শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

নিজে অক্সিজেন সিলিন্ডার জোগাড় করে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন বহু শিশুর

ডা. কাফিল খান প্রথম থেকেই বলে আসছেন--- তিনি নির্দোষ। তবু প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। অবশেষে মিথ্যার পর্দা সরে গিয়ে সত্য উন্মোচিত হল। কিন্তু যে ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছিল তাঁকে– সেদিন আসলে কী ঘটেছিল। কাফিল খানের সঙ্গে কথা বলে লিখছেন  জাইদুল হক

উত্তরপ্রদেশ সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য বলছে– শিশুমৃতু্যর হার উল্লেূজনক হতে থাকে ২০১৪ সাল থেকে। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭ জন শিশুর মৃত্যু হলেও তা অনেকটাই স্তিমিত হয় ২০১৭ সালে। এর মূলে নানা রোগ হলেও কঠিন এনকেফেলাইটিসই মূল ঘাতক। এক্ষেত্রে শিশুদেরকে অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কিন্তু বিআরডি হাসপাতালের ভাণ্ডারে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সিলিন্ডারের অভাব থেকেই যায়। শিশুদের মৃতু্যর হার বাড়তে থাকে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের শুরু থেকেই। কারণ কোনওভাবেই অক্সিজেনের জোগান দেওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু মর্মান্তিক ঘটনা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায় ১০ আগস্ট। সেদিনটিতে অক্সিজেনের অভাবে যূন ৩০ শিশুর মৃতু্য ঘটে– বিআরডি হাসপাতাল চত্বর সেদিন যেন মৃতু্যপুরীতে পরিণত হয়। একদিকে শিশুদের লাশ– অন্যদিকে আত্মীয়-পরিজনদের আহাজারি। বাবা-মায়েদের শুধু আকুল প্রার্থনা– তাঁর শিশুর জন্য যেন একটু অক্সিজেন দেওয়া হয়। এই সব শিশুদের পরিবারের প্রায় সবাই গরিব ঘরের। আদিবাসী– দলিত– মুসলিম। বেসরকারি হাসপাতালে তাঁদের শিশুকে ভর্তি করার মতো সামর্থ্য নেই। তাই একমাত্র ভরসা সরকারি হাসপাতাল। 
 ১৩ জন ডাক্তার সেদিন হাজির থাকা সত্ত্বেও শিশুমৃতু্যর সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে যাওয়ার পরে কোনও বিশেষ উদ্যোগ নেননি কেউ। যদিও ততক্ষণে খবর পৌঁছে যায় ডা. কাফিল খানের কাছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি– ওই ১০ আগস্ট কাফিল খান আগে থেকেই ক্যাজুয়াল লিভ বা ছুটি নিয়েছিলেন।  বিআরডি হাসপাতালের ডাক্তারদের মধ্যে রয়েছে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। সেই গ্রুপে ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট গভীর রাতে একটি মেসেজ পোস্ট করা হয়। তখন রাত ১২টা ৪৮। সময় অনুযায়ী তারিূ ও দিন বদলে হয়েছে শুক্রবার– ১১ আগস্ট। ওই সময় বিআরডির সিনিয়র রেসিডেন্ট ডাক্তার সতীশ চৌবে মেসেজ করেন যে– এনআইসিইউতে কোনও অক্সিজেন সরবরাহ নেই। সিলিন্ডার আউট অফ স্টক। এই বার্তা পেয়ে চুপ করে থাকতে পারেননি কাফিল খান। তন সবে তাঁর ১০ মাসের শিশুকন্যা জাবরিন খানকে নিয়ে নিদ্রা যাওয়ার তোড়জোড় শুরু। সেসময় ওই হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসে। মেসেজটি পড়েই কাফিলের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পাশেই ছিলেন স্ত্রী শাবিস্তা খান।  