বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আল-সিসির পাশে বসতে আপত্তি, ট্রাম্পের মধ্যাহ্নভোজ বয়কট করলেন এরদোগান

মঙ্গলবার রাষ্ট্রসংঘের বার্ষিক অধিবেশনের ফাঁকে মধ্যাহ্নভোজের আসর বসান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে। কিন্তু সহকারীরা তাঁকে জানান, মিশরের স্বৈরশাসক জেনারেল আল-সিসির পাশে আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা জানতে পেরে ট্রাম্পের মধ্যাহ্নভোজ বয়কট করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট জানিয়ে দেন, আল-সিসির মতো খুনির পাশে বসা সম্ভব নয়। আল-সিসিকে বাদ দিয়ে হলে কোনও আপত্তি নেই। সম্প্রতি ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে আল-সিসির সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠকে মিলিত হওয়ার আগে ট্রাম্প জিজ্ঞাসা করেন– ‘কোথায় গেলেন আমার ফেভারিট একনায়ক আল-সিসি’? সুতরাং এরদোগানই শুধু নয়– ট্রাম্পও আল-সিসিকে একনায়ক বলেই মনে করেন।

গতবছরও রাষ্ট্র সংঘের বার্ষিক সম্মেলনে গিয়ে একই অবস্থায় পড়েন এরদোগান। সেবার তিনি ট্রাম্পকে বলেছিলেন– স্বৈরশাসক ও গণতন্ত্রের হত্যাকারী আল-সিসি এবং এরদোগান এক টেবিলে বসতে পারে না। কারণ মুসলিম ব্রাদারহুডের কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর রক্তে রাঙা আল-সিসির হাত। তাই গণহত্যাকারী আল-সিসির পাশে গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট এরদোগান বসতে পারে না। এবারের পরিস্থিতি আরও জটিল। কারণ গত ১৭ জুন মিশরের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসির বিয়োগান্তক পরিণতি হয়। এজলাস চলাকালে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হার্ট অ্যাটাকে ইন্তেকাল করেন মুরসি। এরদোগান বলেন– আমার প্রাণের চেয়েও প্রিয় ছিলেন মুরসি। আমার ভাই মুরসির স্বাভাবিক মৃতু্য হয়নি– তাঁকে হত্যা করেছে মিশরের সামরিক জান্তা সরকার। আন্তর্জাতিক তদন্তও দাবি করেন এরদোগান। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর পিতৃশোকে আচমকা রহস্যজনকভাবে মৃতু্য হয় মুরসির ছোটছেলে আবদুল্লাহর (২৪)। পিতা-পুত্রের জোড়া ইন্তেকালের ঘটনায় এরদোগানের রক্ত এমনিতেই গরম হয়ে রয়েছে। দু’জনের হত্যার জন্যই আল-সিসিকে দায়ী করে এরদোগান বলেন– আমি জিন্দেগিভর এই শোক ভুলতে পারব না। পাশাপাশি জামাল খাশোগি প্রসঙ্গেও একই কথা বলেন তিনি। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only