বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

প্রসূতি ও সদ্যোজাতর ৩ লক্ষ টাকার চিকিৎসা বিল মেটালেন ফিরহাদ

প্রসূতি অর্পিতা ঘটক
মানবিক মুখ ফিরহাদ হাকিমের

সাহাজান পুরকাইত­ 

জনপ্রতিনিধি মানে তিনি থাকবেন জনতার পাশে– যেকোনও বিপদে বাড়িয়ে দেবেন সাহায্যের হাত। সেই কথাকে সত্যি প্রমাণিত করে এবার বাস্তবেও দেখা মিলল প্রকৃত এক জনপ্রতিনিধির। তিনি আর কেউ নন। তিনি রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী এবং কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এক দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তির প্রায় তিন লক্ষ টাকার হাসপাতাল-বিল মিটিয়ে বুঝিয়ে দিলেন সরকার ও জনপ্রতিনিধিরা আছেন মানুষেরই পাশে। বুধবার বীরভূম সাঁইথিয়ার হরিসাহা পঞ্চায়েতের বাসিন্দা মৌসুমি ঘটক ‘টক টু মেয়র’ পরিষেবায় ফোন করে নিজের পরিবারের আর্থিক অনটনের কথা জানিয়ে তাঁর বৌদি ও সদ্যজাতের নার্সিংহোমের খরচ মেটানোর আর্জি জানান। েমৗসুমি ঘটক কলকাতা পুরসভা এলাকার বাসিন্দা না হলেও মানবিকতার খাতিরে এদিন তাঁর সমস্ত কথা ধৈর্য্য ধরে েশানেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। মৌসুমিকে আশ্বস্ত করে ফিরহাদ হাকিম বলেন– ‘আপনার চিন্তার কোনও কারণ নেই। আপনার বৌদি ও তার বাচ্চার সমস্ত নার্সিং হোম খরচ আমি নিজে মিটিয়ে দেব।’

এদিন মৌসুমি ঘটককে পুবের কলমের তরফ থেকে ফোন করা হলে তিনি জানান– গত ২৪ আগস্ট সাঁইথিয়ার বেসরকারি নার্সিংহোমে তাঁর বৌদি অর্পিতা ঘটক এক শিশুর জন্ম দেন। কিন্তু– অর্পিতা ঘটক সুস্থ থাকলেও দু’দিন পর সদ্যজাতর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। ডাক্তারের পরামর্শ মতো বীরভুম জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। েসখানকার ডাক্তারও শিশুটি বাঁচবে কি না আশ্বাস না দিতে পারায় বীরভুমের আরও এক বেসরকারি নার্সিং হোমে ভর্তি করানো হয়। সেখান থেকে কলকাতার নীলরতন সরকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এনআরএস থেকে গত শনিবার ইএম বাইপাসের আর এন টেগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় দশ দিনের শিশুটিকে। বাচ্চাটির দুটি ফুসফুসের সমস্যা আছে বলে আর এন টেগরের ডাক্তাররা জানিয়েছেন। গত দুদিন ধরে বাচ্চাটিকে েভন্টিলেশনে রাখা হয়েছে বলে মৌসুমি দেবী জানান। 

ফোনে তিনি আরও জানান– গত মঙ্গলবার আর এন টেগর কর্তৃপক্ষ দু-লক্ষ েষাল হাজার টাকার চিকিৎসা খরচের হিসাব দিয়েছেন। বুধবারের চিকিৎসা খরচ যোগ করলে টাকার অঙ্ক তিন লক্ষ পেরিয়ে যাবে। অভাবের সংসারে এত টাকা দেওয়া মৌসুমি দেবীর পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এলাকার একাধিক প্রভাবশালী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারস্থ হলেও সকলেই মুখ ফিরিয়ে নেয়। ‘দিশেহারা হয়েও ধৈর্য্য না হারিয়ে সাহায্যের আশায় ফিরহাদ স্যারকে কল করি। এটাই েশষ বারের মতো চেষ্টা ছিল। কিন্তু– ফিরহাদ স্যারকে বলায় উনি যে এক কথায় বিল মিটিয়ে দেবেন ভাবিনি। স্যারকে কী বলে ধন্যবাদ দেব বুঝতে পারছি না’– আবেগমথিত কণ্ঠে বলেন মৌসুমি ঘটক। 

 মৌসুমি দেবীর কাছ থেকে বাচ্চার মায়ের নাম ও হাসপাতালের বেড নম্বর জেনে নিয়ে ‘টক টু মেয়র’ পরিষেবা চলাকালীনই আর এন টেগর হাসপাতালের ম্যানেজারকে ফোন করে ওই বাচ্চার যাবতীয় চিকিৎসা খরচের বিল নিজের নামে করার নির্দেশ দেন ফিরহাদ হাকিম। বাচ্চার পরিবারের কাছ থেকে একটি পয়সাও না নেওয়ার পরামর্শ দেন মেয়র। বুধবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের ম্যানেজারের সঙ্গে মৌসুমির পরিবারকে দেখা করার কথাও জানান মেয়র। এবিষয়ে রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ মৌসুমি দেবী জানান– বাবার সঙ্গে হাসপাতালের ম্যানেজার সাহেবের দেখা হয়েছে। ম্যানেজার সাহেব জানিয়েছেন– আমাদের একটি টাকাও আর দিতে হবে না। এমনকি বুধবারের যে বিল হয়েছে– সেই খরচাও আর দিতে হবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আর এন টেগর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে। কলকাতার বাসিন্দা না হয়েও ‘টক টু মেয়র’ পরিষেবায় এক ফোনেই দু’লক্ষ টাকার বেশি আর্থিক সহায়তা পেয়ে খুশি বীরভুমের ঘটক পরিবার।  





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only