শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সম্মিলিতভাবে এনআরসি’র চক্রান্ত রুখে দেওয়ার আহ্বান

এনআরসি, এনপিআর এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরোধিতায় শনিবার সোচ্চার হল বিশিষ্ট মহল। কলকাতার অ্যাকাডেমি অব ফাইন আটর্স সভাঘরে বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম এক আলোচনা চক্রের আয়োজন করেছিল। 
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এ রাজ্যে এনআরসি হবে না। সেই কথা ফের স্মরণ করিয়ে দেন পুবের কলম-এর সম্পাদক সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান। 

এদিনের আলোচনা চক্রে তিনি বলেন, এ রাজ্যে এনআরসি হবে না। ব্রিটিশ আমল থেকেই অসমের মানুষদের নিয়ে চক্রান্ত হয়েছে।নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা এখন চিন্তায়। তাই মুসলিমদের তাড়িয়ে দেওয়ার ভাবনা শুরু করেছেন। ভারতীয় নাগরিকদের পার্থক্য করা যাবে না– সে কথাও সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে। আমাদের দাবি– নাগরিত্ব আইন মানতে হবে। নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যেতে হবে। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করতে হবে। 

দিনের আলোচনা চক্রে প্রাক্তন সাংসদ সিপিএম নেতা মুহাম্মদ সেলিম বলেন, এ দেশে সব ধর্মের মানুষের ঐক্য রয়েছে। সেই ঐক্য ভেঙে বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে দেশের বর্তমান শাসক দল। এনআরসির আতঙ্কে এ পর্যন্ত রাজ্যের ১৯ জন আত্মহত্যা করেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন– হিন্দুদের নয়– মুসলিমদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। অসমে এনআরসির মূল কারণ অসম থেকে বাঙালি খেদাও। একই সঙ্গে ছিল ভাষা আন্দোলনও। বাঙালি ভাগ হয়নি।  ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাকে  ফের ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে। এই রাজনীতিকে রুখতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 

 এনআরসি বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রসেনজিত বসুর বক্তব্য– নেপালের বহু মানুষ দার্জিলিংয়ে বসবাস করছে। পাঞ্জাবেও বহু মানুষ দেশ ভাগের আগে থেকেই এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে। সেই সব রাজ্যগুলিকে বাদ দিয়ে এূন বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের বসবাসের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। 
দেশের মানুষের হয়রানি ও আতঙ্কের কথা স্মরণ করিয়ে অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র বলেন–  ভোটার নাম সংশোধন ইভিপি’র নামে যা করা হচ্ছে– তাতে দেশের মানু¡ও আতঙ্কিত। দেশের সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাজার গরম করতে চাইছে। 
 শিক্ষাবিদ আনন্দদেব মুখোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন– হিন্দু ধর্মে সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের কথা উল্লেখ আছে। হিন্দু– মুসলিম– শিখ– জৈন– খ্রিষ্টান--- আমরা সকলেই ভারতবাসী। কেন আমরা ফের প্রমাণ দেব আমরা ভারতীয়? 

 সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামানও বলেন, এনআরসি বিরোধী আন্দোলন হবে। এই নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষদের সঙ্গে একজোটে কর্মসূচীও শুরু হয়েছে। আইনি পরামর্শের পাশাপাশি আন্দোলনের মাধ্যমেই মানুষকে হয়রানি বন্ধ করার বার্তা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। 

এদিনের আলোচনা চক্রে অন্যান্য বিশিষ্টদের মধ্যে বক্তব্য রাূেন বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরামের সভাপতি ইসরারুল হক মন্ডল– শিক্ষাবিদ মীরাতুন নাহার– মুহাম্মদ ইয়াহিয়া– প্রাক্তন বিধায়ক সইদুল হক– প্রাক্তন সাংসদ বদরোদ্দজা খান– আইনজীবী শবনম সুলতানা প্রমুখ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only