শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নে কেন্দ্রের গড়িমসিতে অসন্তুষ্ট শীর্ষ কোর্ট

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নে কেন্দ্রের ক্রমাগত গড়িমসি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ কোর্ট। ‘এক দেশ– এক আইন’ -এর জন্য কেন্দ্রকে বারবার পরামর্শ দেওয়া সত্ত্বেও দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনার ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপই তারা নিচ্ছে না– অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টের। শুক্রবার শীর্ষ কোর্ট এই ব্যাপারটিকে ‘সরকারের ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করে জানায়– কেন্দ্র সরকার কাজটি করতে পারছে না। অথচ গোয়াতে বেশ ভালো ভাবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চলছে।  জনৈক গোয়ানিজ দম্পতির বিবাহ-বিচ্ছেদের একটি মামলার রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি দীপক গুপ্ত ও অনিরুদ্ধ বসুর বেঞ্চ আরও মন্তব্য করে যে– গোয়া হচ্ছে অভিন্ন দেওয়ানির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এখানকার সমস্ত ধর্মের মানুষদের জন্যই এটি বিবেচ্য। 
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য– ঔপনিবেশিক সময়ে গোয়াতে পর্তুগিজরা উপনিবেশ গড়ে তোলে। পরে তারা বিদায় নিলেও আইন থেকে যায়। ফলত– গোয়ার যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তা অনেকটাই ১৮৬৭-এর পর্তুগিজ সিভিল কোডের অনুসরণ। কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন করা হয়েছে অবশ্য। তবে এই বিধির মধ্যেও যে পুরোটাই ‘ইউনিফর্ম’ তা কিন্তু নয়। হিন্দুদের বিশেষ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতি রয়েছে এই বিধিতে। কোনও হিন্দু-স্ত্রী যদি ২৫-৩০ বছরের মধ্যে সন্তান জন্ম দিতে না পারেন– তবে তার স্বামী ফের বিয়ে করতে পারবেন। তবে অন্য ধর্মের নাগরিকদের জন্য গোয়ায় এই সুবিধা নেই। তবুও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা এই গোয়ার দেওয়ানি বিধিকেই দেশের সামনে ‘আদর্শ’ হিসেবে পেশ করছেন। 
বিচারপতি দীপক গুপ্ত উল্লেখ করেন– এখানে মুসলিমরা মৌখিক তালাকের মাধ্যমে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে না– বহুবিবাহ তো নয়ই। আর যদিও বা বিচ্ছেদ ঘটে– তবে সম্পত্তি দম্পতির মাঝে সমানভাগে ভাগ করতে হয়।
ক্ষুব্ধ বেঞ্চ আরও জানাচ্ছে– সংবিধান-প্রণেতারা ‘ডিরেক্টিভ প্রিন্সিপ্যালস অফ স্টেট পলিসি’তে (অনুচ্ছেদ ৪৪) স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন– দেশে একটি অভিন্ন বিধি প্রণয়ন করার জন্য সরকার উদ্যোগ নেবে। অথচ আজ পর্যন্ত সে বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কিছুই পদক্ষেপ নেওয়া হল না। হিন্দু আইনগুলিকে ১৯৫৬ সালে বিধিবদ্ধ করা হলেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে কোনও হেলদোল নেই। অথচ সুপ্রিম কোর্ট এ নিয়ে বেশ কয়েকবার কেন্দ্র সরকারকে তাগাদা দিয়েছে।
 শীর্ষ কোর্ট সংসদকে বিধি তৈরির জন্য পরামর্শ বা তাগাদা দিতে পারে। কিন্তু নির্দেশ দিতে পারে না। আর গড়িমসির মাধ্যমে সেই দুর্বলতারই সুযোগ নিচ্ছে কেন্দ্র। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only