সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

এনআরসি আতঙ্কে বাংলায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

এনআরসি আতঙ্কে বাংলায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। রবিবার আতঙ্কে েমাট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বসিরহাটে আত্মঘাতী হন কামাল হোসেন মণ্ডল(৩৬)। শাসনে মৃত্যু হয়েছে আয়েপ আলি(৫৫) নামে এক ব্যক্তির। ফলতায় মৃত্যু হয়েছে কালাচাঁদ মিদ্দে(৪৩)র।
 রবিবার ভোরে আত্মঘাতী হন বসিরহাট থানার সোলাদানা গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন মন্ডল। পেশায় ভাটা শ্রমিক কামাল বেশ কয়েকদিন ধরে জমির দলিল– প্রয়োজনীয় নথি ও কাগজপত্র নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। বসিরহাট ১ ব্লকের বিডিও অফিস ও অনলাইনে নথিপত্র যোগাড়ের আপ্রাণ চেষ্টাও করছিলেন তিনি। ব্লকের সহসভাপতি প্রশান্ত ঘোষ এর কাছে একাধিকবার যান কামাল। প্রশান্ত ঘোষ তাঁকে আশ্বাসও দেন। কিন্তু হতাশা ও আতঙ্ক তাঁকে গ্রাস করেছিল। রবিবার ভোরে  বাড়ির পিছনে আমবাগানে গলায় গামছা দিয়ে কামাল আত্মহত্যা করেন। স্ত্রী টুকটুকি বিবি ছোট দুই পুত্র সন্তান নিয়ে পড়লেন অথৈ জলে। বাবা শুকুর আলী বলেন– একমাত্র েরাজগেরে ছিল কামাল। সব শেষ হয়ে গেল। আমগাছে কামালের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠায়।
একই অবস্থা আয়েপ আলির। গত দশ দিন ধরে কখনো বিডিও অফিস আবার কখনো পঞ্চায়েত অফিসে যাচ্ছিলেন শাসনের চক আমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা আয়েপ। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কাগজপত্র সংশোধনের চেষ্টা করছিলেন তিনি। এমনিতেই কাগজপত্র ঠিকঠাক করার জন্য তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। তার উপর আবার খুঁজে পাচ্ছিলেন না ’৭১ সালের দলিল। শনিবার আয়েপ আলি স্থানীয় বারাসত দুই বিডিও অফিসে যান। দেখেন সবাই ’৭১ সালের জমির দলিল নিয়ে এসেছে। আয়েপ দলিল না নিয়ে যেতে পারায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন। দুপুরে খাওয়া দাওয়াও করেননি। সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ বাড়িতে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন আয়েপ। পরিবারের েলাকজন তাঁকে বারাসাত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। রাতে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবারের দাবি বিজেপি সরকার যে ভাবে বাংলায় এনআরসি চালু করবে বলছে তাতেই আতঙ্কে আছে গ্রামের সবাই। সেই আতঙ্কেই আয়েপ আলির মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি।

রবিবার সকালে বাড়ির পাশের বাঁশবাগান থেকে উদ্ধার হয় কালাচাঁদ মিদ্দে (৪৩)র দেহ। দক্ষিণ শহরতলির ফলতার মামুদপুরের বাসিন্দা কালাচাঁদ ভুগছিলেন এনআরসি আতঙ্কে। পরিবার ও প্রতিবেশীদের অভিযোগ– রেশনকার্ড সংশোধন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি। তখন থেকে আতঙ্কে ভুগতে থাকেন। দেহ উদ্ধারের পর একদিকে আপশোস ও অন্যদিকে েক্ষাভ উগরে দিয়েছেন এলাকাবাসী। 
কালাচাঁদের ৩ ছেলে ও এক মেয়ে। তিনি পেশায় ছিলেন জরি শ্রমিক। অসমে এনআরসি লাগু হওয়ার পর থেকে আতঙ্কে ছিলেন কালাচাঁদ। তারপর ডিজিট্যাল রেশন কার্ড তাঁর ভয়কে আরও বাড়িয়ে দেয়। পারিবারিক সূত্রে কালাচাঁদ কিছু জমি পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই জমির দলিলের কিছু সমস্যা ছিল বলে পরিবারের দাবি। তা নিয়ে ইদানীং সরকারি অফিসে েছাটাছুটি করছিলেন তিনি। কালাচাঁদের ভাই মহসিন সেখ বলেন–‘ জমির কিছু দলিল নিয়ে ভয়ে ছিল। আসামে এনআরসি লাগু হওয়ার পর থেকে দলিল নিয়ে আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। কয়েকদিন ধরে সরকারি অফিসে েছাটাছুটি করছিল। তবে আত্মহত্যা করবে আমরা ভাবতে পারিনি। এরজন্য বিজেপি দায়ী। নেতারা যেভাবে ভয় দেখাচ্ছে তাতে এই ঘটনা ঘটেছে।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only