শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীরের অবস্থা বোঝালেন­ ইমরান


ভারত কাশ্মীরে রক্তগঙ্গা বওয়ানোর পরিকল্পনা করছে। রাষ্ট্র সংঘের সাধারণ সভায় মন্তব্য করলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষণের ঠিক পরেই রাষ্ট্র সংঘের ৭৪তম অধিবেশনে ভাষণ দেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ভাষণের শুরুতেই তিনি বলেন– বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি নিজেকে গর্বিত মনে করছেন। ‘অত্যন্ত জরুরি’ বিষয়ে কথা বলার জন্যই তাঁকে রাষ্ট্র সংঘে আসতে হয়েছে। ‘মানুষ বিপর্যয়ে দিন কাটাচ্ছে।’ প্রথমে তিনি কথা তোলেন জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে। ইমরান বলেন– বহু নেতাই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন। আমার মনে হয়– তাঁরা বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন না। সে কারণেই পরিবর্তন হচ্ছে না অবস্থার। সম্ভবত যাঁরা অনেক কিছু করতে পারতেন– তাঁরা এটিকে আদৌ গুরুত্বই দিচ্ছেন না। বহুজনের আইডিয়া আছে। কিন্তু অর্থ না থাকলে সবই বেকার।
কোনও কাগজ দেখে ভাষণ দেননি ইমরান। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বে যে দশটি দেশ সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে– পাকিস্তান তাদের একটি। আমাদের নদীগুলি হিমবাহের জলে পুষ্ট। সেই হিমবাহগুলিও ভারতের। কোনওটা হিমালয়ে– কোনটা কারাকোরাম কিংবা হিন্দুকুশে। যদি জলবায়ু পরিবর্তনে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হয়– তাহলে মানবজাতির বিপর্যয় রোখা কঠিন। আমি ক্ষমতায় এসে পাকিস্তানে গাছ লাগিয়েছি ১০ বিলিয়ন। কিন্তু একা একটা দেশ এই অবস্থার মোকাবিলা করতে পারে না। মানি লন্ডারিং উন্নয়নশীল দেশগুলিতে আরও একটা সমস্যা। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ডলার গরিব দেশগুলি থেকে চলে যাচ্ছে পশ্চিমি দেশগুলিতে। আমাদের কষ্টের টাকা তারা কাজে লাগাচ্ছে। ফলে টাকার অভাবে মানুষের জন্য কাজ করতে পারছি না। আমরা কেবল আইনজীবীদের পিছনে বিপুল টাকা খরচ করতে পারব না। এরজন্য পশ্চিমি দেশগুলির সাহায্য লাগবে। তাদের সাহায্য ছাড়া এটা সফল হবে না। এর ফলে গরিব দেশগুলো আরও গরিব থেকে যাচ্ছে। ধনী দেশগুলো আরও ধনী হচ্ছে।
‘ইসলামোফোবিয়া দিয়ে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে’। মন্তব্য পাক প্রধানমন্ত্রীর। তিনি বলেন--- এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে– যাতে হিজাবকে অস্ত্র হিসাবে দেখানো হচ্ছে। একজন মহিলা তাঁর বসন খুলে ফেলতে পারেন– কিন্তু অতিরিক্ত বসন পরতে পারেন না--- এমন মানসিকতা তৈরি করা হয়েছে। ৯/১১-র পর এমন অবস্থা তৈরি করেছেন কিছু পশ্চিমি নেতা। তাঁরা সন্ত্রাস এবং ইসলামকে সমান্তরাল করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। অযথা র্‘যাডিক্যাল ইসলাম’ বলে একটা শ· তৈরি করা হয়েছে। মনে রাখতে হবে এমন শ· হয় না। সবটাই ইসলাম। নিউ ইয়র্কের একজন মানুষ কীভাবে মৌলবাদী মুসলিম এবং উদার মুসলিমের মধ্যে ফারাক করবেন? প্রশ্ন ইমরানের। কিছু নেতার তৈরি করা এই ইসলাম আতঙ্ক মুসলিমদের যন্ত্রণার কারণ হয়েছে।
ইমরান বলেন– বিশ্বের সব ধর্মের মূল কথা হল ইনসাফ এবং ক্ষমা। সব মুসলিম নেতৃত্বই  উদার। আমরা তাই একটা নতুন শ·বন্ধ তৈরি করেছি। যার নাম ইনলাইটেন্ড মর্ডারেশন (আলোকিত উদারতা)।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only