রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

এলাকা দখলের লড়াইয়ে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র পাঁড়ুই

দেবশ্রী মজুমদার, পাঁড়ুই

এলাকা দখলের লড়াইয়ে বিজেপি-তৃণমূল রাজনৈতিক সংঘর্ষ। অকুস্থল সাত্তোর। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে কমব্যাট ফোর্স। শনিবার রাত থেকে রবিবার বেলা দুপুর বারোটা পর্যন্ত চলে ব্যাপক বোমাবাজি। ঘটনাস্থলে বীরভূম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবিমল পাল কম ব্যাট ফোর্স নিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলেন। ঘটনা স্থল থেকে সাত্তোর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সেখ কুরবাস সহ পুলিশ আট জনকে আটক  করেছে। ফের রাতে হামলার আশংকায় এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিশ।

জানা গেছে,  এলাকায় বিজেপি উত্থানের নায়ক সদাই সেখ তৃণমূলে যোগাদানের পর সামাদ সেখের ঘাড়ে বিজেপির দায়িত্ব পড়ে। বিজেপির রাজ্য সংখ্যালঘু নেতা ছিলেন তিনি। তিনিও বর্তমানে জেল হেফাজতে। এই সুযোগে সাত্তোর অঞ্চলের বিজেপি প্রভাবিত বেলুটি গ্রামে তৃণমূল সমর্থক ঘরছাড়ারা ফেরার উদ্যোগ নিতেই ফের বিজেপি তৃণমূল সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। শনিবার বোলপুরে বিজেপির মিটিং ছিল।  অভিযোগ, বোলপুর থেকে ফেরার পথে  সবুর সেখ, সেখ ফিরোজ সহ বেশ কয়েকজনের উপর হামলা চালায় তৃণমূল সমর্থক সেখ মিলন, হাফিজুল সেখ, ইয়াসিন সেখ, লালচাঁদ সেখ। এই ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়ায়। দুই পক্ষে রাত থেকে বোমা বাজি শুরু হয়। সেখ মিলনের বাড়িতে বিজেপি সমর্থকেরা আগুন লাগায় বলে অভিযোগ। জানা গেছে, বেলুটির বাসিন্দা মিলন সেখ সপরিবারে দীর্ঘদিন ধরে ঘরছাড়া। ঘরে ঢুকতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এদিন তাদের ঘরে আগুন লাগানো হয়।  যদিও বিজেপি নেতা শিমুলিয়া পলসার বাসিন্দা ফিরোজ সেখের দাবি, তৃণমূল সমর্থক  মিলন সেখ এলাকায়  ঢুকলেই অশান্তি করে। এদিন মিলন সেখ  শিমুলিয়ায় বিজেপি সমর্থক সেখ মঙ্গলের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। সেটা ঢাকার জন্য মিলন নিজের বাড়িতে নিজেই আগুন লাগিয়েছে। এলাকায় গুলি বোমা ছুড়েছে।  তাদের নেতৃত্ব দিয়েছে  সাত্তোর উপপ্রধান সেখ কুরবান ও পঞ্চায়েত কর্মী। ফিরোজ সেখ জানান, রবিবার সকালে বিজেপি সমর্থক লালচাঁদ সেখ তার শ্বশুর বাড়ি ভেড়ামাড়ি যায় মাংস কিনতে। সেখানে তাকে তৃণমূল সমর্থকেরা মারধর করে। তার নাক-কান দিয়ে রক্ত বের হয়। বর্তমানে সে বোলপুর সিয়ান হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

উল্লেখ্য, বেলুটি,শিমুলিয়া, পলসা শিমুলিয়া, মৌলারা বিজেপি প্রভাবিত। অন্যদিকে ভেড়ামাড়ি তৃণমূল প্রভাবিত। সাত্তোর অঞ্চলের তৃণমূল নেতা সেখ মোস্তফা বলেন, এলাকায় বিজেপি ঘরছাড়া তৃণমূল সমর্থকদের ঢুকতে দিচ্ছে না। পুলিশ সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতা ফিরোজ সেখ বলেন, আমরা প্রতিরোধ করে তৃণমূল  দুষ্কৃতীদের   তাড়াতে চাইছি। কারণ তারা গ্রামে অশান্তি বাধায়। পুলিশ তাদের নিয়ে আমাদের উপর গুলি ছুঁড়ছে। আমাদের উপর যদি তৃণমূল বোমা ছোঁড়ে , আমরা নিশ্চয় ফুল ছুঁড়বো না!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only