শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

যুদ্ধ নয়, আমরা বুদ্ধ দিয়েছি:­ মোদি

প্রধানমন্ত্রী মোদির রাষ্ট্র সংঘের ভাষণের দিকে নজর ছিল ভারত-পাকিস্তান দুই দেশেরই। তবে সংযত মোদি এ দিন পাকিস্তানের নাম নিয়ে একটি কথাও উচ্চারণ করেননি। কথা তোলেননি কাশ্মীর নিয়েও। এড়িয়ে গেছেন দু’টি নাম। এ দিন তিনি মূলত বিশ্ব শান্তি এবং ঐক্যের ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রীর ২০ মিনিটের ভাষণে ছিল কেবল শান্তি ও ঐক্যের কথা। ছিল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার কথা। তিনি বলেন– ভারত গোটা বিশ্বকে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দিচ্ছে। স্বামী বিবেকানন্দ চিকাগো (শিকাগো) ধর্মসম্মেলনে ঐক্য এবং শান্তির কথা বলেছিলেন। এ দিন তা প্রতিধ্বনিত করেন প্রধানমন্ত্রী। তুলে ধরেন মহাত্মার অহিংসার বাণীও।
রাষ্ট্র সংঘের সাধারণ সভায় ভাষণে তিনি বলেন– মানবিকতার স্বার্থে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সকলকে একজোট হতে হবে। সাধারণ সভার অধিবেশনে বিশ্বকে মনে করিয়ে মোদি বলেন– সন্ত্রাসবাদ বিরোধী মিশনে ভারতীয় শহিদদের সংখ্যা সবথেকে বেশি। মানুষের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ সন্ত্রাসবাদ। আমরা এই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বকে সজাগ করে যাব। 
তিনি বলেন– উন্নয়নই আজকের ভারতের মূলকথা। উন্নয়ন প্রকল্পে ভারত বহু দেশকে বর্তমানে পথ দেখাচ্ছে। বিশ্বকল্যাণ ভাবনা হল আমাদের মূল আধার। আজকের দিনে ভারত গোটা বিশ্বের কাছে প্রেরণাস্বর*প। ভারত এখন বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে আগের থেকে অনেক বেশি সচেতন। বিশ্ব উষ্ণায়নে ভারতের দায় খুবই কম বলেও ভাষণে অন্য দেশকে মনে করিয়ে দেন মোদি। তিনি বলেন– প্লাস্টিক মোকাবিলাতেও ভারত অভিযান শুরু করেছে। বিশ্বকে মনে করিয়ে মোদি বলেন--- মনে রাখবেন যুদ্ধ নয়– ভারত বিশ্বকে বুদ্ধ দিয়েছে। এখন ভারতে দুর্নীতি আগের থেকে কমেছে। আমাদের স্লোগান ‘সবকা সাথ সব কা বিকাশ’। আয়ুষ্মান ভারত বিশ্বকে নতুন দিশা দেখিয়েছে বলে উল্লেখ করেন মোদি। একইসঙ্গে প্রশংসা করেন স্বচ্ছ ভারতেরও। ৩০০০ বছর আগের তামিল কবির বাণী রাষ্ট্র সংঘে উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন– ‘সব জায়গায় আমাদের বাড়ি। আমরা সবার জন্য।’ আমরা যে চেষ্টা করে চলেছি– একদিন তার ফল পাবে গোটা বিশ্ব। ভারত বরাবরই রাষ্ট্র সংঘের শান্তিপ্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিল।
৭ দিনের জন্য মার্কিন সফরে রয়েছেন মোদি। এই সভার আগেই তাঁর সঙ্গে কথা হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ইমরান খানের সঙ্গেও কথা হয় মার্কিন প্রেসিডেন্টের। দুই রাষ্টÉপ্রধানকেই কাশ্মীর সমস্যা মিটিয়ে নিতে বলেন ট্রাম্প। নয়াদিল্লি অবশ্য বলে দিয়েছে– কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এখানে অন্য কারও মধ্যস্থতার কথা মানবে না ভারত। কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য হল– সচেতনভাবেই মোদি পাকিস্তান কিংবা কাশ্মীর প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছেন। এ দিন তিনি অত্যন্ত সংযত ভাষায় ভাষণ দিয়েছেন। কাউকে আলাদা করে নিশানা না করলেও ভারতের পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিয়েছেন ২০ মিনিটের ভাষণেই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only