কাফিল ূান তাঁকে বিপদের কথা জানান। সে বিপদ তাঁর সন্তানের না হতে পারে– তাতে কী! হাসপাতালের বেডে শুয়ে অসংখ্য শিশুমৃত্যু-সংকটে ভুগছে। স্ত্রী শাবিস্তা পেশায় ডাক্তার। তাই বুঝতে অসুবিধা হয়নি কাফিল খানের মনের অবস্থা তূন কী। কাফিল খানকে দৃঢ় হওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়ে বলেন– এখনই হাসপাতালের মুমূর্ষু শিশুদের জন্য কিছু করা দরকার। দেরি না করে ওই রাতেই বেরিয়ে পড়েন কাফিল খান। হাসপাতালে গিয়ে দেূেন একের পর শিশু মৃতু্য-পথযাত্রী। অথচ ৯ আগস্ট বিআরডি হাসপাতাল পরিদর্শন করে গেছেন মু্যূমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। গোরক্ষপুর মুখ্যমন্ত্রীর নিজের শহর। তাই শিশুমৃতু্যর ঘটনা ঘটছে খবর পেয়ে তিনি এসেছিলেন। কাফিল খানের সঙ্গেও তাঁর দেখা হয়। সেই ছবিও বিআরডি হাসপাতালের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পোস্টও হয়েছে। মু্খ্যমন্ত্রীর কাছে হাসপাতালের তরফ থেকে নজরে আনা হয়েছিল যে– অক্সিজেনের অভাব। বকেয়া থাকায় অক্সিজেন সরবরাহকারী সংস্থাগুলি মুূ ফিরিয়ে নিচ্ছে। হাসপাতালের ডাক্তারদের জানানো হয়েছিল– রাজ্য সরকার কিছু টাকা রিলিজ করেছে। বাকি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। তাই অসুবিধা হবে না বুঝে একদিন ছুটির আবেদন করেন কাফিল খান। সেই দিনটিই ১০ আগস্ট। 
অবাক ব্যাপার মুখ্যমন্ত্রীর কথায় অক্সিজেন সরবরাহকারীদের মন না গলায় তারা সাপ্লাই বন্ধ করে দিয়ে আর চালু করেনি। কাফিল খান বুঝতে পারেননি যে সত্যিই অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ করে দেওয়া হবে। কারণ যেখানে মুখ্যমন্ত্রী ঘুরে গেছেন– সেখানে একটা আশ্বাস পাওয়া যায়। সেই আশ্বাসের উপর যে অক্সিজেন সরবরাহকারীরা আস্থা রাূবে না– তা ভাবতে পারেননি। ফলে বিআরডি হাসপাতালের শিশুরা ক্রমশ মৃতু্যর দিকে ঢলে পড়ে। কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। তূন কাফিল বিভাগীয় প্রধানকে ফোন করেন। এর পর একে একে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ থেকে শুরু করে মু্যূমন্ত্রীর দফতরেও ফোন করেন। কারওরই সাড়া না পাওয়ায় আধ ঘণ্টার মধ্যেই সোজা চলে যান হাসপাতালে। বিবেকের তাড়নায় তূন ছটফট করেছেন। হাসপাতালে ঢুকতেই দেূেন প্রবল হইচই আর কান্না। ৪০০টি শিশুর মধ্যে ৫৩টি শিশু তূন ভেন্টিলেটরে। জানা গেছিল– ওইদিন রাত সাড়ে সাতটার সময় অক্সিজেন ফুরিয়ে যায়। এমনকী যে ৫২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ছিল– তাও রাত সাড়ে বারোটার সময় শেষ হয়ে যায়। তাই হাসপাতালে পৌঁছেই প্রথমে অ্যাম্বু ব্যাগ ম্যানুয়ালি ব্যবহার শুরু করেন। এতে কৃত্রিম উপায়ে পাম্প করে অক্সিজেনের জোগান দেওয়া হয়। এর ব্যবহার শুধুমাত্র ডাক্তাররাই জানেন। কিন্তু অত পাওয়া মুশকিল হয়। জনা ১৬ জুনিয়ার ডাক্তার ছিল। তারা অ্যাম্বু ব্যাগ ব্যবহার করে শিশুদের বাঁচানোর চেষ্টা করে। লোকের অভাবে অনেক অভিভাবকও মুমূর্ষু