মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আপস নয়, লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, ম্যাগসাইসাই পুরস্কার নিয়ে বললেন রবিশ কুমার

বড় পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। তারপরও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে শুভেচ্ছা বা অভিনন্দন জানাননি। এই নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এইসব কোনও ব্যাপার নয়। বরং, পুরস্কার পাওয়ার পর তাঁর এ দিনের মন্তব্যে যে তীক্ষ্ণ শ্লেষ ছিল– তা যেন অনেকটাই মোদি সরকারকে নিশানা করে। তিনি বলেন– সাংবাদিকতা একটা যুদ্ধ। বর্তমানে যখন অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম আপসের রাস্তায় চলছে তখনও কিছু সাংবাদিক নির্ভীক ও নিরপেক্ষভাবে সাংবাদিকতা করার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। হতে পারে তাঁরা হয়তো পরাজিত হলেন। কিন্তু তাঁরা যে যুদ্ধ করেছিলেন– সেটাই বড় কথা। কেউ যে লড়ছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে– সেই বার্তা দেওয়াটাই সবথেকে বড় ব্যাপার।  
সাংবাদিকতায় অনবদ্য অবদানের জন্য রামোন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন এনডিটিভির কর্ণধার রাবিশ কুমার। ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় এই পুরস্কার দেওয়া হয় তাঁকে। পুরস্কার নেওয়ার পর রাবিশ বলেন– ‘সব যুদ্ধ জেতার জন্য লড়া হয় না। কোনও কোনও লড়াই শুধুমাত্র দুনিয়াকে এই বার্তা দেওয়ার জন্য করা হয় যে কেউ আছে– যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছে।’ তিনি আরও বলেন– ‘যেদিন রামোন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারের ঘোষণা হয়– সেদিন থেকে আমার চারপাশের পৃথিবীটা বদলে গিয়েছে। যেদিন থেকে ম্যানিলায় এসেছি– আপনাদের আতিথেয়তা আমার মন জিতে নিয়েছে। আপনাদের আতিথেয়তা আপনাদের পুরস্কারের চেয়েও বড়। আপনাদের ভালোবাসা আমায় আগের থেকে বেশি দায়িত্ববান ও বিনয়ী করে তুলেছে।’
রাবিশ কুমার বলেন– ‘ভারতের সংবাদমাধ্যম সংকটে রয়েছে। এবং এই সংকট কাঠামোগত। হঠাৎ করে এটি হয়নি। এটি এলোমেলোও নয়। সাংবাদিক হওয়া এখন ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম কর্পোরেটদের হাতে চলে গিয়েছে। এমন অনেক সাংবাদিক চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন যাঁরা আপস করতে রাজি নন। তবুও এটা দেখে ভালো লাগে যে– আজও এমন অেনক সাংবাদিক আছেন যাঁরা জীবন ও চাকরির কথা না ভেবে সাংবাদিকতা করছেন। মহিলা সাংবাদিকরাও আওয়াজ তুলছেন। এটা ভালো লক্ষণ। যখন কাশ্মীরে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হল– পুরো সংবাদমাধ্যম সরকারের সঙ্গেই চলছিল। কিন্তু এমন অনেকে ছিলেন যাঁরা সত্যিটা দেখানোর সাহস করেছিলেন। 
রাবিশ কুমার বলেন, ‘আমরা কি খবরের পবিত্রতাকে বজায় রাখতে পারব? গণতন্ত্র ততদিনই বিকশিত হতে পারে– যতদিন খবরে সত্যতা থাকবে। আমি রামোন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারকে গ্রহণ করছি এই জন্য যে– এই পুরস্কার শুধু আমি একা পাচ্ছি না। হিন্দির সমস্ত সাংবাদিক ও দর্শকরা পাচ্ছেন। যাঁদের জ্ঞানের গভীরতা বেশি। যাঁদের ভিতর শুভ চিন্তা ও শেখার খিদে অনেক গভীর। অনেক তরুণ সাংবাদিক এটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। এখন যে ধরনের সাংবাদিকতা চলছে আমার বিশ্বাস এইসব সাংবাদিকরা তাকে বদলে দিতে পারবেন। হতেই পারে– তাঁরা সেই লড়াইতে হেরে গেলেন। কিন্তু লড়াই ছাড়া অন্য পথ নেই। সব সময় শুধু জেতার জন্যই নয়– এটা বলার জন্যও লড়াই করা হয় যে– কেউ ছিলেন যিনি যুদ্ধের ময়দানে নেমেছিলেন।’ 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only