সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

‘নিজেই নিজের কবর খুঁড়ছি’

অসমের গোয়ালপাড়ার মাটিয়ায় তৈরি হচ্ছে বিশাল ডিটেনশন ক্যাম্প। সেই ক্যাম্প তৈরির কাজে যুক্তদের একজন নমিতা হাজং। নমিতার নাম এনআরসি’র চূড়ান্ত তালিকায় ওঠেনি। নমিতা একা নন– তাঁর মতো ২৫০জন ঠিকা কর্মী দিনরাত এক করে এই ক্যাম্প তৈরির কাজ করে চলেছেন যাঁদের নাম এনআরসি তালিকায় ওঠেনি। ২০২০ সালের শুরুর মধ্যে ক্যাম্প তৈরির কাজ সমাপ্ত করতে হবে। তাই হাড়ভাঙা পরিশ্রম করছেন তাঁরা। ২৯ বছরের নমিতা পশ্চিম মাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এই ডিটেনশন ক্যাম্পে তাঁকেও থাকতে হবে এই আশংকায় তটস্থ তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন– ‘যখনই এখানে আসি আতংকিত হয়ে পড়ি। ক্যাম্প তৈরির কাজ যত এগোয় বুক ধুকপুক করে। মনে হয় সময় হয়ে আসছে। এবার এখানেই ঠাঁই হতে চলেছে। আপনারা বলতেই পারেন যে– আমি আমার নিজের কবর নিজে খুঁড়ছি। কিন্তু– এছাড়া আমার আর কিবা করার আছে। আমি একজন বিধবা। আমাকে তো উপার্জন করতেই হবে আমার ৯ বছরের মেয়েকে দেখভাল করার জন্য।’ নমিতা জানান– একমাত্র তিনি বাদে তাঁর স্বামীর পরিবারের সব সদস্যর নাম এনআরসি তালিকায় উঠেছে। আতংকিত নমিতার প্রশ্ন– ‘আমায় যদি আটক করা হয়– আমার মেয়ের কি হবে?’ নমিতার মতো একই আশংকায় ভুগছেন অজন্তা হাজং– সরস্বতী হাজং– মমতা হাজং– প্রতীমা বিশ্বাসরা। তাঁরাও ওই একই গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরাও ডিটেনশন ক্যাম্পের ঠিকাকর্মী। তাঁরা আশংকিত– যে ক্যাম্পে ঠিকা কাজ করে এখন উপার্জন করছেন সেই ক্যাম্পেই তাঁদের ‘বন্দি’ থাকতে হবে আগামী দিনে। অসমের ১০০০ মানুষ ইতিমধ্যেই ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকার যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। সেন্ট্রাল জেলে আলাদা কক্ষে তাঁদের আপাতত আটক করে রাখা হয়েছে। হাজংরা মূলত ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের আদি বাসিন্দা। যাঁরা পরে অসমে এসে বসবাস শুরু করেন। ৫০জন হাজং মাটিয়ার এই ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির কাজে ঠিকাকর্মী হিসেবে যুক্ত। নমিতা জানাচ্ছেন– প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দেওয়ার পরও তাঁর নাম তালিকায় ওঠেনি। ৪০ বছরের সরস্বতী হাজং জানাচ্ছেন– তাঁর মা ও দুই বোনরে নাম এনআরসিতে উঠলেও তিনি বাদ পড়ে গিয়েছেন। তিন সন্তানের জননী প্রতীমা বলেন– ‘আমি অসমে জন্মেছি। বড় হয়েছি। কীভাবে আমি বাংলাদেশি হয়ে গেলাম? যখনই আমি ডিটেনশন ক্যাম্পের কাছে আসি আঁতকে উঠি একদিন আমাকেও এখানে পুরে দেওয়া হবে।’ 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only