বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

এনআরসি ইস্যুতে মমতার পাশে বাম-কংগ্রেস

এনআরসি ইস্যুতে বিধানসভায় প্রস্তাব আনছে তৃণমূল। একযোগে এই প্রস্তাবে সমর্থন করেছে বিরোধী বাম ও কংগ্রেস। এনআরসির মাধ্যমে ভারতীয়দের বিদেশি বলে চিহ্নিত করার প্রয়াস চলছে। তাই এনআরসিকে সমর্থন নয়। বুধবার এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আলোচনার জন্য পেশ করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। একইভাবেই বাম ও কংগ্রেসের তরফে যৌথভাবে আর একটি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। এই প্রস্তাবে– বাংলায় এনআরসির বিরোধিতা করা হয়েছে। দু’টি প্রস্তাব মিলিতভাবে আগামী শুক্রবার বিধানসভায় আলোচনা হবে। এ দিন কার্য উপদেষ্টা কমিটি (বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি)-র বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই বৈঠকে প্রত্যাশামতোই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে বিজেপি। 
উল্লেখ্য– সোমবারই বিধানসভাতে এই দাবি তুলেছিলেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। সেদিন তিনি বলেছিলেন– অসমে নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এ রাজ্যের মানুষের মধ্যেও ভয়ের আবহ তৈরি হয়েছে। রাজ্যবাসী শঙ্কিত। এই অবস্থায় ‘নো এনআরসি টু বেঙ্গল’ এই মর্মে একটা আলোচনা হোক। কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মিত্র দাবি করেন– অসমে এনআরসি পরবর্তী পরিস্থিতিতে সকলকে একসঙ্গে এর বিরোধিতা করতে হবে। অন্যদিকে– রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন– গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তিনি কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে তুলবেন। সেইমতো এ দিন নাগরিকপঞ্জি নিয়ে আলোচনার বিষয়টি বিএ কমিটিতে ওঠে। সেখানে ঠিক হয়– পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকপঞ্জি বিরোধিতা করে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সরকারিভাবে প্রস্তাব আনা হবে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এ দিন এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন– এনআরসির মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকদের বিদেশি বানানোর চক্রান্ত করা হচ্ছে। ভারতীয় নাগরিকদের তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাঁদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেই এই আলোচনা হবে। অন্যদিকে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন– বিজেপি ঘোষণা করেছে ক্ষমতায় আসলেই তাঁরা বাংলায় এনআরসি করবে। কিন্তু তাঁদের লক্ষ্য একটা নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষ। ধর্মের কারণে কাউকে দেশছাড়া হতে হলে তা হবে চরম দুঃখের। তাঁদের এই লক্ষ্যে এনআরসিকে ব্যবহারের চেষ্টা হচ্ছে। তাই আমরা বাংলায় এনআরসি চাই না। 
প্রসঙ্গত– বিগত লোকসভা ভোটের প্রচারপর্ব থেকেই এনআরসি-র বিরোধিতা করে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে একাধিক সভায় সুরও চড়িয়েছিলেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে– পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। পাশাপাশি অসমে চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জির তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর এবং তা থেকে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন– অসমের পর নাকি পশ্চিমবঙ্গেও নাগরিকপঞ্জি করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাই আগেভাগেই  বিরোধিতা শুরু করল শাসকদল। এক্ষেত্রে অবশ্য শাসক দলের পাশেই থাকছে বাম ও কংগ্রেসও। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only