রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বিজেপি-আরএসএসের দয়ায় আমরা এই বাংলায় থাকতে চাই না­: সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি

আমরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক নই। বিজেপি বা আরএসএসের দয়ায় আমরা এই বাংলায় থাকতে চাই না। রবিবার দেগঙ্গার বেড়াচাঁপার রহমতে আলম মিশনে আয়োজিত এক শিক্ষা সেমিনারে এসে এই বক্তব্য রাখেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি আরও বলেন, শিক্ষাই পারবে বাংলায় পরিবর্তন আনতে এবং শিক্ষাই পারবে বাংলার মুসলমানদের এগিয়ে নিয়ে যেতে।

‘বিশ্ব শান্তি ও অহিংসা দিবস’ উদযাপন উপলক্ষ্যে শনিবার ও রবিবার দুদিন ব্যাপি এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল রহমতে আলম মিশন। রবিবার ছিল দ্বিতীয় দিন। এদিন জিডি স্টাডি সার্কেল পরিচালিত মিশন কমন এডমিশন টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়। এই উপলক্ষ্যে অভিভাবকদের নিয়ে একটি শিক্ষামূলক আলোচনার আয়োজন করেছিল মিশন কর্তৃপক্ষ। রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে ‘শিক্ষাদরদী সম্মান’ দেওয়া হয় মিশনের পক্ষ থেকে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে ছেলে মেয়েদের শিক্ষায় বাবা মায়ের ভূমিকা কি তা স্মরণ করিয়ে দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দুঃখ-দুর্দশা আসবে। আবার চলেও যাবে। কিন্তু বাবা মাকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনি আপনার  ছেলে মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন। আর এটা করতে পারলে তবেই আপনি জিততে পারবেন। মায়েদের প্রতি অনুরোধ করে মন্ত্রী বলেন টাইলসের দোতলা– তিন তলা বাড়ি– গাড়ি পরে হবে। আগে বাচ্চাদের মানুষ করুন। যে লড়াই আজ পৃথিবীতে শুরু হয়েছে তার একটাই উত্তর হল শিক্ষা। শুধু ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার নয় সমাজের প্রতিটা শ্রেণিতে আমাদের ছেলে মেয়েরা স্থান দখল করুক বলে তিনি জানান। এজন্য তাদেরকে বই পড়তে মনোযোগী করতে হবে। বই হচ্ছে তাদের প্রকৃত বন্ধু। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষাই পারবে বাংলার পরিবর্তন আনতে। শিক্ষাই পারবে বাংলার মুসলমানদের এগিয়ে দিতে। ছাত্রদের উদ্দেশে সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব বলেন, খেলাধুলা বা বেড়ানোর সময় তোমরা অনেক পাবে। এখন তোমাদের পড়ার সময়। পড়াশোনা করে গবেষক বা লেখক হতে হবে। আর এই সুযোগের আয়োজন করেছে রহমতে আলম মিশন। এটা একটা গঠনমূলক দিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিন বিজেপি এবং আরএসএসের কঠোর সমালোচনা করেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক শক্তি উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছে। তারা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে। এটা রুখে দেওয়ার দ্বায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। এই বাংলার অমুসলিম ও মুসলিম সহ সমস্ত ধর্মের এবং বর্ণের মানুষকে একসঙ্গে থেকে তার উত্তর দিতে হবে। কারণ সমাজের বিভাজন রেখে কোনো উন্নতি করা যাবে না। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক নই। বিজেপি বা আরএসএসের দয়ায় আমরা এই বাংলায় থাকতে চাই না। এটা আমাদের জন্মভূমি। এটা আমাদের পৈত্রিক ভূমি। এখানে আমাদের নাড়ি পোঁতা আছে। তাই রহমতে আলম মিশনের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ নিতে এসেছি আমরা এক হয়ে থাকব। এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেগঙ্গার বিধায়ক রহিমা মন্ডল, রহমতে আলম মিশনের সম্পাদক আনিসুর রহমান বিদেশ, এম আমিনুল আম্বিয়া, আইয়ুব আলি, মনসুর আলি গাজি, জাকির হোসেন দফাদার প্রমুখ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only