শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

জাগো বাংলার ‘উৎসব সংখ্যা’য় বিরোধীদের তোপ মমতার

 বিস্তর উন্নয়নের পরেও এই রাজ্যে অশান্তির বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা চলছে। মায়ের কৃপায় সব মিটে যাবে। শনিবার মহালয়ার দিন নজরুল মঞ্চে দলের মুখপত্র জাগো বাংলার ‘উৎসব সংখ্যা’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্যের আগে– তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ সন্ধ্যা রায় এই অনুষ্ঠানে রাজ্যজুড়ে অশান্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছিলেন। তারই সূত্র ধরে তৃণমূল সুপ্রিমো এ দিন বলেন– ‘সন্ধ্যাদি আপনার ইঙ্গিত আমি বুঝতে পেরেছি। মায়ের কৃপায় সব মিটে যাবে।’ 
এ দিন ‘উৎসব সংখ্যা’র পাশাপাশি– ‘মাটি’ শিরোনামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত এবং সুরারোপিত একটি গানের সিডিও উদ্বোধন হয়। সিডিটি উদ্বোধন করেন– ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’ অনুষ্ঠানের অন্যতম শিল্পী অসীমা ভট্টাচার্য। জাগো বাংলা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন– ‘এটি এমন একটি পত্রিকা– যেখানে কোনও কুৎসা থাকে না। এর মধ্যে বহু জানার মতো বিষয় থাকে। বহু শিল্পী– সাহিত্যিক– লেখক জাগো বাংলায় লেখেন।’ এই প্রসঙ্গেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন– ‘জাগো বাংলা সরকারি বিজ্ঞাপন ছাড়াই চলে। আমরা ক্ষমতায় আছি বলেই সরকারি বিজ্ঞাপন নেব– এমনটা আমি পছন্দ করি না। মাঝে কার না-কার একটা-দু’টো বিজ্ঞাপন বেরিয়েছিল– অমনি হইহই শুরু হয়ে গিয়েছিল।’ 
‘উৎসব সংখ্যা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৃণমূল সুপ্রিমো কঠোরভাবে বিজেপি বা বিরোধী রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মুখ না-খুললেও ‘উৎসব সংখ্যা’র নিবন্ধে অবশ্য তিনি কাউকে ছেড়ে কথা বলেননি। এবারের ‘উৎসব সংখ্যা’য় প্রকাশিত– ‘কিছু কথা কিছু ব্যথা’ শীর্ষক এক নিবন্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের উন্নয়ন এবং তা নিয়ে বিজেপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন। বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লিখেছেন- ‘বিজেপি এমন একটা দল– যাদের উন্নয়ন নিয়ে কোনও কথা নেই। মানুষের পরিষেবা নিয়ে একটিও শ· নেই। শুধু মিথ্যা আর কুৎসা। লুঠ। নিরন্তর অপপ্রচার– ধর্মীয় বিভেদের রাজনীতি– সঙ্গে এজেন্সি আর টাকা।’ অপপ্রচার ইস্যুতে বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেসকে একসারিতে রেখে ওই নিবন্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন– ‘বাংলা ভালো থাকলেও বিজেপি– সিপিএম ও কংগ্রেস দলের একটা ক্রমাগত প্রচার চলতে থাকে বাংলাকে বদনাম করার জন্য।’ 
ওই নিবন্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও লিখেছেন– ‘৩৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থেকে যারা বাংলাকে মানুষের ভাষায় ‘লোডশেডিং’-এর সরকারে পরিণত করেছিল– আর বাংলাকে সর্বক্ষেত্রে একেবারে শেষ সীমানায় পৌঁছে দিয়েছিল। যারা সুযোগ পেয়েও বাংলাকে ঋণগ্রস্ত এক ব্যর্থ সরকারে পরিণত করেছিল– তারা আজ মাত্র ৮ বছরে এগিয়ে যাওয়া বাংলাকে ও উন্নত বাংলাকে দেখে ‘গর্ব’ করার পরিবর্তে বাংলার সুনামকে খর্ব করতে চায়– তাদের কাছে জিজ্ঞাস্য যে তারা বিজেপি-র সুয়োরানি হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে আরও কত গালিগালাজ করবে? বিজেপি-র ঔদ্ধত্য ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন কোথায়? এখনকার যা রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেশে– তাতে উত্তরপ্রদেশ থেকে অসম সর্বত্রই এক ভয়াবহ চেহারা। কোথাও এনআরসি তো কোথাও ‘গণপিটুনি’। সাংবাদিক থেকে শুরু করে টিভি চ্যানেল– সব এখন শাসক দলের শোষক। এই অবস্থাতে ‘গণতন্ত্র ও বিচার’ সর্বত্রই নীরবে নিভৃতে কাঁদছে। এ জন্য তাই শুধু ভয় পেলে চলবে না। থমকে দাঁড়ানোর জায়গাও নয়। এগিয়ে পথ চলতে হবে।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়– ফিরহাদ হাকিম– সুব্রত বক্সি– পার্থ চট্টোপাধ্যায়– অর*প বিশ্বাস– ইন্দ্রনীল সেন সহ তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only