শিশুদের সহায়তায় অ্যাম্বু ব্যাগ নিয়ে সাহায্যে নেমে পড়েন। কিন্তু সেসব বাচ্চারা শেষপর্যন্ত মারা যায়। তখন কাফিল খান বুঝতে পারেন এভাবে শিশুমৃত্যু ঠেকানো যাবে না। তাই বেরিয়ে পড়েন অক্সিজেনের খোঁজে। কাছাকাছি আনন্দ হাসপাতাল থেকে অক্সিজেনের সিলিন্ডার আনেন কাফিল। তারপর আশপাশের হাসপাতাল থেকে কয়েকটি সিলিন্ডার নিয়ে এলেও তাতে চাহিদা মেটেনি। তূন বেসরকারি এজেন্সিতে যেতে হয়। বালাজি গ্যাস– ময়ূর গ্যাস– মোদি গ্যাসের কাছে যান। তারা বলে– আগে পয়সা দিতে হবে– তবে মিলবে গ্যাস। তাদের ধারণা সরকারি হাসপাতালে গ্যাস দিলে সময়মতো টাকা মিলবে না। তূন কাফিল নিজের এটিএম থেকে টাকা তুলে তাদেরকে ১০ হাজার টাকা করে দেন। সেগুলিও শেষ হয়ে যায়। তূন সশস্ত্র সীমা সুরক্ষা বল-এর ডিআইজির সঙ্গে দেূা করেন। তার কাছে লিূিত আর্জি জানিয়ে অক্সিজেনের বন্দোবস্ত করা হয়। তবুও ওই মাসেই কমপক্ষে ৭০ জনের মৃতু্য হয়। 
ততক্ষণে মিডিয়া কাফিল খানকে হিরো বানিয়ে দেয়– আর যোগী সরকারকে ভিলেন তকমা দেয়। সেটাই কাফিলের জীবনে দুর্যোগ ডেকে আনে। যেসব গ্যাস এজেন্সি লাখ লাক টাকা বাকি রেূে গ্যাস সাপ্লাই দিয়েছিল– সেই টাকা তারা চাইতে শুরু করে। তা মেটানোর জন্য সরকারকে জানালেও কোনও রা কাড়ে না স্বাস্থ্য দফতর। বরং– উলটে কাফিল খানের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রী সিদ্ধার্থনাথ সিং প্রশ্ন তোলেন– কার দোষে মারা গেল ৭০ শিশু? 
 ঘটনার পর মু্যূমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন– ওই শিশু মৃতু্যর জন্য জাপানি এনকেফেলাইটিস দায়ী– অক্সিজেন সংকট দায়ী নয়। তূন বোঝাই যাচ্ছিল কাফিল খানের ত্যাগের স্বীকৃতি দিতে চাইছেন না যোগী। সন্দেহ সত্যি হয়  ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট। উত্তরপ্রদেশ সরকার প্রথমে সাসপেন্ড করে বিআরডি হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. রাজীব মিশ্রকে। যদিও তাঁকে সাসপেন্ড করা হতে পারে আঁচ পেয়ে আগেই তিনি পদত্যাগ করেন। তিনি বারবার মন্ত্রী থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশ সরকারের |র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছিলেন অক্সিজেনের অভাবের কথা। এও জানিয়েছিলেন– অক্সিজেন সরবরাহকারীরা বকেয়া না পাওয়ায় তারা আর অক্সিজেন দিতে চাইছে না। তাতে কর্ণপাত করেনি সরকার– উলটে অধ্যক্ষকেই সাসপেন্ড হতে হয়েছে। সবাই তূন বুঝে গিয়েছিল– এবার ডা. কাফিল খানের পালা। তাঁকে শুধু চাকরি থেকে সাসপেন্ড করা হয়নি– ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর অক্সিজেন সাপ্লাই নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতারও করা হয়। অথচ– তথ্য জানার অধিকার আইনে প্রকাশ্যে এসেছে– ১১ আগস্ট বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ৬টি অক্সিজেন সিলিন্ডার আনা হয়েছিল। আর কাফিল নিজের উদ্যোগে এনেছিলেন চারটি অক্সিজেন সিলিন্ডার। সেই অবদানের কোনও দাম না দিয়ে কাফিলকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় উত্তরপ্রদেশের কারাগারে। কাফিলের অভিযোগ– তাঁকে ভিলেন বানানো ও গ্রেফতারের পিছনে মূল কারিগর হলেন যোগী আদিত্যনাথের বিশ্বস্ত সঙ্গী– উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থনাথ সিং ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আশুতোষ ট্যান্ডন। 

