রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

মুসল্লী নেই, হিন্দুরাই পেনড্রাইভে আযান চালান মসজিদে!

বিহারের এক ছোট্ট গ্রাম। সেখানেই অতি যত্নে লালিত পালিত হয়ে আসছে সম্প্রীতি। এখানে হিন্দু-মুসলিমে  প্রাণের টান অতলস্পর্শী। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ– বজরং দল থেকে  শুরু করে একাধিক কট্টর হিন্দত্ববাদী সংগঠন যখন মসজিদে আযান নিষিদ্ধ করতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে– তখন বিহারের এই গ্রাম ব্যতিক্রম। মসজিদের আযান চালু রাখতে এখানে মুসলিমদের সঙ্গে সমানে সহযোগিতা করে চলেছে হিন্দুরা। মসজিদ থেকে যখন মাগরিব ও এশারের আযান ভেঁসে আসে তখন কে বলবে তার নেপথ্যে রয়েছে হিন্দুরাই। তারাই পেনড্রাইভ নিয়ে নির্ধারিত সময়ে মসজিদে হাজির হয়ে যায় আযানের জন্য। পেনড্রাইভের মাধ্যমেই বাজানো হয় আযান। শুধু আযান দেওয়াই নয়– মসজিদ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা থেকে শুরু করে রং করা সবেতেই অগ্রণী ভূমিকায় হিন্দুরাই। 
বিহারের নালন্দার ছোট্ট একটি গ্রাম মারির। গ্রাম আয়তনে খুব ছোট্ট হলেও ধর্মীয় উদারতায় যে সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছে তা বলাইবাহুল্য। দিনের পর দিন এই গ্রামে মুসলিমদের জনসংখ্যা ক্রমশঃ কমছে। চাকরির সন্ধান থেকে শুরু করে কর্মসূত্রে অনেকেই এই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দিয়েছে। ফলে এই গ্রামে দিনে দিনে তলানিতে এসে ঠেকছে মুসলিমদের সংখ্যা। একটা সময়ে এমন আসে যে– মসজিদের দেখভাল করার মতো লোকই খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। নিয়ম করে পাঁচ ওয়াক্তে আযান দেওয়াও সম্ভব হয়ে ওঠে না। এই পরিস্থিতি এগিয়ে আসে গ্রামের হিন্দুরাই। তারা আযানের ধ্বনি কম্পিউটারের মাধ্যমে পেনড্রাইভে লোড করে নেয়। তারপর মগরিব ও এশারের ওয়াক্তে সেই পেনড্রাইভ নিয়ে চলে যায় মসজিদে। সেটাই সিডি মেশিন মারফৎ চালিয়ে দেয় তারা। মাইকে আযানের পবিত্র ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে। দিনের তিন ওয়াক্তে মুসলিমরা আর রাতের দু’ওয়াক্তে হিন্দুরা আযানে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। শুধু আযান দেওয়াই নয়– মুসলিমদের সঙ্গে হাতে হাত রেখে হিন্দুরা মসজিদের দেখভালের যাবতীয় দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। দেওয়াল রং করা থেকে শুরু করে রোজ মসজিদ চত্বর পরিষ্কার সবেতেই নজরকাড়া ভূমিকায় গ্রামের হিন্দুরা। এই প্রসঙ্গে প্রফুল্ল কুমার নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান– সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ‘স্বর্গ’ বলে যদি কিছু থেকে থাকে তা এই মারির গ্রাম। এখানে ধর্মীয় বিদ্বেষ বলে কিছু নেই। হিন্দু-মুসলিমে কোনও ভেদ নেই। এখানে সবাই সবার প্রয়োজনে পাশে এসে দাঁড়ায়। আমাদের সন্তানদেরও শেখাই সম্প্রীতির এই পরিবেশ বজায় রাখার জন্য। বলাবাহুল্য– দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষের পরিবেষের মধ্যে বিহারের এই এক টুকরো গ্রাম নীরবে ইতিহাস লিখে চলেছে। যা সম্প্রীতির হরফে সমৃদ্ধ।  উল্লেখ্য– কিছু দিন আগেই লুধিয়ানাতেও এমন এক ঘটনা সামনে এসেছিল। যেখানে এক মসজিদের দেখভালের সমস্ত দায়িত্বই হিন্দুদের হাতে। দেশভাগের সময়েই লুধিয়ানার হেডন বেটের মুসলিমরা দেশ ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু দেশে থেকে যায় ওই মসজিদটি। হিন্দুরাই দায়িত্ব নিয়ে সেই মসজিদের দেখভাল করতেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only