মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বাংলায় এনআরসি’র আশঙ্কায় নথি সংগ্রহে স্টেট আর্কাইভ দফতরে বহু মানুষের ভিড়

সেখ কুতুবউদ্দিন

পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চালু করার ব্যাপারে সরকারিভাবে এখনও কোনও ঘোষণাই হয়নি। তা সত্বেও অসমের চুড়ান্ত নাগরিকপঞ্জির তালিকা থেকে ১৯ লক্ষ লোকের নাম বাদ পড়ায়্ এই রাজ্যের একাধিক জেলার মানুষ আতঙ্কে ভুগছেন। নাগরিকত্বের প্রশ্নে প্রামাণ্য নথি সংগ্রহের তাগিদে সোমবার সকাল থেকেই শেক্সপিয়ার সরণীতে ডিরেক্টরেট অব স্টেট আর্কাইভ-এর দফতরে বহু মানুষের ভিড়। উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গে একাধিক জেলার মানুষ এদিন দফতরের ঝাঁপ খোলার আগেই এসে হাজির হন নথি সংগ্রহের আবেদনপত্র জমা দিতে। উত্তর বঙ্গের কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মানুষজনদের যেমন দেখা গেল, তেমনই দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া– বর্ধমান– হুগলি– হাওড়া জেলার বাসিন্দাদের ভিড়ও কম ছিল না। সকলেই পুরোনো নথি সংগ্রেহের জন্য ব্যস্ত।

 আর্কাইভ দফতরের চত্বরেই দেখা মিলল চন্দনগরের সুব্রত সোম– খলিলুর রহমান– আমডাঙার আজাহার উদ্দিন সহ অনেকের। এনআরসি প্রসঙ্গ তুলতেই উদ্বেগের সঙ্গে তাঁরা একযোগে বললেন– সরকার ভোটার কার্ড– আধার কার্ড করেছে। মানুষরা দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিচ্ছেন। তবুও অসমে এনআরসির নামে যেভাবে দেশের নাগরিকদের হয়রানি করা হয়েছে, তার কাহিনী শুনে আমরাও আতঙ্কিত। তাঁদের আরও বক্তব্য, অসমে বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে বিদেশি তকমা দিয়ে দেশের মানুষদেরই ছোট করা হয়েছে। দেশের যাঁরা শাসক– তাঁদের প্রধান কর্তব্যই হল সাধারণ মানুষের সুবিধা অসুবিধা খতিয়ে দেখা। 

আমডাঙার আজহার উদ্দিন এই কথার সূত্র ধরেই এদিন বলেন, এই রাজ্যে এনআরসি নিয়ে এখনও কিছু ঘোষণা করা হয়নি ঠিকই। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই এই নিয়ে একটা প্রচার চলছে। তাই ভবিষ্যতে যাতে সমস্যায় পড়তে না হয় তার জন্যই আগাম নথি সংগ্রহে এূানে আসা। আজহারউদ্দিনের এই বক্তব্যের সঙ্গেই সহমত প্রকাশ করলেন চন্দনগরের সুব্রত সোম, খলিলুর রহমান এবং আরও অনেকেই।
ডিরেক্টরেট অব স্টেট আর্কাইভের সহ-অধিকর্তা সুবোধ চন্দ্র দাস এদিন বলেন– ৩১ আগস্ট অসমের নাগরিকপঞ্জির তালিকা প্রকাশের পর ভেবেছিলাম ‘ডকুমেন্ট’ দেওয়ার কাজ কিছুটা কমবে। কিন্তু এখন দেখছি কাজ আরও বেড়ে গেল। তিনি বলেন– এই রাজ্যের ব্যাপারে এনআরসি নিয়ে সরকারি ভাবে কোনও কিছু ঘোষণা না হলেও বহু মানুষ আসছেন পুরনো নথি সংগ্রহ করতে।
 তিনি বলেন– পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি লাগু হয়নি। কিন্তু এ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষরা এসে ‘সার্টিফাই কপি অব ভোটার’-এর তথ্য পাওয়ার জন্য আবেদন করছেন। ১৯৭১ সালের আগে অর্থাৎ ’৫২– ’৫৬– ’৬১– ’৬৬– ’৬৮ এবং ’৭১ সালের সার্টিফাই কপি নিতে আসছেন। 
  এদিকে পুরনো নথির জন্য আবেদনের ব্যাপারে আর্কাইভ দফতরে কিছু নিয়ম বিধি চালু করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আর্কাইভের আধিকারিকরা জানান– প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জনের আবেদন নেওয়া হচ্ছে।  সরাসরি ভাবে  দফতরে এসে আবেদনকারী আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি আবেদনকারীর আত্মীয়পরিজনেরাও এসে আবেদন জমা দিতে পারেন। তবে পুরনো নথি পেতে আবেদন পত্রের সঙ্গে সার্চিং ফি বাবদ দিতে হবে ২৫ টাকা। আবেদেনর ১৫-২০ দিন পর মিলবে ‘সার্টিফাই কপি অব ভোটার’। সার্টিফাই কপি সংগ্রহের সময় জমা দিতে হবে ২ টাকা মূল্যের কোর্ট ফি স্ট্যাম্প। প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য ২২৪১১০৪৪/২২৪১৩৯৬৬/২২১৪১৩৩৯/২২৮১০০৬১ নম্বরে বিস্তারিত জানানো যাবে। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only