয়নি। আদালতের রায় ছিল– ৩৫০ বছর পর স্থিতাবস্থা বা স্ট্যাটাসকে পাল্টে দেওয়া হবে এটা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় নয়। আর এূন ৫০০ বছর পর কেবলমাত্র মৌখিক দাবি ও গেজেটকে গুরুত্ব দিয়ে স্ট্যাটাসকে পাল্টে দেওয়া হবে?
উল্লেখ্য– প্রধান বিচারপতি সহ পাঁচ বিচারপতির সংবিধান বেঞ্চে চলছে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ স্থলের জমির মালিকানা নিয়ে মামলার শুনানি। বুধবার ছিল ধারাবাহিক শুনানির ৩১তম দিন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only