বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

‘ইসলামোফোবিক’ সদস্যকে বহিষ্কার সুইডেনের বামপন্থী দল থেকে

‘ইসলামোফোবিয়া’ (সরলার্থে ইসলাম-ভীতি) শব্দটি এখন ভয়ংকর এক পর্যায়ে চলে গেছে। সারা বিশ্বেই ইসলাম-কাতরতাকে কাজে লাগিয়ে নানা অপকর্ম সাধন করার চেষ্টা হচ্ছে। সুইডেনের এমনই একজন ইসলামোফোবিক রাজনীতিবিদ হলেন আমিনেহ কাকাবাভেহ। ইসলামের প্রতি এই বিশেষ মনোভাবের জন্য এবার তাঁকে বহিষ্কার করল তাঁর দল। সুইডেনের একটি বাম দলের সদস্য ছিলেন তিনি। দলের নীতির সঙ্গে তাঁর ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি একদমই সংঘর্ষশীল– তাই তাঁকে বহিষ্কার করা হল বলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলটির সাধারণ সম্পাদক অ্যারন এতলার জানিয়েছেন। তাঁর মতে– আমিনেহর কাজকারবার দলের আত্মবিশ্বাসের ক্ষতি করছে। তিনি নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে জাতিবিদ্বেষীদের পোস্টকৃত ইসলাম সম্পর্কে নানা ভুল ধারণা– বিদ্বেষমূলক পোস্ট ছড়াচ্ছিলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় চিহ্নমুক্ত হোক– এ ব্যাপারেও তিনি বারবার সওয়াল করে আসছিলেন। 
আমিনেহ হচ্ছেন জন্মসূত্রে ইরানিয়ানিয়ান কুর্দিশ জনগোষ্ঠীর মহিলা। কুর্দিশদের নানা সহিংস কাজের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। জড়িত ছিলেন পিকেকের সঙ্গে।  কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে তুরস্কে সন্ত্রাস ছড়িয়ে চলেছে। এটি তুরস্ক– আমেরিকা– ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সন্ত্রাসী দলের তালিকায় রয়েছে। সেই দলটির উপর থেকে সন্ত্রাসী তকমা তুলে নেওয়ার জন্যও তিনি বেশ কয়েকবার সংসদে প্রস্তাব পেশ করেছিলেন।

নব্বইয়ের দশকে তিনি সুইডেনে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ২০০৮ থেকে দেশটির পার্লামেন্টের সদস্য।  কাকাবাভেহ ২০১৬ সালে একটি ভুয়ো ইসলামোফোবিক ভিডিয়ো শেয়ার করেন। সেই ভিডিযোটি আবার ২০১৪তে নরওয়ের একটি জাতিবিদ্বেষী গোষ্ঠী ইন্টারনেটে আপলোড করেছিল।  
ইতিপূর্বে তাঁর ইসলামোফোবিক কাজকর্মের জন্য দলের তরফ থেকে সাবধানবাণী পেয়েছিলেন। দল থেকে বরখাস্তও করা হয়েছিল এক মাসের জন্য। কিন্তু– তিনি ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধ করতে পারেননি। তার ফলে অবশেষে এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল সুইডেনের বাম দলটি। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only