শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সাংসদ আহমদ হাসান ইমরানকে শিক্ষা-দরদী সম্মান প্রদান রহমতে আলম মিশনের


আসিফ রেজা আনসারী­ 

শনিবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উত্তর ২৪ পরগনার বেড়াচাঁপার রহমতে আলম মিশন সাংসদ ও পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরানকে শিক্ষাদরদি সম্মাননা প্রদান করে। পাশাপাশি বিশিষ্ট শিক্ষক ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ একেএম ফারহাদকেও সংবর্ধিত করা হয় এদিন। ওই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– মিশনের পরিচালন সমিতির সম্পাদক আনিসুর রহমান– মাওলানা রুহুল আমিন– কোষাধ্যক্ষ এম. আমিরুল আম্বিয়া– জাকির হোসেন দফাদার– আলহাজ্ব আয়ুব আলি– আব্দুল লতিফ– আলি গাজি প্রমুখ।


মিশনের পক্ষ থেকে এদিন সাংসদ ও পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরানকে শিক্ষাদরদী সম্মাননা স্মারক তুলে দেন মিশনের সম্পাদক আনিসুর রহমান। প্রারম্ভিক ভাষণে মিশনের কোষাধ্যাক্ষ আমিনুল আম্বিয়া বাংলা সংবাদপত্রের জগতে আহমদ হাসান ইমরানের অবদান ও মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব সর্ম্পকে বলেন, লক্ষ্যে স্থির থাকলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়– তা পরতে পরতে প্রমাণ করেছেন ইমরান সাহেব। তিনি বলেন, আহমদ হাসান ইমরান ‘দেশকাল’ নামে একটি দৈনিক কাগজের নমুনা সংখ্যা প্রকাশ করে স্বপ্ন দেখেছিলেন– আজ সেই স্বপ্নই বাস্তবতা পেয়েছে।  শুধু মুসলিম সমাজই নয়– পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত সমাজের মুখের ভাষা হিসাবে পুবের কলম জায়গা করে নিয়েছে।

এদিন আহমদ হাসান ইমরান মিশনের পড়ুয়াদের উদ্দেশে বলেন, আমরা দুনিয়াতে যেমন ভালো মানুষ হবো– তেমনি আখেরাতেও জান্নাত চাই। তার জন্য সৎ চরিত্রবান ও ঈমানদার হতে হবে। ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কেও তিনি আলোকপাত করেন। ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন– জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলিমদের অবদান ও ইতিহাস-ঐতিহ্যর কথা জানা দরকার। আমাদের মুসলিম বিজ্ঞানীরা সমস্ত বিজ্ঞানের ভিত্তি রচনা করেছিলেন। ইসলাম ধর্ম কখনই বিজ্ঞানের বিরোধিতা করেনি। এখানেই তিনি ধর্মের বিরুদ্ধে গিয়ে কোপারনিকাসের পরিণতির কথা তুলে ধরেন। মেয়েদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন– ইসলাম ধর্মেই প্রথম নারীকে মর্যাদা দিয়েছে। তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন– রহমতে আলম মিশন মেয়েরা শিক্ষিত হয়ে দেশকে পথ দেখাবে।
প্রসঙ্গত– ২০০৫ সালে উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার বেড়াচাঁপায়  মুসলিম ছেলেমেয়েদের আধুনিক শিক্ষার ও ইসলামী পরিমন্ডলে আদর্শ মানুষ তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন মরহুম আলহাজ্ব  সিরাজুল ইসলাম। দান করেছিলেন ২৪ বিঘা জমি। সেখানেই গড়ে উঠেছে বালক ও বালিকাদের জন্য পৃথক দুটি ক্যাম্পাস। প্রায় চোদ্দশো ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করে। মাত্র কয়েক বছরেই চারজন বিসিএসে সফল সহ বহু পডYয়া ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সফল। আনিসুর রহমান বলেন– মুসলিমদের নামের পেছনে পিছিয়ে পড়ার যে ট্যাগ লেগে আছে তা দূরীভূত করতেই হবে। তার জন্য আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। নিয়মিত নামাজ পাঠের পাশাপাশি সাংস্কূতিক চর্চাও মিশনের অনন্যতা বলছিলেন শিক্ষক রতন বোস। এ দিনের অনুষ্ঠানে সম্প্রীতি উপর স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন এস.কে . সাইফুদ্দিন। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুহানা ও সুফিয়া সুলতানার কন্ঠে ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only