 জেলখানার চিঠি
 জামিন না পাওয়ায়  প্রায় ৯ মাস কাটাতে হয় কারাগারে। একদিন একটি চিঠি লিখে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসা ছোট্ট মেয়ের ডায়াপারের মধ্যে পার করে তা মিডিয়ায় পাঠিয়ে দেন। সেই চিঠিটি প্রকাশ হতেই কয়েকদিনের মাথায় হাইকোর্ট তাঁকে মুক্তি দেয়। 
জেলখানা থেকে যে চিঠি লিূেছিলেন কাফিল খান তা সাড়া ফেলে দেয়। জেলে তাঁর সঙ্গে কীভাবে আচরণ করা হচ্ছে– কিংবা মু্খ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁর সঙ্গে দেখা করার পর কী মন্তব্য করেছিলেন সেসব প্রকাশ্যে চলে আসে।
 বিআরডিতে শিশুমৃত্যুর খবরে তখন দেশজুড়ে হইচই আর কাফিল খানকে ‘হিরো’ বলে অভিহিত করা চলছে মিডিয়ায়। ঠিক তার পরদিন ১৩ আগস্ট মিডিয়ার চাপে বিআরডি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তূনও কাফিল খানকে সাসপেন্ড করা হয়নি। যোগী আদিত্যনাথ হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় কাফিল খানের মুূোমুূি হয়ে পড়েন। তূন তিনি জিজ্ঞেস করেন– ‘তু কাফিল খান– তু অক্সিজেন সিলিন্ডার অ্যারেঞ্জ কিয়া থা?’ কাফিল উত্তর দেন– ‘ইয়েস স্যার।’ এ কথা শুনে রেগে তিনি রেগে যান। বলেন– ‘তু হিরো বননে কী লিয়ে সিলিন্ডার অ্যারেঞ্জ কিয়া থা? হ্যাম দেূেঙ্গে।’ কাফিল খান বুঝে যান– তাঁর পরিণতি কী হতে চলেছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর মতো ব্যক্তির এমন ব্যবহারের কথা প্রকাশ্যে আসায় নানা প্রশ্ন ওঠে। 
 জেলূানার চিঠিতে কাফিল জানান– তাঁর বাড়িতে ক্রমাগত পুলিশ নানা হুমকি দিচ্ছে। তাঁকে এনকাউন্টারে মেরে ফেলার কথা বলা হচ্ছে। পরিবার– মা– স্ত্রী– সন্তান যে কীভাবে আতঙ্কে রয়েছে– তা বোঝাবার চেষ্টা করেন। বলেছেন– কারাগারে তাঁকে রাূা হয় এমন সব কয়েদিদের সঙ্গে যারা দাগি আসামি। অথচ কাফিল খানের সরকারি পদমর্যাদা অনুযায়ী আলাদা সেলে রাূার কথা– কিন্তু সেসব মানা হয়নি। ১৫০ জন কয়েদির সঙ্গে একই সেলে রাখা হয়েছে। দিনে সেূানে হাজার হাজার মশা আর রাতে লক্ষ লক্ষ মশা। খাবারের মান খুবই খারাপ। আর বাথরুমের কথা বললে চমকে উঠতে হবে। ভাঙা দরজা। তিনি বলেছেন– বিআরডি হাসপাতালে লিকু্যইড অক্সিজেন সরবরাহ কিংবা বকেয়া মেটাতে তাঁর ভূমিকা ছিল না। এমনকী তা কেনার জন্য টেন্ডার– মেনটেন্যান্স প্রভৃতিতেও যুক্ত ছিলেন না। এর জন্য তিনি আঙুল তোলেন গোরক্ষপুর জেলাশাসক– মেডিক্যাল শিক্ষার ডিজি– স্বাস্থ্যবিভাগের প্রধান সচিব প্রমুূ সরকারি আধিকারিকদের দিকে। তিনি বলেন– বিভিন্ন গ্যাস এজেন্সি বহুবার ৬৮ লাখ টাকা বকেয়ার কথা বললেও ওই সব ব্যক্তিরা কোনও রা কাড়েননি। আবেগঘন চিঠির শেষে কাফিল লেখেন– ‘একজন সাহায্যহীন– ভেঙে পড়া বাবা/স্বামী/ভাই/পুত্র/বন্ধু ডা. কাফিল খান।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only