সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

মুসলিম ফ্যাশনকে নতুন মাত্রা দিচ্ছেন ইন্দোনেশিয়ার ডিজাইনার

হিজাবসহ ইসলামি রীতি অনুযায়ী হালাল জামাকাপড় গোটা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে চান ইন্দোনেশিয়ার এক তরুণী উদ্যোক্তা৷ তাঁর হাল ফ্যাশনের ডিজাইন দেশে-বিদেশে বেশ নজর কাড়ছে৷ইন্দোনেশিয়ার ডিজাইনার ডায়াজেং লেস্তারি আপাতত তাঁর ব্যবসা বৃদ্ধির কাজে মন দিচ্ছেন৷ আট বছর আগে তিনি হিজাপ নামের এক অনলাইন বিপণি গড়ে তোলেন, যেখানে মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য ডিজাইন করা জামাকাপড় বিক্রি হয়৷ যখন তিনি এই উদ্যোগ শুরু করেন, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বিদেশি কোম্পানিগুলিই ইন্দোনেশিয়ার বাজার দখল করে ছিল৷ তিনি সুযোগ বুঝে কাজে নেমে পড়েন৷

হিজাপ ওয়েবসাইটে যে পণ্য পাওয়া যায়, ইন্দোনেশিয়ার ২০০ ডিজাইনার সেগুলি সৃষ্টি করেছেন৷ কেনাকাটা, বিপণন, বিক্রি – সবই জাকার্তায় কোম্পানির সদর দপ্তর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়৷ ডায়াজেং লেস্তারির ১২০ জন সহকর্মী রয়েছেন৷

তিনি নিজের পরিচিত ক্ষেত্রেই ব্যবসা শুরু করতে চেয়েছিলেন৷ মুসলিম ফ্যাশন কড়া নিয়মে বাঁধা৷ নারীরা শুধু তাঁদের মুখচ্ছবি ও হাত প্রকাশ্যে দেখাতে পারেন৷ কাপড়ের মধ্যে জেলাটিন থাকলে চলবে না, কারণ প্রায়ই শুকরের চর্বি দিয়ে তা তৈরি করা হয়৷ এছাড়া আরও কিছু শর্ত রয়েছে৷ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ডায়াজেং বলেন, ‘‘গোটা প্রক্রিয়া হালাল হতে হবে৷ ইসলামি, শালীন বা মুসলিম ফ্যাশনের ক্ষেত্রে শুধু কাপড় পরা নয়, সেই কাপড় তৈরি করার ক্ষেত্রেও সচেতন থাকতে হয়৷ গোটা প্রক্রিয়া টেকসই করতে নিজেদেরই কাপড় উৎপাদন করতে হয়৷ এভাবে আমরা পরিবেশের উপর প্রভাব রাখতে পারি৷’’

১৪ বছর বয়স থেকেই লেস্তারি হিজাব পরছেন৷ তাঁর মা কিন্তু সেটা চাননি৷ আজ তিনি সেই একই ফ্যাশন বিক্রি করে ব্যবসা ভালই চালাচ্ছেন৷ অতীতে মূলত বয়স্কা নারীরাই হিজাব পরতেন৷ এখন তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে৷

ক্লাবের সদস্যদের এক অনুষ্ঠানে হাল ফ্যাশানের পণ্য দেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ কয়েকজন অতিথি ইনস্টাগ্রামেও ছবি পোস্ট করেছেন৷ আজকাল হিজাব খুব চলছে৷ সহজেই চোখে পড়ে৷

লেস্তারি ইন্দোনেশিয়ার ছোট স্টার্ট আপ জগতে হাতে গোনা নারীদের একজন৷ সেইসঙ্গে তিনি দুই শিশুসন্তানের মা৷ এমন এক তরুণী মা ব্যবসা চালাতে পারেন কিনা, তা নিয়ে কয়েকজন বিনিয়োগকারীর মনে সন্দেহ ছিল৷ তিনি দুদিক সামলাতে প্রায়ই বাসা থেকে কাজ করেন৷ ডায়াজেং লেস্তারি অন্যভাবে নেতৃত্ব দিতে চান৷ তাঁর মতে, ‘‘এই কোম্পানির বৃদ্ধি ও এটিকে টেকসই করে তোলা আমার দায়িত্ব৷ হয়তো নারী হওয়ার কারণে আমার নিজেকে ‘বস' মনে হয় না৷ মনে হয় আমরা একটা টিম৷ টিম ছাড়া আমি কিছুই করতে পারি না বলে মনে হয়৷ তাদের কাছে আমি নিজেকে টিমের অংশ হিসেবে তুলে ধরি৷’’

তাঁর কয়েকজন কর্মী এখন লন্ডনে কাজ করেন৷ তাঁরা সেখানে ই-কমার্স কোম্পানি চালু করছেন৷ ইন্দোনেশিয়ার এই উদ্যোগপতি তাঁর আধুনিক মুসলিম ফ্যাশন গোটা বিশ্বে পৌঁছে দিতে চান৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only